ঢাকা ০৪:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo লালবাগ কেল্লা: ছুটির দিনে হারিয়ে যান মুঘল ইতিহাসের অসমাপ্ত দুর্গে Logo দুর্নীতিমুক্ত আদালত গঠনে প্রধান বিচারপতিকে এক মাসের আল্টিমেটাম Logo ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধের নির্দেশ হাইকোর্টের Logo রিট খারিজ, ছবি ছাড়া করা যাবে না জাতীয় পরিচয়পত্র Logo যুদ্ধাপরাধে মৃত্যুদণ্ড: আবুল কালাম আযাদের আপিল শুনানি ৪ সপ্তাহ মুলতবি Logo ব্যবসায়ীদের মতামত নিয়েই কোম্পানি আইন সংশোধন: বাণিজ্যমন্ত্রী Logo বাংলাভাষী মুসলিম নারীকে বাংলাদেশে পুশব্যাক:আসাম সরকারকে ২ লাখ রুপি জরিমানা Logo পাস হলো মানবাধিকার কমিশন ও গুম প্রতিকার বিল Logo সন্তানকে দানের পরও সম্পত্তিতে বাবা-মায়ের ভোগাধিকার, আইন পাস Logo বিজেএস পরীক্ষার প্রস্তুতি: সফলতার পূর্ণাঙ্গ ও ব্যবহারিক নির্দেশিকা

ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক হলে আতঙ্কিত না হয়ে যা করবেন

সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখলেন, একের পর এক বন্ধু ফোন করছে-তুমি কি আমার কাছে টাকা চেয়েছো? ফেসবুকে ঢুকতে গিয়ে দেখা গেল পাসওয়ার্ড কাজ করছে না। এরপর ই-মেইল খুলে আরও বড় ধাক্কা-অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত ফোন নম্বর ও ই-মেইল ঠিকানাও বদলে গেছে।

এমন পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে মাথা ঠান্ডা রাখা জরুরি। কারণ অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার পর প্রথম কয়েক ঘণ্টায় নেওয়া সঠিক পদক্ষেপই নির্ধারণ করে দেয়,অ্যাকাউন্টটি ফিরে পাবেন কি না এবং হ্যাকার আপনার কতটা ক্ষতি করতে পারবে।

আগে বুঝুন, অ্যাকাউন্টটি সত্যিই হ্যাক হয়েছে কি না

ফেসবুকে ঢুকতে না পারলেই যে অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছে, এমন নয়। পাসওয়ার্ড ভুলে যাওয়া, নিরাপত্তাজনিত কারণে অ্যাকাউন্টে সাময়িক সীমাবদ্ধতা বা অন্য কোনো প্রযুক্তিগত সমস্যাও হতে পারে।

তবে আপনি যদি দেখেন-পাসওয়ার্ড বদলে গেছে, অচেনা ই-মেইল বা ফোন নম্বর যুক্ত হয়েছে, আপনার অজান্তে পোস্ট বা মেসেজ পাঠানো হচ্ছে কিংবা পরিচিতদের কাছে টাকা চাওয়া হচ্ছে- তাহলে অ্যাকাউন্টটি আপস বা হ্যাক হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমন হলে-

সঙ্গে সঙ্গে পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন

নতুন এমন পাসওয়ার্ড দিন, যা আগে অন্য কোনো অ্যাকাউন্টে ব্যবহার করেননি। একই পাসওয়ার্ড ফেসবুক, ই-মেইল ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টে ব্যবহার করা নিরাপদ নয়।

অপরিচিত ডিভাইস থেকে লগআউট করুন

অ্যাকাউন্টের লগইন সেশন পরীক্ষা করে অচেনা মোবাইল, কম্পিউটার বা লোকেশন থেকে চালু থাকা সেশন বন্ধ করুন। এতে হ্যাকার আবার অ্যাকাউন্টে ঢোকার সুযোগ কমবে।

টুফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (2FA) চালু করুন

পাসওয়ার্ড জানলেও যাতে দ্বিতীয় একটি নিরাপত্তা ধাপ ছাড়া কেউ অ্যাকাউন্টে ঢুকতে না পারে, সে জন্য 2FA চালু করুন।

মেইল ফোন নম্বর যাচাই করুন

অ্যাকাউন্টে আপনার নিজের ই-মেইল ও ফোন নম্বর রয়েছে কি না দেখে নিন। অপরিচিত কোনো তথ্য থাকলে তা সরিয়ে নিরাপত্তা সেটিংস পুনরায় পরীক্ষা করুন।

বন্ধুদের সতর্ক করুন

হ্যাকার আপনার অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে টাকা চাইলে বা কোনো সন্দেহজনক লিংক পাঠালে দ্রুত বন্ধু ও পরিচিতদের জানিয়ে দিন-আপনার অ্যাকাউন্টে সমস্যা হয়েছে এবং কেউ যেন টাকা না পাঠায় বা কোনো লিংকে ক্লিক না করে।

ফেসবুকএর নিজস্ব রিকভারি ব্যবস্থা ব্যবহার করুন

যদি পাসওয়ার্ডের পাশাপাশি ই-মেইল ও ফোন নম্বরও বদলে দেওয়া হয়, তাহলে ফেসবুকের অফিসিয়াল অ্যাকাউন্ট রিকভারি পেজ facebook.com/hacked ব্যবহার করুন। সম্ভব হলে আগে যে মোবাইল বা কম্পিউটার থেকে নিয়মিত অ্যাকাউন্টে লগইন করতেন, সেই ডিভাইস থেকেই রিকভারি প্রক্রিয়া শুরু করা ভালো।

রিকভারি প্রক্রিয়ায় অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করা, পরিচয় নিশ্চিত করা এবং নতুন যোগাযোগের তথ্য দেওয়ার মতো ধাপ আসতে পারে। ফেসবুকের নিরাপত্তা যাচাই সম্পন্ন করার পর পাসওয়ার্ড পুনরায় সেট করার সুযোগ দেওয়া হতে পারে।

হ্যাকার যদি অ্যাকাউন্টের ই-মেইল ঠিকানা পরিবর্তন করে থাকে, তাহলে ফেসবুক থেকে আগের ই-মেইল ঠিকানায় পাঠানো নিরাপত্তা বার্তা খুঁজে দেখুন। ই-মেইল পরিবর্তনের বিষয়ে কোনো নোটিশ থাকলে সেটি ব্যবহার করে অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত বা পরিবর্তনটি প্রত্যাহারের সুযোগ থাকতে পারে।

হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে প্রতারণা হলে আইনি পদক্ষেপ

ফেসবুক অ্যাকাউন্টে অননুমোদিত প্রবেশ শুধু প্রযুক্তিগত সমস্যা নয়; পরিস্থিতি অনুযায়ী এটি সাইবার অপরাধের আওতায় পড়তে পারে। বাংলাদেশে বর্তমানে সাইবার অপরাধের ক্ষেত্রে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ প্রযোজ্য। ওই অধ্যাদেশের ১৮ ধারায় কম্পিউটার, ডিজিটাল ডিভাইস, কম্পিউটার সিস্টেম বা নেটওয়ার্কে বেআইনি প্রবেশ এবং হ্যাকিংকে অপরাধ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে তথ্য চুরি, পরিবর্তন বা ক্ষতিসাধনের ক্ষেত্রেও শাস্তির বিধান রয়েছে।

তাই হ্যাক হওয়া অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে যদি-

  • আপনার নামে টাকা চাওয়া হয়;
  • কেউ প্রতারণার শিকার হয়;
  • ব্যক্তিগত ছবি বা তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়;
  • আপনার পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণা করা হয়;
  • বা অ্যাকাউন্টের তথ্য চুরি বা পরিবর্তন করা হয়,

তাহলে বিষয়টি নথিভুক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

নারী ভুক্তভোগীদের জন্য বিশেষ সহায়তা

সাইবার হয়রানি, ভুয়া আইডি, অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে হয়রানি, ব্যক্তিগত ছবি প্রকাশের হুমকি বা ব্ল্যাকমেইলের শিকার নারী বাংলাদেশ পুলিশের Police Cyber Support for Women (PCSW)-এর সহায়তা নিতে পারেন। পুলিশ জানিয়েছে, এই সেবা বিনামূল্যে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আইনি ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেয়। PCSW-এর হটলাইন 01320-000888 এবং ই-মেইল cybersupport.women@police.gov.bd

টাকা পাঠিয়ে ফেললে কী করবেন?

হ্যাকার আপনার পরিচিত কারও কাছে টাকা চেয়ে থাকলে এবং তিনি টাকা পাঠিয়ে ফেললে বিষয়টি শুধু ফেসবুক এ রিপোর্ট করলেই হবে না। দ্রুত সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা মোবাইল আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে লেনদেনের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করতে হবে। একই সঙ্গে থানায় অভিযোগ করে লেনদেনের প্রমাণ সংরক্ষণ করা জরুরি।

নিরাপদ থাকার উপায়:

. প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টে আলাদা ও শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন।

. 2FA চালু রাখুন।

. OTP, লগইন কোড বা নিরাপত্তা কোড কাউকে দেবেন না।

. ফেসবুক বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের নামে আসা সন্দেহজনক লিংকে ক্লিক করবেন না।

. অচেনা অ্যাপ বা ব্রাউজার এক্সটেনশনের মাধ্যমে ফেসবুকে লগইন করবেন না।

. নিয়মিত লগইন সেশন ও নিরাপত্তা সেটিংস পরীক্ষা করুন।

. বন্ধু বা পরিচিত কেউ হঠাৎ টাকা চাইলে মেসেজ দেখে বিশ্বাস না করে ফোন করে নিশ্চিত হন।

ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়া মানেই সব শেষ নয়। দ্রুত পাসওয়ার্ড ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে নেওয়া, ফেসবুকের অফিসিয়াল রিকভারি প্রক্রিয়া ব্যবহার করা এবং প্রতারণা বা ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার হলে দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

কখনোই হ্যাকারকে টাকা দিয়ে অ্যাকাউন্ট ফেরত নেবার চেষ্টা করবেন না এবং কোনো কাউন্ট রিকভারি বিশেষজ্ঞ-কে OTP, পাসওয়ার্ড বা ব্যক্তিগত তথ্য দেবেন না। ফেসবুকের নিজস্ব রিকভারি ব্যবস্থাই প্রথম পছন্দ হওয়া উচিত।

 

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

লালবাগ কেল্লা: ছুটির দিনে হারিয়ে যান মুঘল ইতিহাসের অসমাপ্ত দুর্গে

ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক হলে আতঙ্কিত না হয়ে যা করবেন

আপডেট সময় ০৯:১৪:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখলেন, একের পর এক বন্ধু ফোন করছে-তুমি কি আমার কাছে টাকা চেয়েছো? ফেসবুকে ঢুকতে গিয়ে দেখা গেল পাসওয়ার্ড কাজ করছে না। এরপর ই-মেইল খুলে আরও বড় ধাক্কা-অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত ফোন নম্বর ও ই-মেইল ঠিকানাও বদলে গেছে।

এমন পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে মাথা ঠান্ডা রাখা জরুরি। কারণ অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার পর প্রথম কয়েক ঘণ্টায় নেওয়া সঠিক পদক্ষেপই নির্ধারণ করে দেয়,অ্যাকাউন্টটি ফিরে পাবেন কি না এবং হ্যাকার আপনার কতটা ক্ষতি করতে পারবে।

আগে বুঝুন, অ্যাকাউন্টটি সত্যিই হ্যাক হয়েছে কি না

ফেসবুকে ঢুকতে না পারলেই যে অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছে, এমন নয়। পাসওয়ার্ড ভুলে যাওয়া, নিরাপত্তাজনিত কারণে অ্যাকাউন্টে সাময়িক সীমাবদ্ধতা বা অন্য কোনো প্রযুক্তিগত সমস্যাও হতে পারে।

তবে আপনি যদি দেখেন-পাসওয়ার্ড বদলে গেছে, অচেনা ই-মেইল বা ফোন নম্বর যুক্ত হয়েছে, আপনার অজান্তে পোস্ট বা মেসেজ পাঠানো হচ্ছে কিংবা পরিচিতদের কাছে টাকা চাওয়া হচ্ছে- তাহলে অ্যাকাউন্টটি আপস বা হ্যাক হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমন হলে-

সঙ্গে সঙ্গে পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন

নতুন এমন পাসওয়ার্ড দিন, যা আগে অন্য কোনো অ্যাকাউন্টে ব্যবহার করেননি। একই পাসওয়ার্ড ফেসবুক, ই-মেইল ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টে ব্যবহার করা নিরাপদ নয়।

অপরিচিত ডিভাইস থেকে লগআউট করুন

অ্যাকাউন্টের লগইন সেশন পরীক্ষা করে অচেনা মোবাইল, কম্পিউটার বা লোকেশন থেকে চালু থাকা সেশন বন্ধ করুন। এতে হ্যাকার আবার অ্যাকাউন্টে ঢোকার সুযোগ কমবে।

টুফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (2FA) চালু করুন

পাসওয়ার্ড জানলেও যাতে দ্বিতীয় একটি নিরাপত্তা ধাপ ছাড়া কেউ অ্যাকাউন্টে ঢুকতে না পারে, সে জন্য 2FA চালু করুন।

মেইল ফোন নম্বর যাচাই করুন

অ্যাকাউন্টে আপনার নিজের ই-মেইল ও ফোন নম্বর রয়েছে কি না দেখে নিন। অপরিচিত কোনো তথ্য থাকলে তা সরিয়ে নিরাপত্তা সেটিংস পুনরায় পরীক্ষা করুন।

বন্ধুদের সতর্ক করুন

হ্যাকার আপনার অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে টাকা চাইলে বা কোনো সন্দেহজনক লিংক পাঠালে দ্রুত বন্ধু ও পরিচিতদের জানিয়ে দিন-আপনার অ্যাকাউন্টে সমস্যা হয়েছে এবং কেউ যেন টাকা না পাঠায় বা কোনো লিংকে ক্লিক না করে।

ফেসবুকএর নিজস্ব রিকভারি ব্যবস্থা ব্যবহার করুন

যদি পাসওয়ার্ডের পাশাপাশি ই-মেইল ও ফোন নম্বরও বদলে দেওয়া হয়, তাহলে ফেসবুকের অফিসিয়াল অ্যাকাউন্ট রিকভারি পেজ facebook.com/hacked ব্যবহার করুন। সম্ভব হলে আগে যে মোবাইল বা কম্পিউটার থেকে নিয়মিত অ্যাকাউন্টে লগইন করতেন, সেই ডিভাইস থেকেই রিকভারি প্রক্রিয়া শুরু করা ভালো।

রিকভারি প্রক্রিয়ায় অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করা, পরিচয় নিশ্চিত করা এবং নতুন যোগাযোগের তথ্য দেওয়ার মতো ধাপ আসতে পারে। ফেসবুকের নিরাপত্তা যাচাই সম্পন্ন করার পর পাসওয়ার্ড পুনরায় সেট করার সুযোগ দেওয়া হতে পারে।

হ্যাকার যদি অ্যাকাউন্টের ই-মেইল ঠিকানা পরিবর্তন করে থাকে, তাহলে ফেসবুক থেকে আগের ই-মেইল ঠিকানায় পাঠানো নিরাপত্তা বার্তা খুঁজে দেখুন। ই-মেইল পরিবর্তনের বিষয়ে কোনো নোটিশ থাকলে সেটি ব্যবহার করে অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত বা পরিবর্তনটি প্রত্যাহারের সুযোগ থাকতে পারে।

হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে প্রতারণা হলে আইনি পদক্ষেপ

ফেসবুক অ্যাকাউন্টে অননুমোদিত প্রবেশ শুধু প্রযুক্তিগত সমস্যা নয়; পরিস্থিতি অনুযায়ী এটি সাইবার অপরাধের আওতায় পড়তে পারে। বাংলাদেশে বর্তমানে সাইবার অপরাধের ক্ষেত্রে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ প্রযোজ্য। ওই অধ্যাদেশের ১৮ ধারায় কম্পিউটার, ডিজিটাল ডিভাইস, কম্পিউটার সিস্টেম বা নেটওয়ার্কে বেআইনি প্রবেশ এবং হ্যাকিংকে অপরাধ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে তথ্য চুরি, পরিবর্তন বা ক্ষতিসাধনের ক্ষেত্রেও শাস্তির বিধান রয়েছে।

তাই হ্যাক হওয়া অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে যদি-

  • আপনার নামে টাকা চাওয়া হয়;
  • কেউ প্রতারণার শিকার হয়;
  • ব্যক্তিগত ছবি বা তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়;
  • আপনার পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণা করা হয়;
  • বা অ্যাকাউন্টের তথ্য চুরি বা পরিবর্তন করা হয়,

তাহলে বিষয়টি নথিভুক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

নারী ভুক্তভোগীদের জন্য বিশেষ সহায়তা

সাইবার হয়রানি, ভুয়া আইডি, অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে হয়রানি, ব্যক্তিগত ছবি প্রকাশের হুমকি বা ব্ল্যাকমেইলের শিকার নারী বাংলাদেশ পুলিশের Police Cyber Support for Women (PCSW)-এর সহায়তা নিতে পারেন। পুলিশ জানিয়েছে, এই সেবা বিনামূল্যে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আইনি ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেয়। PCSW-এর হটলাইন 01320-000888 এবং ই-মেইল cybersupport.women@police.gov.bd

টাকা পাঠিয়ে ফেললে কী করবেন?

হ্যাকার আপনার পরিচিত কারও কাছে টাকা চেয়ে থাকলে এবং তিনি টাকা পাঠিয়ে ফেললে বিষয়টি শুধু ফেসবুক এ রিপোর্ট করলেই হবে না। দ্রুত সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা মোবাইল আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে লেনদেনের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করতে হবে। একই সঙ্গে থানায় অভিযোগ করে লেনদেনের প্রমাণ সংরক্ষণ করা জরুরি।

নিরাপদ থাকার উপায়:

. প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টে আলাদা ও শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন।

. 2FA চালু রাখুন।

. OTP, লগইন কোড বা নিরাপত্তা কোড কাউকে দেবেন না।

. ফেসবুক বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের নামে আসা সন্দেহজনক লিংকে ক্লিক করবেন না।

. অচেনা অ্যাপ বা ব্রাউজার এক্সটেনশনের মাধ্যমে ফেসবুকে লগইন করবেন না।

. নিয়মিত লগইন সেশন ও নিরাপত্তা সেটিংস পরীক্ষা করুন।

. বন্ধু বা পরিচিত কেউ হঠাৎ টাকা চাইলে মেসেজ দেখে বিশ্বাস না করে ফোন করে নিশ্চিত হন।

ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়া মানেই সব শেষ নয়। দ্রুত পাসওয়ার্ড ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে নেওয়া, ফেসবুকের অফিসিয়াল রিকভারি প্রক্রিয়া ব্যবহার করা এবং প্রতারণা বা ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার হলে দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

কখনোই হ্যাকারকে টাকা দিয়ে অ্যাকাউন্ট ফেরত নেবার চেষ্টা করবেন না এবং কোনো কাউন্ট রিকভারি বিশেষজ্ঞ-কে OTP, পাসওয়ার্ড বা ব্যক্তিগত তথ্য দেবেন না। ফেসবুকের নিজস্ব রিকভারি ব্যবস্থাই প্রথম পছন্দ হওয়া উচিত।