তথ্য গোপন করে একই মামলায় পুনরায় জামিন আবেদনের চেষ্টার অভিযোগে আজিজুর রহমান নামে হাইকোর্টের এক আইনজীবীকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ।
রোববার (৯ আগস্ট) বিচারপতি শেখ জাকির হোসেন ও বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। একই সাথে অভিযুক্ত আসামি সাকিব ওরফে সাকিব হাসান লিটনের জামিন আবেদনটি সরাসরি খারিজ করে দেওয়া হয়।
আদালত সূত্রে জানা যায়, সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের কার্যতালিকার ১৫ নম্বরে আসামি সাকিবের জামিন আবেদনের শুনানি নির্ধারিত ছিল। শুনানিকালে আদালতের দায়িত্বে থাকা ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সুলতান মাহমুদ বান্না বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানান, একই মামলা ইতোপূর্বে হাইকোর্টের অন্য একটি বেঞ্চে শুনানির জন্য উপস্থাপিত হয়েছিল। পূর্ববর্তী শুনানির বিষয়টি সম্পূর্ণ গোপন করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলাটি পুনরায় এই বেঞ্চের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
বিষয়টি আদালতের নজরে আসার পর সংশ্লিষ্ট আইনজীবীকে ব্যাখ্যা দিতে বলা হলে তিনি কোনো সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি। বিচারিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে প্রতারণার আশ্রয় নেওয়ায় আদালত তাকে এই জরিমানা অনাদায়ে কঠোর সতর্কবার্তা প্রদান করেন।
এ বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল জানান, আদালতের কাছে পূর্ণাঙ্গ ও নির্ভুল তথ্য উপস্থাপন করা একজন আইনজীবীর মৌলিক পেশাগত ও নৈতিক দায়িত্ব। পূর্ববর্তী আদেশের তথ্য গোপন করে বেঞ্চ পরিবর্তন বা পুনরায় শুনানির চেষ্টা বিচার ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও আস্থাকে সরাসরি ক্ষুণ্ন করে।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রসিডিউর অনুযায়ী, কোনো মামলার শুনানি বা জামিন আবেদন অন্য কোনো বেঞ্চে উত্থাপিত কিংবা প্রত্যাখ্যাত হলে, পরবর্তী যেকোনো আবেদনে সেই পূর্ববর্তী তথ্য বা ‘নট প্রেসড’ (Not Pressed) আদেশের কথা উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক। তথ্য গোপন করে একাধিক বেঞ্চের সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করা হলে তা আদালতের সাথে প্রতারণা হিসেবে গণ্য হয়। বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ক্যাননস অব প্রফেশনাল এথিক্স অ্যান্ড কন্ডাক্ট অনুসারে, এ ধরনের আচরণ গুরুতর পেশাগত অসদাচরণ এবং আদালত অবমাননার শামিল।
আদালত প্রতিবেদক 













