ঢাকা ০৪:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo লালবাগ কেল্লা: ছুটির দিনে হারিয়ে যান মুঘল ইতিহাসের অসমাপ্ত দুর্গে Logo দুর্নীতিমুক্ত আদালত গঠনে প্রধান বিচারপতিকে এক মাসের আল্টিমেটাম Logo ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধের নির্দেশ হাইকোর্টের Logo রিট খারিজ, ছবি ছাড়া করা যাবে না জাতীয় পরিচয়পত্র Logo যুদ্ধাপরাধে মৃত্যুদণ্ড: আবুল কালাম আযাদের আপিল শুনানি ৪ সপ্তাহ মুলতবি Logo ব্যবসায়ীদের মতামত নিয়েই কোম্পানি আইন সংশোধন: বাণিজ্যমন্ত্রী Logo বাংলাভাষী মুসলিম নারীকে বাংলাদেশে পুশব্যাক:আসাম সরকারকে ২ লাখ রুপি জরিমানা Logo পাস হলো মানবাধিকার কমিশন ও গুম প্রতিকার বিল Logo সন্তানকে দানের পরও সম্পত্তিতে বাবা-মায়ের ভোগাধিকার, আইন পাস Logo বিজেএস পরীক্ষার প্রস্তুতি: সফলতার পূর্ণাঙ্গ ও ব্যবহারিক নির্দেশিকা

বিশ্বের অদ্ভুত ও ব্যতিক্রমী কিছু আইন ২

আইন বলতেই আমাদের চোখে ভেসে ওঠে গম্ভীর আদালত, মোটা মোটা বই আর কঠিন সব ধারা। কিন্তু পৃথিবীর অনেক দেশেই এমন কিছু অদ্ভুত ও হাস্যরসাত্মক আইন টিকে আছে, যেগুলো শুনলে সত্যিই অবাক হতে হয়! চলুন জেনে নেওয়া যাক এমনই কিছু অদ্ভুত আইনি বিধান:

মিলানে হাসিমুখে থাকা বাধ্যতামূলক (ইতালি)

ইতালির মিলান শহরে অস্ট্রো-হাঙ্গেরিয়ান আমলের একটি পুরনো আইনি বাধ্যবাধকতা এখনও কাগজে-কলমে বহাল রয়েছে, যেখানে রাস্তায় বের হলে সবাইকে হাসিখুশি মুখে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে! তবে শেষকৃত্যে অংশগ্রহণকারী, হাসপাতালকর্মী ও রোগীদের স্বজনদের এই আইন থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছে। বাকিদের ক্ষেত্রে বিনা কারণে মুখ গোমড়া করে রাখলে জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে!

সন্দেহজনকভাবে ‘স্যামন মাছ’ ধরা নিষিদ্ধ (যুক্তরাজ্য)

যুক্তরাজ্যের ১৯৮৬ সালের ‘স্যামন অ্যাক্ট’-এর ৩২ ধারা অনুযায়ী, সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে বা অবৈধ উপায়ে স্যামন মাছ হাতে রাখা একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। শুনতে যেমনই লাগুক, মূলত অবৈধ মাছ শিকার বা চুরি ঠেকাতেই এই আইনি ধারাটি যুক্ত করা হয়েছিল।

কোমরের মাপ মেপে রাখার নির্দেশ (জাপান)

জাপানে ৪০ থেকে ৭৪ বছর বয়সী নাগরিকদের প্রতি বছর কোমরের মাপ নেওয়া বাধ্যতামূলক। অতিরিক্ত মেদ থাকলে তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণের সরকারি পরামর্শ দেওয়া হয়। জনস্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে প্রণীত এই আইনি উদ্যোগটি স্থানীয়ভাবে মেটাবো ল’ (Metabo Law) নামে পরিচিত।

নিজ দেশেই জুয়া খেলা নিষেধ (মোনাকো)

বিশ্বের সবচেয়ে বিলাসবহুল ক্যাসিনোর দেশ হিসেবে মোনাকো পরিচিত হলেও, মোনাকোর নিজস্ব নাগরিকদের জন্য দেশের অভ্যন্তরে জুয়া খেলা সম্পূর্ণ আইনিভাবে নিষিদ্ধ! এমনকি ক্যাসিনোর কর্মচারীরাও এতে অংশ নিতে পারেন না। অর্থাৎ, যে দেশের অর্থনীতি ক্যাসিনো দিয়ে সমৃদ্ধ, সে দেশের নাগরিকরাই সেখানে খেলতে পারেন না!

ব্যাংকনোটে কিছু লেখা বা দাগ দেওয়া শাস্তিযোগ্য (স্কটল্যান্ড)

১৯২৮ সালের একটি স্কটিশ আইন অনুযায়ী, ব্যাংকনোটের ওপর কিছু লেখা, ছাপানো বা কোনোভাবে টাকার নোট নষ্ট করা দণ্ডনীয় অপরাধ। তাই স্কটল্যান্ডে গেলে টাকার নোটে হিজিবিজি লেখা বা কোনো প্রতিবাদের বার্তা দেওয়ার শখ বাদ দেওয়াই শ্রেয়।

খালি গায়ে গাড়ি চালানো দণ্ডনীয় অপরাধ (থাইল্যান্ড)

থাইল্যান্ডের আবহাওয়া যত তীব্র উষ্ণ বা আর্দ্রই হোক না কেন, শার্ট বা জামা ছাড়া খালি গায়ে গাড়ি বা বাইক চালানো আইনত নিষিদ্ধ। আইন ভাঙলে সেটিকে অসম্মানজনক আচরণ বিবেচনা করে গুণতে হবে জরিমানা।

ভুলবশত জুতো দিয়ে রাজপরিবারের ছবি মাড়ানো নিষেধ (থাইল্যান্ড)

থাইল্যান্ডের মুদ্রায় (বাথ) সে দেশের রাজার ছবি থাকে। অসাবধানতাবশত পকেটে থাকা কোনো মুদ্রা বা নোট মাটিতে পড়ে গেলে তাতে পা দেওয়া বা পা দিয়ে চেপে ধরা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ, কারণ এতে রাজপরিবারকে অপমান করা হয় বলে গণ্য করা হয়!

এই আইনগুলোর বেশিরভাগই একসময় নির্দিষ্ট কোনো সামাজিক বা প্রশাসনিক প্রয়োজনে তৈরি হয়েছিল। কালের বিবর্তনে সেগুলোর প্রয়োজনীয়তা কমলেও আইনি নথি থেকে হয়তো পুরোপুরি মুছে যায়নি। ভ্রমণ কিংবা বসবাসের ক্ষেত্রে এসব ভিন্নধর্মী সংস্কৃতি ও আইনের প্রতি সচেতন থাকা নিশ্চিতভাবেই বুদ্ধিমানের কাজ।

 

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

লালবাগ কেল্লা: ছুটির দিনে হারিয়ে যান মুঘল ইতিহাসের অসমাপ্ত দুর্গে

বিশ্বের অদ্ভুত ও ব্যতিক্রমী কিছু আইন ২

আপডেট সময় ১১:৪১:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

আইন বলতেই আমাদের চোখে ভেসে ওঠে গম্ভীর আদালত, মোটা মোটা বই আর কঠিন সব ধারা। কিন্তু পৃথিবীর অনেক দেশেই এমন কিছু অদ্ভুত ও হাস্যরসাত্মক আইন টিকে আছে, যেগুলো শুনলে সত্যিই অবাক হতে হয়! চলুন জেনে নেওয়া যাক এমনই কিছু অদ্ভুত আইনি বিধান:

মিলানে হাসিমুখে থাকা বাধ্যতামূলক (ইতালি)

ইতালির মিলান শহরে অস্ট্রো-হাঙ্গেরিয়ান আমলের একটি পুরনো আইনি বাধ্যবাধকতা এখনও কাগজে-কলমে বহাল রয়েছে, যেখানে রাস্তায় বের হলে সবাইকে হাসিখুশি মুখে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে! তবে শেষকৃত্যে অংশগ্রহণকারী, হাসপাতালকর্মী ও রোগীদের স্বজনদের এই আইন থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছে। বাকিদের ক্ষেত্রে বিনা কারণে মুখ গোমড়া করে রাখলে জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে!

সন্দেহজনকভাবে ‘স্যামন মাছ’ ধরা নিষিদ্ধ (যুক্তরাজ্য)

যুক্তরাজ্যের ১৯৮৬ সালের ‘স্যামন অ্যাক্ট’-এর ৩২ ধারা অনুযায়ী, সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে বা অবৈধ উপায়ে স্যামন মাছ হাতে রাখা একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। শুনতে যেমনই লাগুক, মূলত অবৈধ মাছ শিকার বা চুরি ঠেকাতেই এই আইনি ধারাটি যুক্ত করা হয়েছিল।

কোমরের মাপ মেপে রাখার নির্দেশ (জাপান)

জাপানে ৪০ থেকে ৭৪ বছর বয়সী নাগরিকদের প্রতি বছর কোমরের মাপ নেওয়া বাধ্যতামূলক। অতিরিক্ত মেদ থাকলে তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণের সরকারি পরামর্শ দেওয়া হয়। জনস্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে প্রণীত এই আইনি উদ্যোগটি স্থানীয়ভাবে মেটাবো ল’ (Metabo Law) নামে পরিচিত।

নিজ দেশেই জুয়া খেলা নিষেধ (মোনাকো)

বিশ্বের সবচেয়ে বিলাসবহুল ক্যাসিনোর দেশ হিসেবে মোনাকো পরিচিত হলেও, মোনাকোর নিজস্ব নাগরিকদের জন্য দেশের অভ্যন্তরে জুয়া খেলা সম্পূর্ণ আইনিভাবে নিষিদ্ধ! এমনকি ক্যাসিনোর কর্মচারীরাও এতে অংশ নিতে পারেন না। অর্থাৎ, যে দেশের অর্থনীতি ক্যাসিনো দিয়ে সমৃদ্ধ, সে দেশের নাগরিকরাই সেখানে খেলতে পারেন না!

ব্যাংকনোটে কিছু লেখা বা দাগ দেওয়া শাস্তিযোগ্য (স্কটল্যান্ড)

১৯২৮ সালের একটি স্কটিশ আইন অনুযায়ী, ব্যাংকনোটের ওপর কিছু লেখা, ছাপানো বা কোনোভাবে টাকার নোট নষ্ট করা দণ্ডনীয় অপরাধ। তাই স্কটল্যান্ডে গেলে টাকার নোটে হিজিবিজি লেখা বা কোনো প্রতিবাদের বার্তা দেওয়ার শখ বাদ দেওয়াই শ্রেয়।

খালি গায়ে গাড়ি চালানো দণ্ডনীয় অপরাধ (থাইল্যান্ড)

থাইল্যান্ডের আবহাওয়া যত তীব্র উষ্ণ বা আর্দ্রই হোক না কেন, শার্ট বা জামা ছাড়া খালি গায়ে গাড়ি বা বাইক চালানো আইনত নিষিদ্ধ। আইন ভাঙলে সেটিকে অসম্মানজনক আচরণ বিবেচনা করে গুণতে হবে জরিমানা।

ভুলবশত জুতো দিয়ে রাজপরিবারের ছবি মাড়ানো নিষেধ (থাইল্যান্ড)

থাইল্যান্ডের মুদ্রায় (বাথ) সে দেশের রাজার ছবি থাকে। অসাবধানতাবশত পকেটে থাকা কোনো মুদ্রা বা নোট মাটিতে পড়ে গেলে তাতে পা দেওয়া বা পা দিয়ে চেপে ধরা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ, কারণ এতে রাজপরিবারকে অপমান করা হয় বলে গণ্য করা হয়!

এই আইনগুলোর বেশিরভাগই একসময় নির্দিষ্ট কোনো সামাজিক বা প্রশাসনিক প্রয়োজনে তৈরি হয়েছিল। কালের বিবর্তনে সেগুলোর প্রয়োজনীয়তা কমলেও আইনি নথি থেকে হয়তো পুরোপুরি মুছে যায়নি। ভ্রমণ কিংবা বসবাসের ক্ষেত্রে এসব ভিন্নধর্মী সংস্কৃতি ও আইনের প্রতি সচেতন থাকা নিশ্চিতভাবেই বুদ্ধিমানের কাজ।