ঢাকা ০৪:০৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo লালবাগ কেল্লা: ছুটির দিনে হারিয়ে যান মুঘল ইতিহাসের অসমাপ্ত দুর্গে Logo দুর্নীতিমুক্ত আদালত গঠনে প্রধান বিচারপতিকে এক মাসের আল্টিমেটাম Logo ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধের নির্দেশ হাইকোর্টের Logo রিট খারিজ, ছবি ছাড়া করা যাবে না জাতীয় পরিচয়পত্র Logo যুদ্ধাপরাধে মৃত্যুদণ্ড: আবুল কালাম আযাদের আপিল শুনানি ৪ সপ্তাহ মুলতবি Logo ব্যবসায়ীদের মতামত নিয়েই কোম্পানি আইন সংশোধন: বাণিজ্যমন্ত্রী Logo বাংলাভাষী মুসলিম নারীকে বাংলাদেশে পুশব্যাক:আসাম সরকারকে ২ লাখ রুপি জরিমানা Logo পাস হলো মানবাধিকার কমিশন ও গুম প্রতিকার বিল Logo সন্তানকে দানের পরও সম্পত্তিতে বাবা-মায়ের ভোগাধিকার, আইন পাস Logo বিজেএস পরীক্ষার প্রস্তুতি: সফলতার পূর্ণাঙ্গ ও ব্যবহারিক নির্দেশিকা

ঋণ আত্মসাৎ: ঢাকা ব্যাংকের ৪ সাবেক কর্মকর্তার ২০ বছরের জেল

জাল-জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে ব্যাংকের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকা ব্যাংক লিমিটেডের সাবেক চার কর্মকর্তাকে পৃথক তিন ধারায় ২০ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১-এর বিচারক মুহা. হাসানুজ্জামান এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—ঢাকা ব্যাংকের সাবেক কেন্দ্রীয় হিসাব ও ইনভেস্টমেন্ট বিভাগের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট কাজী ফরিদ উদ্দিন আহমেদ (এফসিএ), ভাইস প্রেসিডেন্ট আবু মোহাম্মদ সাঈদ খান, সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার প্রবীর কুমার ভৌমিক এবং কর্মকর্তা শওকত আলী।

আদালতের দেওয়া দণ্ড অনুযায়ী, অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের দায়ে প্রত্যেককে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে; জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। জাল-জালিয়াতির অভিযোগে দেওয়া হয়েছে ৫ বছরের কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড। এছাড়া অর্থ আত্মসাতের অপরাধে আরও ৫ বছরের কারাদণ্ডসহ ২৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে অতিরিক্ত ৩ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

দুদক প্রসিকিউটর মীর আহম্মেদ আলী সালাম জানান, আদালতের আদেশ অনুযায়ী তিন ধারার সাজা একসঙ্গে চলবে। ফলে আসামিদের বাস্তবে সর্বোচ্চ ১০ বছর সাজা খাটতে হবে।

রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত কাজী ফরিদ উদ্দিন, আবু মোহাম্মদ সাঈদ খান ও প্রবীর কুমার ভৌমিক আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে সাজা পরোয়ানাসহ তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। অন্যদিকে, আসামি শওকত আলী অনুপস্থিত থাকায় তার আইনজীবী সময়ের আবেদন করলেও আদালত তা নাকচ করে দেন। একই সঙ্গে তার জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০০২ সালের ৪ নভেম্বর মোহাম্মদ ইউসূফ আলী নামে এক ব্যক্তি ঢাকা ব্যাংকে একটি হিসাব খোলেন এবং ১৭ লাখ টাকা ওডি (ওভারড্রাফট) ঋণের আবেদন করেন। ঋণ মঞ্জুরের বিপরীতে তিনি কনফিডেন্স সিমেন্টের ১ হাজার এবং মেঘনা সিমেন্টের সাড়ে ৭ হাজার শেয়ার জামানত হিসেবে জমা দেন।

পরবর্তীতে যাচাই-বাছাইয়ে দেখা যায়, জমা দেওয়া সব শেয়ারই ছিল ভুয়া ও জাল। ব্যাংক কর্মকর্তা শওকত আলী জালিয়াতির বিষয়টি জানা সত্ত্বেও ইউসূফ আলীকে শনাক্ত করেন এবং যোগসাজশ করে ঋণ পাইয়ে দিয়ে অর্থ আত্মসাতে সহায়তা করেন।

এ ঘটনায় ২০০৮ সালের ৩১ মে ঢাকা ব্যাংকের তৎকালীন সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট সিরাজুল হক বাদী হয়ে মতিঝিল থানায় মামলা করেন। ওই বছরের ১৪ ডিসেম্বর দুদকের সহকারী পরিচালক সামছুল আলম কেবল শওকত আলীকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দেন। ২০০৯ সালের ২৭ জুলাই আদালত আসামির বিরুদ্ধে বিচার শুরু করলেও পরবর্তীতে মামলাটি অধিকতর তদন্তে পাঠানো হয়।

দীর্ঘ অধিকতর তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ২২ আগস্ট দুদকের সহকারী পরিচালক কামিয়াব আফতাহি-উন-নবী সাবেক চার ব্যাংক কর্মকর্তাকে অভিযুক্ত করে নতুন করে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০২৫ সালের ১৬ জানুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে নতুন করে বিচার শুরু হয়। বিচারপ্রক্রিয়ায় মোট ১৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।

 

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

লালবাগ কেল্লা: ছুটির দিনে হারিয়ে যান মুঘল ইতিহাসের অসমাপ্ত দুর্গে

ঋণ আত্মসাৎ: ঢাকা ব্যাংকের ৪ সাবেক কর্মকর্তার ২০ বছরের জেল

আপডেট সময় ০৫:২৯:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

জাল-জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে ব্যাংকের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকা ব্যাংক লিমিটেডের সাবেক চার কর্মকর্তাকে পৃথক তিন ধারায় ২০ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১-এর বিচারক মুহা. হাসানুজ্জামান এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—ঢাকা ব্যাংকের সাবেক কেন্দ্রীয় হিসাব ও ইনভেস্টমেন্ট বিভাগের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট কাজী ফরিদ উদ্দিন আহমেদ (এফসিএ), ভাইস প্রেসিডেন্ট আবু মোহাম্মদ সাঈদ খান, সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার প্রবীর কুমার ভৌমিক এবং কর্মকর্তা শওকত আলী।

আদালতের দেওয়া দণ্ড অনুযায়ী, অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের দায়ে প্রত্যেককে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে; জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। জাল-জালিয়াতির অভিযোগে দেওয়া হয়েছে ৫ বছরের কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড। এছাড়া অর্থ আত্মসাতের অপরাধে আরও ৫ বছরের কারাদণ্ডসহ ২৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে অতিরিক্ত ৩ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

দুদক প্রসিকিউটর মীর আহম্মেদ আলী সালাম জানান, আদালতের আদেশ অনুযায়ী তিন ধারার সাজা একসঙ্গে চলবে। ফলে আসামিদের বাস্তবে সর্বোচ্চ ১০ বছর সাজা খাটতে হবে।

রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত কাজী ফরিদ উদ্দিন, আবু মোহাম্মদ সাঈদ খান ও প্রবীর কুমার ভৌমিক আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে সাজা পরোয়ানাসহ তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। অন্যদিকে, আসামি শওকত আলী অনুপস্থিত থাকায় তার আইনজীবী সময়ের আবেদন করলেও আদালত তা নাকচ করে দেন। একই সঙ্গে তার জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০০২ সালের ৪ নভেম্বর মোহাম্মদ ইউসূফ আলী নামে এক ব্যক্তি ঢাকা ব্যাংকে একটি হিসাব খোলেন এবং ১৭ লাখ টাকা ওডি (ওভারড্রাফট) ঋণের আবেদন করেন। ঋণ মঞ্জুরের বিপরীতে তিনি কনফিডেন্স সিমেন্টের ১ হাজার এবং মেঘনা সিমেন্টের সাড়ে ৭ হাজার শেয়ার জামানত হিসেবে জমা দেন।

পরবর্তীতে যাচাই-বাছাইয়ে দেখা যায়, জমা দেওয়া সব শেয়ারই ছিল ভুয়া ও জাল। ব্যাংক কর্মকর্তা শওকত আলী জালিয়াতির বিষয়টি জানা সত্ত্বেও ইউসূফ আলীকে শনাক্ত করেন এবং যোগসাজশ করে ঋণ পাইয়ে দিয়ে অর্থ আত্মসাতে সহায়তা করেন।

এ ঘটনায় ২০০৮ সালের ৩১ মে ঢাকা ব্যাংকের তৎকালীন সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট সিরাজুল হক বাদী হয়ে মতিঝিল থানায় মামলা করেন। ওই বছরের ১৪ ডিসেম্বর দুদকের সহকারী পরিচালক সামছুল আলম কেবল শওকত আলীকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দেন। ২০০৯ সালের ২৭ জুলাই আদালত আসামির বিরুদ্ধে বিচার শুরু করলেও পরবর্তীতে মামলাটি অধিকতর তদন্তে পাঠানো হয়।

দীর্ঘ অধিকতর তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ২২ আগস্ট দুদকের সহকারী পরিচালক কামিয়াব আফতাহি-উন-নবী সাবেক চার ব্যাংক কর্মকর্তাকে অভিযুক্ত করে নতুন করে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০২৫ সালের ১৬ জানুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে নতুন করে বিচার শুরু হয়। বিচারপ্রক্রিয়ায় মোট ১৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।