ঢাকা ০১:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo আইনজীবী তালিকাভুক্তিতে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৫ বছর নির্ধারণ Logo অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে হুমকির নতুন মামলা, হাজির হওয়ার নির্দেশ Logo শুধু বেঞ্চ বাড়িয়ে মামলাজট কমানো সম্ভব নয়: অ্যাটর্নি জেনারেল Logo অপ্রতিম হত্যা মামলায় চার্জশিট: মোবাইল ছিনতাইয়ে বাধা দেওয়ায় খুন Logo ডিভি লটারি: বাংলাদেশিদের জন্য কী খবর, কবে আবেদন শুরু? Logo পাওয়ার অব অ্যাটর্নি কী, ক্ষমতা কতটুকু ও কতদিন কার্যকর থাকে? Logo সরকারি খরচে পৌনে ৫ লাখের বেশি মামলায় মিলল আইনি সহায়তা Logo অসচ্ছল বিচারপ্রার্থীদের আদায় করে দেওয়া হলো ৪২৫ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ Logo মালয়েশিয়ায় ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের উদ্যোগ Logo রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতি মোছা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাধার প্রতিবাদে হাইকোর্টে রিট

রাজধানীর নদীবলয় বাঁচাতে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশ

বুড়িগঙ্গাসহ রাজধানী ঢাকার চারপাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীগুলোর ভয়াবহ দূষণ রোধে অনতিবিলম্বে একটি কার্যকর ও সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দ্রুত ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে তাগিদ দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত ‘বুড়িগঙ্গা নদীর পানি ও পরিবেশ উন্নয়ন’ শীর্ষক এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশনা দেন। সকাল সাড়ে ৯টায় বৈঠকটি শুরু হয়।

সভায় বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু, শীতলক্ষ্যা এবং রাজধানীর সীমান্তবর্তী অন্যান্য নদীর বর্তমান নাজুক পরিবেশগত অবস্থা, দূষণের উৎস, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথ নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। আলোচনায় নদীদূষণের প্রধান কারণ হিসেবে শিল্পকারখানার অপরিশোধিত বর্জ্য সরাসরি নদীতে ফেলা, অপর্যাপ্ত পয়ঃনিষ্কাশন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা, সংযোগ খালগুলোর নাব্যতা সংকট এবং কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাকে বিশেষভাবে চিহ্নিত করা হয়।

দূষণ প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রী কয়েকটি সুনির্দিষ্ট বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। এর মধ্যে রয়েছে—শিল্পকারখানায় বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) সার্বক্ষণিক কার্যকর রাখা নিশ্চিত করা, খাল ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, দূষণকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত ও কঠোর অভিযান পরিচালনা, বিদ্যমান পরিবেশ আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা দূর করা। এছাড়া জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নদী রক্ষায় নাগরিকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়।

বৈঠকে পরিবেশ অধিদপ্তর, পানি উন্নয়ন বোর্ড, ঢাকা ওয়াসা, বিআইডব্লিউটিএ, রাজউক, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এবং জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে একযোগে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী সরকারি প্রচেষ্টার পাশাপাশি পরিবেশবাদী সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় জনগণকে এই মহৎ উদ্যোগে সম্পৃক্ত করার পরামর্শ দেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে সমন্বয় কমিটি

বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রাজধানীর চারপাশের নদীদূষণ রোধে একটি সমন্বিত ও সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং তা মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সরাসরি তত্ত্বাবধানে একটি শক্তিশালী ‘আন্তঃসংস্থা সমন্বয় কমিটি’ গঠন করা হবে। এই কমিটি সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় সাধন করবে এবং নির্দিষ্ট সময় পরপর কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রতিবেদন দাখিল করবে।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তার দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, “নদীদূষণ এখন এক দুর্বিষহ ও ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে। আমরা যদি এখনই কার্যকর ও কঠোর পদক্ষেপ না নিই, তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে আমাদের জবাবদিহি করতে হবে। তাই দূষণ রোধে কোনো ধরনের অবহেলা বা গাফিলতির সুযোগ নেই। শুধু কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করলেই হবে না, তার বাস্তব ও কার্যকর বাস্তবায়নও নিশ্চিত করতে হবে।”

গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবৃন্দের মধ্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ঢাকা নৌ এলাকার কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল আবদুল্লাহ-আল-মাকসুস, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ. বি. এম. আব্দুস সাত্তারসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আলোচনায় অংশ নেন।

 

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

আইনজীবী তালিকাভুক্তিতে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৫ বছর নির্ধারণ

রাজধানীর নদীবলয় বাঁচাতে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশ

আপডেট সময় ০৩:৫০:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

বুড়িগঙ্গাসহ রাজধানী ঢাকার চারপাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীগুলোর ভয়াবহ দূষণ রোধে অনতিবিলম্বে একটি কার্যকর ও সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দ্রুত ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে তাগিদ দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত ‘বুড়িগঙ্গা নদীর পানি ও পরিবেশ উন্নয়ন’ শীর্ষক এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশনা দেন। সকাল সাড়ে ৯টায় বৈঠকটি শুরু হয়।

সভায় বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু, শীতলক্ষ্যা এবং রাজধানীর সীমান্তবর্তী অন্যান্য নদীর বর্তমান নাজুক পরিবেশগত অবস্থা, দূষণের উৎস, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথ নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। আলোচনায় নদীদূষণের প্রধান কারণ হিসেবে শিল্পকারখানার অপরিশোধিত বর্জ্য সরাসরি নদীতে ফেলা, অপর্যাপ্ত পয়ঃনিষ্কাশন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা, সংযোগ খালগুলোর নাব্যতা সংকট এবং কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাকে বিশেষভাবে চিহ্নিত করা হয়।

দূষণ প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রী কয়েকটি সুনির্দিষ্ট বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। এর মধ্যে রয়েছে—শিল্পকারখানায় বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) সার্বক্ষণিক কার্যকর রাখা নিশ্চিত করা, খাল ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, দূষণকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত ও কঠোর অভিযান পরিচালনা, বিদ্যমান পরিবেশ আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা দূর করা। এছাড়া জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নদী রক্ষায় নাগরিকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়।

বৈঠকে পরিবেশ অধিদপ্তর, পানি উন্নয়ন বোর্ড, ঢাকা ওয়াসা, বিআইডব্লিউটিএ, রাজউক, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এবং জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে একযোগে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী সরকারি প্রচেষ্টার পাশাপাশি পরিবেশবাদী সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় জনগণকে এই মহৎ উদ্যোগে সম্পৃক্ত করার পরামর্শ দেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে সমন্বয় কমিটি

বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রাজধানীর চারপাশের নদীদূষণ রোধে একটি সমন্বিত ও সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং তা মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সরাসরি তত্ত্বাবধানে একটি শক্তিশালী ‘আন্তঃসংস্থা সমন্বয় কমিটি’ গঠন করা হবে। এই কমিটি সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় সাধন করবে এবং নির্দিষ্ট সময় পরপর কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রতিবেদন দাখিল করবে।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তার দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, “নদীদূষণ এখন এক দুর্বিষহ ও ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে। আমরা যদি এখনই কার্যকর ও কঠোর পদক্ষেপ না নিই, তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে আমাদের জবাবদিহি করতে হবে। তাই দূষণ রোধে কোনো ধরনের অবহেলা বা গাফিলতির সুযোগ নেই। শুধু কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করলেই হবে না, তার বাস্তব ও কার্যকর বাস্তবায়নও নিশ্চিত করতে হবে।”

গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবৃন্দের মধ্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ঢাকা নৌ এলাকার কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল আবদুল্লাহ-আল-মাকসুস, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ. বি. এম. আব্দুস সাত্তারসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আলোচনায় অংশ নেন।