ঢাকা ১২:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে হুমকির নতুন মামলা, হাজির হওয়ার নির্দেশ Logo শুধু বেঞ্চ বাড়িয়ে মামলাজট কমানো সম্ভব নয়: অ্যাটর্নি জেনারেল Logo অপ্রতিম হত্যা মামলায় চার্জশিট: মোবাইল ছিনতাইয়ে বাধা দেওয়ায় খুন Logo ডিভি লটারি: বাংলাদেশিদের জন্য কী খবর, কবে আবেদন শুরু? Logo পাওয়ার অব অ্যাটর্নি কী, ক্ষমতা কতটুকু ও কতদিন কার্যকর থাকে? Logo সরকারি খরচে পৌনে ৫ লাখের বেশি মামলায় মিলল আইনি সহায়তা Logo অসচ্ছল বিচারপ্রার্থীদের আদায় করে দেওয়া হলো ৪২৫ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ Logo মালয়েশিয়ায় ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের উদ্যোগ Logo রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতি মোছা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাধার প্রতিবাদে হাইকোর্টে রিট Logo ৩৫ বছর বয়সের পর আর আইনজীবী হওয়ার সুযোগ নেই: আইনমন্ত্রী

ব্রিটেনে অভিবাসন আইনে কড়াকড়ির নতুন ঢেউ

যুক্তরাজ্যে ২০২৬ সাল অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের বছর। সরকার অভিবাসীর সংখ্যা কমানো, ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহার রোধ এবং সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করতে একের পর এক নতুন নিয়ম ও সংস্কার কার্যকর করছে।

ভিসামুক্ত ভ্রমণের সুবিধাপ্রাপ্ত প্রায় ৮৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য যুক্তরাজ্যে প্রবেশের আগে এখন ‘ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন’ (ETA) নেওয়া বাধ্যতামূলক। এর ফি ১৬ পাউন্ড এবং অনুমোদনটি সাধারণত দুই বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকে।

স্থায়ী বসবাসের (ILR) নিয়মে বড় পরিবর্তনের পরিকল্পনা:

সরকার অধিকাংশ কর্মী-ভিসাধারীদের জন্য পাঁচ বছরের পরিবর্তে ১০ বছর পর স্থায়ী বসবাসের (Indefinite Leave to Remain–ILR) সুযোগ চালুর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। এর পাশাপাশি একটি ‘আর্নড সেটেলমেন্ট’ বা যোগ্যতাভিত্তিক ব্যবস্থা আনার প্রস্তাব রয়েছে—যেখানে ব্যক্তির অবদান, আইন মেনে চলা এবং অন্যান্য মানদণ্ড বিবেচনা করা হবে। তবে এই পরিবর্তনের সব দিক এখনো পুরোপুরি কার্যকর হয়নি; বাস্তবায়নের জন্য ধাপে ধাপে নতুন বিধি জারি করা হচ্ছে।

স্থায়ী বসবাসের আবেদনকারীদের জন্য ইংরেজি ভাষার ন্যূনতম মান বাড়ানোর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি কর্মী-ভিসাসহ বিভিন্ন অভিবাসন রুটেও ভাষাগত যোগ্যতার মান আরও কঠোর করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বিদেশি কর্মী নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর তদারকি বাড়ানো হয়েছে। স্পনসর লাইসেন্সধারী নিয়োগকর্তাদের বেতন পরিশোধসহ কর্মসংস্থানের সব শর্তাবলি যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংরক্ষণ করতে হবে। এসব নিয়ম লঙ্ঘন করলে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকদের জন্য ‘ভিসা ব্রেক‘:

২০২৬ সালের ২৬ মার্চ থেকে আফগানিস্তান, ক্যামেরুন, মিয়ানমার ও সুদানের নাগরিকদের বিদেশ থেকে করা স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন গ্রহণ বন্ধ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে আফগানিস্তানের নাগরিকদের স্কিলড ওয়ার্কার ভিসার আবেদনও প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে। তবে এই নিষেধাজ্ঞা সব ধরনের ভিসার জন্য নয়; এটি নির্দিষ্ট কিছু ভিসা শ্রেণির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

শরণার্থী নীতিতে পরিবর্তন:

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃত ব্যক্তিদের প্রথম পর্যায়ে ৩০ মাসের জন্য থাকার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া গুরুতর অপরাধে দণ্ডিত বিদেশি নাগরিকদের যুক্তরাজ্য থেকে বহিষ্কারের বিধান আরও কঠোর করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, যুক্তরাজ্যে কাজ, পড়াশোনা কিংবা স্থায়ীভাবে বসবাসের পরিকল্পনা করা ব্যক্তিদের জন্য বর্তমান অভিবাসন ব্যবস্থা আগের তুলনায় অনেক বেশি কঠোর, দীর্ঘমেয়াদি এবং শর্তনির্ভর হয়ে উঠছে।

 

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে হুমকির নতুন মামলা, হাজির হওয়ার নির্দেশ

ব্রিটেনে অভিবাসন আইনে কড়াকড়ির নতুন ঢেউ

আপডেট সময় ১১:৩০:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

যুক্তরাজ্যে ২০২৬ সাল অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের বছর। সরকার অভিবাসীর সংখ্যা কমানো, ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহার রোধ এবং সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করতে একের পর এক নতুন নিয়ম ও সংস্কার কার্যকর করছে।

ভিসামুক্ত ভ্রমণের সুবিধাপ্রাপ্ত প্রায় ৮৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য যুক্তরাজ্যে প্রবেশের আগে এখন ‘ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন’ (ETA) নেওয়া বাধ্যতামূলক। এর ফি ১৬ পাউন্ড এবং অনুমোদনটি সাধারণত দুই বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকে।

স্থায়ী বসবাসের (ILR) নিয়মে বড় পরিবর্তনের পরিকল্পনা:

সরকার অধিকাংশ কর্মী-ভিসাধারীদের জন্য পাঁচ বছরের পরিবর্তে ১০ বছর পর স্থায়ী বসবাসের (Indefinite Leave to Remain–ILR) সুযোগ চালুর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। এর পাশাপাশি একটি ‘আর্নড সেটেলমেন্ট’ বা যোগ্যতাভিত্তিক ব্যবস্থা আনার প্রস্তাব রয়েছে—যেখানে ব্যক্তির অবদান, আইন মেনে চলা এবং অন্যান্য মানদণ্ড বিবেচনা করা হবে। তবে এই পরিবর্তনের সব দিক এখনো পুরোপুরি কার্যকর হয়নি; বাস্তবায়নের জন্য ধাপে ধাপে নতুন বিধি জারি করা হচ্ছে।

স্থায়ী বসবাসের আবেদনকারীদের জন্য ইংরেজি ভাষার ন্যূনতম মান বাড়ানোর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি কর্মী-ভিসাসহ বিভিন্ন অভিবাসন রুটেও ভাষাগত যোগ্যতার মান আরও কঠোর করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বিদেশি কর্মী নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর তদারকি বাড়ানো হয়েছে। স্পনসর লাইসেন্সধারী নিয়োগকর্তাদের বেতন পরিশোধসহ কর্মসংস্থানের সব শর্তাবলি যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংরক্ষণ করতে হবে। এসব নিয়ম লঙ্ঘন করলে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকদের জন্য ‘ভিসা ব্রেক‘:

২০২৬ সালের ২৬ মার্চ থেকে আফগানিস্তান, ক্যামেরুন, মিয়ানমার ও সুদানের নাগরিকদের বিদেশ থেকে করা স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন গ্রহণ বন্ধ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে আফগানিস্তানের নাগরিকদের স্কিলড ওয়ার্কার ভিসার আবেদনও প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে। তবে এই নিষেধাজ্ঞা সব ধরনের ভিসার জন্য নয়; এটি নির্দিষ্ট কিছু ভিসা শ্রেণির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

শরণার্থী নীতিতে পরিবর্তন:

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃত ব্যক্তিদের প্রথম পর্যায়ে ৩০ মাসের জন্য থাকার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া গুরুতর অপরাধে দণ্ডিত বিদেশি নাগরিকদের যুক্তরাজ্য থেকে বহিষ্কারের বিধান আরও কঠোর করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, যুক্তরাজ্যে কাজ, পড়াশোনা কিংবা স্থায়ীভাবে বসবাসের পরিকল্পনা করা ব্যক্তিদের জন্য বর্তমান অভিবাসন ব্যবস্থা আগের তুলনায় অনেক বেশি কঠোর, দীর্ঘমেয়াদি এবং শর্তনির্ভর হয়ে উঠছে।