বিয়ের প্রলোভনে শারীরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কেবল পুরুষ সঙ্গীর শাস্তির বিধানের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। আইনে পুরুষদের এই শাস্তির বিধান কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২০ মার্চ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশোধনী খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। এই সংশোধনের মাধ্যমে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে যৌন সম্পর্ক স্থাপনকে একটি পৃথক অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে শাস্তির বিধান করা হলেও, অপরাধটি ঠিক কোন পরিস্থিতিতে সংঘটিত হবে—তার স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা বা সংজ্ঞা আইনে দেওয়া হয়নি। অর্থাৎ, বিয়ের কথা বলে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হওয়ার সাথে সাথেই অপরাধ হবে, নাকি পরবর্তীতে প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে—সে বিষয়ে স্পষ্ট বিধান অনুপস্থিত বলে জানান আইনজীবী ইসরাত হাসান।
গণমাধ্যমকে দেওয়া এক বক্তব্যে আইনজীবী ইসরাত হাসান বলেন, একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী কেবল প্রলোভনে পড়ে শারীরিক সম্পর্কে জড়াবেন এবং এর দায়ে শুধু তার পুরুষ সঙ্গীর সর্বোচ্চ ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে—এমন বিধান কীভাবে সংসেদে গৃহীত হলো তা বোধগম্য নয়।
তিনি আরও বলেন, এই ধরনের বিধানের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে নারীকে অবিবেচক বা পুতুল হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যেন তার নিজের কোনো স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নেই। অথচ বাস্তবিক অর্থে এই ধরনের সম্পর্কে উভয় পক্ষেরই অংশগ্রহণ বা সম্মতি থাকে। রাষ্ট্র যদি চায় নাগরিকরা প্রেম বা প্রাক-বৈবাহিক শারীরিক সম্পর্কে না জড়াক, তবে আইন করে সার্বিকভাবে শাস্তির ব্যবস্থা করতে পারে। কিন্তু একই অপরাধমূলক কাজে কেবল একপক্ষকে দায়ী করে শাস্তি দেওয়া ন্যায়বিচারের মূলনীতির পরিপন্থী।
নিজস্ব প্রতিবেদক 













