ঢাকা ০৬:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo বাবার আহাজারি: ‘ঋণ শোধ হলো না, বুক খালি হয়ে গেল’ Logo টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক: তদন্তে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ হাইকোর্টের Logo বেবি পাউডারে ক্যানসারের ঝুঁকি: ৫.৫ বিলিয়ন ডলারে মামলা নিষ্পত্তির সিদ্ধান্ত জনসন অ্যান্ড জনসনের Logo বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর এস কে সুরের ৩ বছরের কারাদণ্ড Logo বেরোবি’র সাবেক ভিসি কলিমউল্লাহর জামিননামা মঞ্জুর, মুক্তিতে বাধা নেই Logo টুথপেস্টে ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিক: উচ্চপর্যায়ের তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট Logo বিকাশ, নগদ ও রকেটের অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জ কেন অবৈধ নয়: হাইকোর্টের রুল Logo সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে অভিযোগ যাচাই করেই সিদ্ধান্ত: আইনমন্ত্রী Logo সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনকে গ্রেপ্তারের কোনো আইনি ভিত্তি দেখছে না সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo সাবেক রাষ্ট্রপতিকে কি গ্রেপ্তার করা সম্ভব? সাংবিধানিক দায়মুক্তি ও আইনি বিতর্কের ব্যবচ্ছেদ

বেবি পাউডারে ক্যানসারের ঝুঁকি: ৫.৫ বিলিয়ন ডলারে মামলা নিষ্পত্তির সিদ্ধান্ত জনসন অ্যান্ড জনসনের

বিশ্বখ্যাত প্রসাধনী ও ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ‘জনসন অ্যান্ড জনসন’ যুক্তরাষ্ট্রে তাদের বহুল আলোচিত ট্যাল্কভিত্তিক বেবি পাউডার ব্যবহারজনিত ক্যানসারের মামলাগুলো নিষ্পত্তিতে সাড়ে পাঁচ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ৫.৫ বিলিয়ন ডলার) ক্ষতিপূরণ দিতে সম্মত হয়েছে। দশকের পর দশক ধরে চলমান হাজার হাজার মামলার ইতি টানতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বহুজাতিক কোম্পানিটি।

সোমবার জনসন অ্যান্ড জনসনের পক্ষ থেকে এই সমঝোতা চুক্তি বা নিষ্পত্তির কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়।

প্রতিষ্ঠানটি জানায়, এই বিশাল অঙ্কের সমঝোতার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্যের আদালতে বিচারাধীন প্রায় ৬৯ হাজার মামলা একযোগে নিষ্পত্তি হবে। এটি যুক্তরাষ্ট্রে ট্যাল্কসংক্রান্ত মোট মামলার প্রায় ৯৯.৭৫ শতাংশ। তবে এই চুক্তি চূড়ান্ত হতে হলে বাদীপক্ষের অন্তত ৯৫ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্তের আনুষ্ঠানিক সম্মতির প্রয়োজন হবে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছিল, প্রতিষ্ঠানটির প্রস্তুত করা (যা পরবর্তীতে বাজার থেকে তুলে নেওয়া হয়) ট্যাল্কভিত্তিক পাউডার দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে নারীরা ডিম্বাশয়ের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছেন।

খনিজ পদার্থ ‘ট্যাল্ক’ একসময় প্রসাধনী ও শিশুদের পাউডারের অন্যতম প্রধান উপাদান ছিল। তবে ক্যানসারের ঝুঁকিসংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে ২০২৪ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ট্যাল্ককে ‘সম্ভবত মানুষের জন্য ক্যানসার সৃষ্টিকারী’ পদার্থ হিসেবে চিহ্নিত করে।

যদিও জনসন অ্যান্ড জনসন বরাবরই তাদের পণ্যে ক্যানসারের ঝুঁকি থাকার বিষয়টি অস্বীকার করে আসছে, তবুও আইনি চাপ ও সামাজিক উদ্বেগের মুখে প্রতিষ্ঠানটি ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এবং ২০২৩ সালে বিশ্বব্যাপী ট্যাল্কভিত্তিক পাউডার বিক্রি স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেয়।

২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত ডিম্বাশয়ের ক্যানসারে মারা যাওয়া এক নারীর পরিবারকে ৭ কোটি ২০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার রায় দেন, যা ট্যাল্ক ব্যবহারের বিরুদ্ধে প্রথম কোনো বড় আইনি আঘাত ছিল। পরবর্তীতে উচ্চ আদালত এই রায় বাতিল করলেও, এরপর থেকে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে হাজার হাজার মামলা দায়ের হতে থাকে এবং একাধিক জুরি বোর্ড ভুক্তভোগীদের পক্ষে রায় প্রদান করেন।

জনসন অ্যান্ড জনসনের মামলাসংক্রান্ত প্রধান কর্মকর্তা এরিক হাস বলেন, “এই সমঝোতার মাধ্যমে আমরা এই দীর্ঘ আইনি অধ্যায়ের চূড়ান্ত অবসান ঘটাতে চাচ্ছি।” অন্যদিকে বাদীপক্ষের আইনজীবীরা একে এক দশকের লড়াইয়ের এক ঐতিহাসিক ও ইতিবাচক সাফল্য হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের মামলা নিষ্পত্তির এই চুক্তি হলেও যুক্তরাজ্যের মামলাগুলোর ওপর এর কোনো প্রভাব পড়বে না। সেখানে প্রায় সাত হাজার ভুক্তভোগীকে কেন্দ্র করে দেশটির ইতিহাসের সর্ববৃহৎ পণ্যজনিত দায়ভার সংক্রান্ত মামলা বিচারাধীন রয়েছে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে দায়ের হওয়া ওই মামলায় অভিযোগ করা হয়—পাউডারে ক্যানসারের ঝুঁকি জেনেও বাণিজ্যিক স্বার্থে বিক্রি অব্যাহত রেখেছিল প্রতিষ্ঠানটি।

Tag :

বাবার আহাজারি: ‘ঋণ শোধ হলো না, বুক খালি হয়ে গেল’

বেবি পাউডারে ক্যানসারের ঝুঁকি: ৫.৫ বিলিয়ন ডলারে মামলা নিষ্পত্তির সিদ্ধান্ত জনসন অ্যান্ড জনসনের

আপডেট সময় ১১:৪৯:০২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

বিশ্বখ্যাত প্রসাধনী ও ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ‘জনসন অ্যান্ড জনসন’ যুক্তরাষ্ট্রে তাদের বহুল আলোচিত ট্যাল্কভিত্তিক বেবি পাউডার ব্যবহারজনিত ক্যানসারের মামলাগুলো নিষ্পত্তিতে সাড়ে পাঁচ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ৫.৫ বিলিয়ন ডলার) ক্ষতিপূরণ দিতে সম্মত হয়েছে। দশকের পর দশক ধরে চলমান হাজার হাজার মামলার ইতি টানতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বহুজাতিক কোম্পানিটি।

সোমবার জনসন অ্যান্ড জনসনের পক্ষ থেকে এই সমঝোতা চুক্তি বা নিষ্পত্তির কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়।

প্রতিষ্ঠানটি জানায়, এই বিশাল অঙ্কের সমঝোতার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্যের আদালতে বিচারাধীন প্রায় ৬৯ হাজার মামলা একযোগে নিষ্পত্তি হবে। এটি যুক্তরাষ্ট্রে ট্যাল্কসংক্রান্ত মোট মামলার প্রায় ৯৯.৭৫ শতাংশ। তবে এই চুক্তি চূড়ান্ত হতে হলে বাদীপক্ষের অন্তত ৯৫ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্তের আনুষ্ঠানিক সম্মতির প্রয়োজন হবে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছিল, প্রতিষ্ঠানটির প্রস্তুত করা (যা পরবর্তীতে বাজার থেকে তুলে নেওয়া হয়) ট্যাল্কভিত্তিক পাউডার দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে নারীরা ডিম্বাশয়ের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছেন।

খনিজ পদার্থ ‘ট্যাল্ক’ একসময় প্রসাধনী ও শিশুদের পাউডারের অন্যতম প্রধান উপাদান ছিল। তবে ক্যানসারের ঝুঁকিসংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে ২০২৪ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ট্যাল্ককে ‘সম্ভবত মানুষের জন্য ক্যানসার সৃষ্টিকারী’ পদার্থ হিসেবে চিহ্নিত করে।

যদিও জনসন অ্যান্ড জনসন বরাবরই তাদের পণ্যে ক্যানসারের ঝুঁকি থাকার বিষয়টি অস্বীকার করে আসছে, তবুও আইনি চাপ ও সামাজিক উদ্বেগের মুখে প্রতিষ্ঠানটি ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এবং ২০২৩ সালে বিশ্বব্যাপী ট্যাল্কভিত্তিক পাউডার বিক্রি স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেয়।

২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত ডিম্বাশয়ের ক্যানসারে মারা যাওয়া এক নারীর পরিবারকে ৭ কোটি ২০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার রায় দেন, যা ট্যাল্ক ব্যবহারের বিরুদ্ধে প্রথম কোনো বড় আইনি আঘাত ছিল। পরবর্তীতে উচ্চ আদালত এই রায় বাতিল করলেও, এরপর থেকে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে হাজার হাজার মামলা দায়ের হতে থাকে এবং একাধিক জুরি বোর্ড ভুক্তভোগীদের পক্ষে রায় প্রদান করেন।

জনসন অ্যান্ড জনসনের মামলাসংক্রান্ত প্রধান কর্মকর্তা এরিক হাস বলেন, “এই সমঝোতার মাধ্যমে আমরা এই দীর্ঘ আইনি অধ্যায়ের চূড়ান্ত অবসান ঘটাতে চাচ্ছি।” অন্যদিকে বাদীপক্ষের আইনজীবীরা একে এক দশকের লড়াইয়ের এক ঐতিহাসিক ও ইতিবাচক সাফল্য হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের মামলা নিষ্পত্তির এই চুক্তি হলেও যুক্তরাজ্যের মামলাগুলোর ওপর এর কোনো প্রভাব পড়বে না। সেখানে প্রায় সাত হাজার ভুক্তভোগীকে কেন্দ্র করে দেশটির ইতিহাসের সর্ববৃহৎ পণ্যজনিত দায়ভার সংক্রান্ত মামলা বিচারাধীন রয়েছে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে দায়ের হওয়া ওই মামলায় অভিযোগ করা হয়—পাউডারে ক্যানসারের ঝুঁকি জেনেও বাণিজ্যিক স্বার্থে বিক্রি অব্যাহত রেখেছিল প্রতিষ্ঠানটি।