ঢাকা ০১:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo আইনজীবী তালিকাভুক্তিতে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৫ বছর নির্ধারণ Logo অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে হুমকির নতুন মামলা, হাজির হওয়ার নির্দেশ Logo শুধু বেঞ্চ বাড়িয়ে মামলাজট কমানো সম্ভব নয়: অ্যাটর্নি জেনারেল Logo অপ্রতিম হত্যা মামলায় চার্জশিট: মোবাইল ছিনতাইয়ে বাধা দেওয়ায় খুন Logo ডিভি লটারি: বাংলাদেশিদের জন্য কী খবর, কবে আবেদন শুরু? Logo পাওয়ার অব অ্যাটর্নি কী, ক্ষমতা কতটুকু ও কতদিন কার্যকর থাকে? Logo সরকারি খরচে পৌনে ৫ লাখের বেশি মামলায় মিলল আইনি সহায়তা Logo অসচ্ছল বিচারপ্রার্থীদের আদায় করে দেওয়া হলো ৪২৫ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ Logo মালয়েশিয়ায় ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের উদ্যোগ Logo রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতি মোছা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাধার প্রতিবাদে হাইকোর্টে রিট

বেবি পাউডারে ক্যানসারের ঝুঁকি: ৫.৫ বিলিয়ন ডলারে মামলা নিষ্পত্তির সিদ্ধান্ত জনসন অ্যান্ড জনসনের

বিশ্বখ্যাত প্রসাধনী ও ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ‘জনসন অ্যান্ড জনসন’ যুক্তরাষ্ট্রে তাদের বহুল আলোচিত ট্যাল্কভিত্তিক বেবি পাউডার ব্যবহারজনিত ক্যানসারের মামলাগুলো নিষ্পত্তিতে সাড়ে পাঁচ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ৫.৫ বিলিয়ন ডলার) ক্ষতিপূরণ দিতে সম্মত হয়েছে। দশকের পর দশক ধরে চলমান হাজার হাজার মামলার ইতি টানতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বহুজাতিক কোম্পানিটি।

সোমবার জনসন অ্যান্ড জনসনের পক্ষ থেকে এই সমঝোতা চুক্তি বা নিষ্পত্তির কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়।

প্রতিষ্ঠানটি জানায়, এই বিশাল অঙ্কের সমঝোতার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্যের আদালতে বিচারাধীন প্রায় ৬৯ হাজার মামলা একযোগে নিষ্পত্তি হবে। এটি যুক্তরাষ্ট্রে ট্যাল্কসংক্রান্ত মোট মামলার প্রায় ৯৯.৭৫ শতাংশ। তবে এই চুক্তি চূড়ান্ত হতে হলে বাদীপক্ষের অন্তত ৯৫ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্তের আনুষ্ঠানিক সম্মতির প্রয়োজন হবে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছিল, প্রতিষ্ঠানটির প্রস্তুত করা (যা পরবর্তীতে বাজার থেকে তুলে নেওয়া হয়) ট্যাল্কভিত্তিক পাউডার দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে নারীরা ডিম্বাশয়ের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছেন।

খনিজ পদার্থ ‘ট্যাল্ক’ একসময় প্রসাধনী ও শিশুদের পাউডারের অন্যতম প্রধান উপাদান ছিল। তবে ক্যানসারের ঝুঁকিসংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে ২০২৪ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ট্যাল্ককে ‘সম্ভবত মানুষের জন্য ক্যানসার সৃষ্টিকারী’ পদার্থ হিসেবে চিহ্নিত করে।

যদিও জনসন অ্যান্ড জনসন বরাবরই তাদের পণ্যে ক্যানসারের ঝুঁকি থাকার বিষয়টি অস্বীকার করে আসছে, তবুও আইনি চাপ ও সামাজিক উদ্বেগের মুখে প্রতিষ্ঠানটি ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এবং ২০২৩ সালে বিশ্বব্যাপী ট্যাল্কভিত্তিক পাউডার বিক্রি স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেয়।

২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত ডিম্বাশয়ের ক্যানসারে মারা যাওয়া এক নারীর পরিবারকে ৭ কোটি ২০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার রায় দেন, যা ট্যাল্ক ব্যবহারের বিরুদ্ধে প্রথম কোনো বড় আইনি আঘাত ছিল। পরবর্তীতে উচ্চ আদালত এই রায় বাতিল করলেও, এরপর থেকে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে হাজার হাজার মামলা দায়ের হতে থাকে এবং একাধিক জুরি বোর্ড ভুক্তভোগীদের পক্ষে রায় প্রদান করেন।

জনসন অ্যান্ড জনসনের মামলাসংক্রান্ত প্রধান কর্মকর্তা এরিক হাস বলেন, “এই সমঝোতার মাধ্যমে আমরা এই দীর্ঘ আইনি অধ্যায়ের চূড়ান্ত অবসান ঘটাতে চাচ্ছি।” অন্যদিকে বাদীপক্ষের আইনজীবীরা একে এক দশকের লড়াইয়ের এক ঐতিহাসিক ও ইতিবাচক সাফল্য হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের মামলা নিষ্পত্তির এই চুক্তি হলেও যুক্তরাজ্যের মামলাগুলোর ওপর এর কোনো প্রভাব পড়বে না। সেখানে প্রায় সাত হাজার ভুক্তভোগীকে কেন্দ্র করে দেশটির ইতিহাসের সর্ববৃহৎ পণ্যজনিত দায়ভার সংক্রান্ত মামলা বিচারাধীন রয়েছে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে দায়ের হওয়া ওই মামলায় অভিযোগ করা হয়—পাউডারে ক্যানসারের ঝুঁকি জেনেও বাণিজ্যিক স্বার্থে বিক্রি অব্যাহত রেখেছিল প্রতিষ্ঠানটি।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

আইনজীবী তালিকাভুক্তিতে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৫ বছর নির্ধারণ

বেবি পাউডারে ক্যানসারের ঝুঁকি: ৫.৫ বিলিয়ন ডলারে মামলা নিষ্পত্তির সিদ্ধান্ত জনসন অ্যান্ড জনসনের

আপডেট সময় ১১:৪৯:০২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

বিশ্বখ্যাত প্রসাধনী ও ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ‘জনসন অ্যান্ড জনসন’ যুক্তরাষ্ট্রে তাদের বহুল আলোচিত ট্যাল্কভিত্তিক বেবি পাউডার ব্যবহারজনিত ক্যানসারের মামলাগুলো নিষ্পত্তিতে সাড়ে পাঁচ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ৫.৫ বিলিয়ন ডলার) ক্ষতিপূরণ দিতে সম্মত হয়েছে। দশকের পর দশক ধরে চলমান হাজার হাজার মামলার ইতি টানতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বহুজাতিক কোম্পানিটি।

সোমবার জনসন অ্যান্ড জনসনের পক্ষ থেকে এই সমঝোতা চুক্তি বা নিষ্পত্তির কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়।

প্রতিষ্ঠানটি জানায়, এই বিশাল অঙ্কের সমঝোতার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্যের আদালতে বিচারাধীন প্রায় ৬৯ হাজার মামলা একযোগে নিষ্পত্তি হবে। এটি যুক্তরাষ্ট্রে ট্যাল্কসংক্রান্ত মোট মামলার প্রায় ৯৯.৭৫ শতাংশ। তবে এই চুক্তি চূড়ান্ত হতে হলে বাদীপক্ষের অন্তত ৯৫ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্তের আনুষ্ঠানিক সম্মতির প্রয়োজন হবে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছিল, প্রতিষ্ঠানটির প্রস্তুত করা (যা পরবর্তীতে বাজার থেকে তুলে নেওয়া হয়) ট্যাল্কভিত্তিক পাউডার দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে নারীরা ডিম্বাশয়ের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছেন।

খনিজ পদার্থ ‘ট্যাল্ক’ একসময় প্রসাধনী ও শিশুদের পাউডারের অন্যতম প্রধান উপাদান ছিল। তবে ক্যানসারের ঝুঁকিসংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে ২০২৪ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ট্যাল্ককে ‘সম্ভবত মানুষের জন্য ক্যানসার সৃষ্টিকারী’ পদার্থ হিসেবে চিহ্নিত করে।

যদিও জনসন অ্যান্ড জনসন বরাবরই তাদের পণ্যে ক্যানসারের ঝুঁকি থাকার বিষয়টি অস্বীকার করে আসছে, তবুও আইনি চাপ ও সামাজিক উদ্বেগের মুখে প্রতিষ্ঠানটি ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এবং ২০২৩ সালে বিশ্বব্যাপী ট্যাল্কভিত্তিক পাউডার বিক্রি স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেয়।

২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত ডিম্বাশয়ের ক্যানসারে মারা যাওয়া এক নারীর পরিবারকে ৭ কোটি ২০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার রায় দেন, যা ট্যাল্ক ব্যবহারের বিরুদ্ধে প্রথম কোনো বড় আইনি আঘাত ছিল। পরবর্তীতে উচ্চ আদালত এই রায় বাতিল করলেও, এরপর থেকে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে হাজার হাজার মামলা দায়ের হতে থাকে এবং একাধিক জুরি বোর্ড ভুক্তভোগীদের পক্ষে রায় প্রদান করেন।

জনসন অ্যান্ড জনসনের মামলাসংক্রান্ত প্রধান কর্মকর্তা এরিক হাস বলেন, “এই সমঝোতার মাধ্যমে আমরা এই দীর্ঘ আইনি অধ্যায়ের চূড়ান্ত অবসান ঘটাতে চাচ্ছি।” অন্যদিকে বাদীপক্ষের আইনজীবীরা একে এক দশকের লড়াইয়ের এক ঐতিহাসিক ও ইতিবাচক সাফল্য হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের মামলা নিষ্পত্তির এই চুক্তি হলেও যুক্তরাজ্যের মামলাগুলোর ওপর এর কোনো প্রভাব পড়বে না। সেখানে প্রায় সাত হাজার ভুক্তভোগীকে কেন্দ্র করে দেশটির ইতিহাসের সর্ববৃহৎ পণ্যজনিত দায়ভার সংক্রান্ত মামলা বিচারাধীন রয়েছে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে দায়ের হওয়া ওই মামলায় অভিযোগ করা হয়—পাউডারে ক্যানসারের ঝুঁকি জেনেও বাণিজ্যিক স্বার্থে বিক্রি অব্যাহত রেখেছিল প্রতিষ্ঠানটি।