ঢাকা ১২:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে হুমকির নতুন মামলা, হাজির হওয়ার নির্দেশ Logo শুধু বেঞ্চ বাড়িয়ে মামলাজট কমানো সম্ভব নয়: অ্যাটর্নি জেনারেল Logo অপ্রতিম হত্যা মামলায় চার্জশিট: মোবাইল ছিনতাইয়ে বাধা দেওয়ায় খুন Logo ডিভি লটারি: বাংলাদেশিদের জন্য কী খবর, কবে আবেদন শুরু? Logo পাওয়ার অব অ্যাটর্নি কী, ক্ষমতা কতটুকু ও কতদিন কার্যকর থাকে? Logo সরকারি খরচে পৌনে ৫ লাখের বেশি মামলায় মিলল আইনি সহায়তা Logo অসচ্ছল বিচারপ্রার্থীদের আদায় করে দেওয়া হলো ৪২৫ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ Logo মালয়েশিয়ায় ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের উদ্যোগ Logo রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতি মোছা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাধার প্রতিবাদে হাইকোর্টে রিট Logo ৩৫ বছর বয়সের পর আর আইনজীবী হওয়ার সুযোগ নেই: আইনমন্ত্রী

আবু সাঈদ হত্যা মামলা: খালাস চেয়ে আপিল বিভাগে ৪ আসামির আবেদন

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত চার আসামি খালাস চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করেছেন। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই পুলিশ সদস্য এবং পাঁচ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক দুই কর্মকর্তা রয়েছেন।

আজ বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় আসামিদের পক্ষে পৃথক এই আপিল দায়ের করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন তাঁদের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু।
খালাস চেয়ে আপিল করা চার আসামি হলেন:
১. আমির হোসেন: পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) (মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত)।
২. সুজন চন্দ্র রায়: পুলিশের সাবেক কনস্টেবল (মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত)।
৩. শরীফুল ইসলাম: বেরোবির সাবেক প্রক্টর (৫ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত)।
৪. রাফিউল হাসান রাসেল: বেরোবির সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার (৫ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত)।

আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু মামলার রায়ের বিরুদ্ধে প্রধানত দুটি ক্ষেত্রে আইনি ত্রুটি ও প্রমাণের ঘাটতির যুক্তি তুলে ধরেন:ট্রাইব্যুনালের রায়ে বলা হয়েছে আবু সাঈদ গুলিতে নিহত হয়েছেন। তবে আপিলে যুক্তি দেওয়া হয়েছে, ট্রাইব্যুনালে প্রদর্শনী হিসেবে উপস্থাপিত আবু সাঈদের পরিহিত গেঞ্জিতে গুলির কোনো প্রবেশ বা বহির্গমন চিহ্ন বা ছিদ্র নেই। এছাড়া গুলিবিদ্ধ হওয়ার সপক্ষে কোনো এক্স-রে বা রেডিওপিক টেস্টের রিপোর্টও নেই। ফলে মৃত্যুটি গুলিতেই হয়েছে কি না, তা নিয়ে আইনি সন্দেহ থেকে যায়। ফৌজদারি আইনে সন্দেহাতীতভাবে অপরাধ প্রমাণিত না হলে সর্বোচ্চ সাজা দেওয়া যায় না।

কারাদণ্ডপ্রাপ্তদের পক্ষে যুক্তি (উসকানির প্রমাণের অভাব): সাবেক প্রক্টর ও সহকারী রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে পুলিশকে উসকানি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। এর বিপরীতে আপিলে যুক্তি দেওয়া হয়েছে, পুলিশ একটি বিধিবদ্ধ আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, যা কেবল ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে চলে; কোনো প্রক্টর বা রেজিস্ট্রারের কথায় নয়। এছাড়া তাঁদের বিরুদ্ধে উসকানি দেওয়ার কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ নথিতে নেই।

এদিকে ট্রাইব্যুনালের এই রায়ের বিরুদ্ধে চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয় বা রাষ্ট্রপক্ষ কোনো আপিল করবে না বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম।

মামলার বিবরণ: ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পুলিশের গুলিতে নিহত হন আবু সাঈদ। এই হত্যাকাণ্ডের পর আন্দোলন দেশব্যাপী গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়। গত ৯ এপ্রিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বেরোবির সাবেক উপাচার্য মো. হাসিবুর রশীদসহ ৩০ জন আসামির বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করেন। রায়ে ২ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ৩ জনকে যাবজ্জীবন এবং বাকি ২৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। রায় ঘোষণার সময় ২৪ জন আসামিই পলাতক ছিলেন, যার মধ্যে গত ১৬ মে ১০ বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক উপাচার্য হাসিবুর রশীদকে গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে এ মামলার ২৩ জন আসামি পলাতক রয়েছেন। গত ১৪ জুন মামলার ৮০৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে হুমকির নতুন মামলা, হাজির হওয়ার নির্দেশ

আবু সাঈদ হত্যা মামলা: খালাস চেয়ে আপিল বিভাগে ৪ আসামির আবেদন

আপডেট সময় ১০:০৩:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত চার আসামি খালাস চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করেছেন। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই পুলিশ সদস্য এবং পাঁচ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক দুই কর্মকর্তা রয়েছেন।

আজ বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় আসামিদের পক্ষে পৃথক এই আপিল দায়ের করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন তাঁদের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু।
খালাস চেয়ে আপিল করা চার আসামি হলেন:
১. আমির হোসেন: পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) (মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত)।
২. সুজন চন্দ্র রায়: পুলিশের সাবেক কনস্টেবল (মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত)।
৩. শরীফুল ইসলাম: বেরোবির সাবেক প্রক্টর (৫ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত)।
৪. রাফিউল হাসান রাসেল: বেরোবির সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার (৫ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত)।

আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু মামলার রায়ের বিরুদ্ধে প্রধানত দুটি ক্ষেত্রে আইনি ত্রুটি ও প্রমাণের ঘাটতির যুক্তি তুলে ধরেন:ট্রাইব্যুনালের রায়ে বলা হয়েছে আবু সাঈদ গুলিতে নিহত হয়েছেন। তবে আপিলে যুক্তি দেওয়া হয়েছে, ট্রাইব্যুনালে প্রদর্শনী হিসেবে উপস্থাপিত আবু সাঈদের পরিহিত গেঞ্জিতে গুলির কোনো প্রবেশ বা বহির্গমন চিহ্ন বা ছিদ্র নেই। এছাড়া গুলিবিদ্ধ হওয়ার সপক্ষে কোনো এক্স-রে বা রেডিওপিক টেস্টের রিপোর্টও নেই। ফলে মৃত্যুটি গুলিতেই হয়েছে কি না, তা নিয়ে আইনি সন্দেহ থেকে যায়। ফৌজদারি আইনে সন্দেহাতীতভাবে অপরাধ প্রমাণিত না হলে সর্বোচ্চ সাজা দেওয়া যায় না।

কারাদণ্ডপ্রাপ্তদের পক্ষে যুক্তি (উসকানির প্রমাণের অভাব): সাবেক প্রক্টর ও সহকারী রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে পুলিশকে উসকানি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। এর বিপরীতে আপিলে যুক্তি দেওয়া হয়েছে, পুলিশ একটি বিধিবদ্ধ আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, যা কেবল ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে চলে; কোনো প্রক্টর বা রেজিস্ট্রারের কথায় নয়। এছাড়া তাঁদের বিরুদ্ধে উসকানি দেওয়ার কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ নথিতে নেই।

এদিকে ট্রাইব্যুনালের এই রায়ের বিরুদ্ধে চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয় বা রাষ্ট্রপক্ষ কোনো আপিল করবে না বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম।

মামলার বিবরণ: ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পুলিশের গুলিতে নিহত হন আবু সাঈদ। এই হত্যাকাণ্ডের পর আন্দোলন দেশব্যাপী গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়। গত ৯ এপ্রিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বেরোবির সাবেক উপাচার্য মো. হাসিবুর রশীদসহ ৩০ জন আসামির বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করেন। রায়ে ২ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ৩ জনকে যাবজ্জীবন এবং বাকি ২৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। রায় ঘোষণার সময় ২৪ জন আসামিই পলাতক ছিলেন, যার মধ্যে গত ১৬ মে ১০ বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক উপাচার্য হাসিবুর রশীদকে গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে এ মামলার ২৩ জন আসামি পলাতক রয়েছেন। গত ১৪ জুন মামলার ৮০৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়।