ঢাকা ০৬:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo বাবার আহাজারি: ‘ঋণ শোধ হলো না, বুক খালি হয়ে গেল’ Logo টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক: তদন্তে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ হাইকোর্টের Logo বেবি পাউডারে ক্যানসারের ঝুঁকি: ৫.৫ বিলিয়ন ডলারে মামলা নিষ্পত্তির সিদ্ধান্ত জনসন অ্যান্ড জনসনের Logo বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর এস কে সুরের ৩ বছরের কারাদণ্ড Logo বেরোবি’র সাবেক ভিসি কলিমউল্লাহর জামিননামা মঞ্জুর, মুক্তিতে বাধা নেই Logo টুথপেস্টে ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিক: উচ্চপর্যায়ের তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট Logo বিকাশ, নগদ ও রকেটের অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জ কেন অবৈধ নয়: হাইকোর্টের রুল Logo সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে অভিযোগ যাচাই করেই সিদ্ধান্ত: আইনমন্ত্রী Logo সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনকে গ্রেপ্তারের কোনো আইনি ভিত্তি দেখছে না সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo সাবেক রাষ্ট্রপতিকে কি গ্রেপ্তার করা সম্ভব? সাংবিধানিক দায়মুক্তি ও আইনি বিতর্কের ব্যবচ্ছেদ

আবু সাঈদ হত্যা মামলা: খালাস চেয়ে আপিল বিভাগে ৪ আসামির আবেদন

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত চার আসামি খালাস চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করেছেন। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই পুলিশ সদস্য এবং পাঁচ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক দুই কর্মকর্তা রয়েছেন।

আজ বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় আসামিদের পক্ষে পৃথক এই আপিল দায়ের করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন তাঁদের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু।
খালাস চেয়ে আপিল করা চার আসামি হলেন:
১. আমির হোসেন: পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) (মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত)।
২. সুজন চন্দ্র রায়: পুলিশের সাবেক কনস্টেবল (মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত)।
৩. শরীফুল ইসলাম: বেরোবির সাবেক প্রক্টর (৫ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত)।
৪. রাফিউল হাসান রাসেল: বেরোবির সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার (৫ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত)।

আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু মামলার রায়ের বিরুদ্ধে প্রধানত দুটি ক্ষেত্রে আইনি ত্রুটি ও প্রমাণের ঘাটতির যুক্তি তুলে ধরেন:ট্রাইব্যুনালের রায়ে বলা হয়েছে আবু সাঈদ গুলিতে নিহত হয়েছেন। তবে আপিলে যুক্তি দেওয়া হয়েছে, ট্রাইব্যুনালে প্রদর্শনী হিসেবে উপস্থাপিত আবু সাঈদের পরিহিত গেঞ্জিতে গুলির কোনো প্রবেশ বা বহির্গমন চিহ্ন বা ছিদ্র নেই। এছাড়া গুলিবিদ্ধ হওয়ার সপক্ষে কোনো এক্স-রে বা রেডিওপিক টেস্টের রিপোর্টও নেই। ফলে মৃত্যুটি গুলিতেই হয়েছে কি না, তা নিয়ে আইনি সন্দেহ থেকে যায়। ফৌজদারি আইনে সন্দেহাতীতভাবে অপরাধ প্রমাণিত না হলে সর্বোচ্চ সাজা দেওয়া যায় না।

কারাদণ্ডপ্রাপ্তদের পক্ষে যুক্তি (উসকানির প্রমাণের অভাব): সাবেক প্রক্টর ও সহকারী রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে পুলিশকে উসকানি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। এর বিপরীতে আপিলে যুক্তি দেওয়া হয়েছে, পুলিশ একটি বিধিবদ্ধ আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, যা কেবল ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে চলে; কোনো প্রক্টর বা রেজিস্ট্রারের কথায় নয়। এছাড়া তাঁদের বিরুদ্ধে উসকানি দেওয়ার কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ নথিতে নেই।

এদিকে ট্রাইব্যুনালের এই রায়ের বিরুদ্ধে চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয় বা রাষ্ট্রপক্ষ কোনো আপিল করবে না বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম।

মামলার বিবরণ: ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পুলিশের গুলিতে নিহত হন আবু সাঈদ। এই হত্যাকাণ্ডের পর আন্দোলন দেশব্যাপী গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়। গত ৯ এপ্রিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বেরোবির সাবেক উপাচার্য মো. হাসিবুর রশীদসহ ৩০ জন আসামির বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করেন। রায়ে ২ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ৩ জনকে যাবজ্জীবন এবং বাকি ২৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। রায় ঘোষণার সময় ২৪ জন আসামিই পলাতক ছিলেন, যার মধ্যে গত ১৬ মে ১০ বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক উপাচার্য হাসিবুর রশীদকে গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে এ মামলার ২৩ জন আসামি পলাতক রয়েছেন। গত ১৪ জুন মামলার ৮০৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়।

Tag :

বাবার আহাজারি: ‘ঋণ শোধ হলো না, বুক খালি হয়ে গেল’

আবু সাঈদ হত্যা মামলা: খালাস চেয়ে আপিল বিভাগে ৪ আসামির আবেদন

আপডেট সময় ১০:০৩:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত চার আসামি খালাস চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করেছেন। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই পুলিশ সদস্য এবং পাঁচ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক দুই কর্মকর্তা রয়েছেন।

আজ বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় আসামিদের পক্ষে পৃথক এই আপিল দায়ের করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন তাঁদের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু।
খালাস চেয়ে আপিল করা চার আসামি হলেন:
১. আমির হোসেন: পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) (মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত)।
২. সুজন চন্দ্র রায়: পুলিশের সাবেক কনস্টেবল (মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত)।
৩. শরীফুল ইসলাম: বেরোবির সাবেক প্রক্টর (৫ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত)।
৪. রাফিউল হাসান রাসেল: বেরোবির সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার (৫ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত)।

আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু মামলার রায়ের বিরুদ্ধে প্রধানত দুটি ক্ষেত্রে আইনি ত্রুটি ও প্রমাণের ঘাটতির যুক্তি তুলে ধরেন:ট্রাইব্যুনালের রায়ে বলা হয়েছে আবু সাঈদ গুলিতে নিহত হয়েছেন। তবে আপিলে যুক্তি দেওয়া হয়েছে, ট্রাইব্যুনালে প্রদর্শনী হিসেবে উপস্থাপিত আবু সাঈদের পরিহিত গেঞ্জিতে গুলির কোনো প্রবেশ বা বহির্গমন চিহ্ন বা ছিদ্র নেই। এছাড়া গুলিবিদ্ধ হওয়ার সপক্ষে কোনো এক্স-রে বা রেডিওপিক টেস্টের রিপোর্টও নেই। ফলে মৃত্যুটি গুলিতেই হয়েছে কি না, তা নিয়ে আইনি সন্দেহ থেকে যায়। ফৌজদারি আইনে সন্দেহাতীতভাবে অপরাধ প্রমাণিত না হলে সর্বোচ্চ সাজা দেওয়া যায় না।

কারাদণ্ডপ্রাপ্তদের পক্ষে যুক্তি (উসকানির প্রমাণের অভাব): সাবেক প্রক্টর ও সহকারী রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে পুলিশকে উসকানি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। এর বিপরীতে আপিলে যুক্তি দেওয়া হয়েছে, পুলিশ একটি বিধিবদ্ধ আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, যা কেবল ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে চলে; কোনো প্রক্টর বা রেজিস্ট্রারের কথায় নয়। এছাড়া তাঁদের বিরুদ্ধে উসকানি দেওয়ার কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ নথিতে নেই।

এদিকে ট্রাইব্যুনালের এই রায়ের বিরুদ্ধে চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয় বা রাষ্ট্রপক্ষ কোনো আপিল করবে না বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম।

মামলার বিবরণ: ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পুলিশের গুলিতে নিহত হন আবু সাঈদ। এই হত্যাকাণ্ডের পর আন্দোলন দেশব্যাপী গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়। গত ৯ এপ্রিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বেরোবির সাবেক উপাচার্য মো. হাসিবুর রশীদসহ ৩০ জন আসামির বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করেন। রায়ে ২ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ৩ জনকে যাবজ্জীবন এবং বাকি ২৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। রায় ঘোষণার সময় ২৪ জন আসামিই পলাতক ছিলেন, যার মধ্যে গত ১৬ মে ১০ বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক উপাচার্য হাসিবুর রশীদকে গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে এ মামলার ২৩ জন আসামি পলাতক রয়েছেন। গত ১৪ জুন মামলার ৮০৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়।