ঢাকা ০১:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo আইনজীবী তালিকাভুক্তিতে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৫ বছর নির্ধারণ Logo অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে হুমকির নতুন মামলা, হাজির হওয়ার নির্দেশ Logo শুধু বেঞ্চ বাড়িয়ে মামলাজট কমানো সম্ভব নয়: অ্যাটর্নি জেনারেল Logo অপ্রতিম হত্যা মামলায় চার্জশিট: মোবাইল ছিনতাইয়ে বাধা দেওয়ায় খুন Logo ডিভি লটারি: বাংলাদেশিদের জন্য কী খবর, কবে আবেদন শুরু? Logo পাওয়ার অব অ্যাটর্নি কী, ক্ষমতা কতটুকু ও কতদিন কার্যকর থাকে? Logo সরকারি খরচে পৌনে ৫ লাখের বেশি মামলায় মিলল আইনি সহায়তা Logo অসচ্ছল বিচারপ্রার্থীদের আদায় করে দেওয়া হলো ৪২৫ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ Logo মালয়েশিয়ায় ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের উদ্যোগ Logo রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতি মোছা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাধার প্রতিবাদে হাইকোর্টে রিট

ডিজিটাল মাধ্যমে মাদক কেনাবেচায় সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড

সাইবার স্পেস ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অবৈধ মাদকের কারবার রুখতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। এই ধরনের অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল, ২০২৬’।

গতকাল সোমবার (১৩ জুলাই) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন। এরপর জনমত যাচাই, সংসদীয় কমিটির সুপারিশ ও সংশোধনী প্রস্তাবের ওপর আলোচনা শেষে বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়। সংশোধিত এই আইনে মূলত প্রযুক্তিনির্ভর মাদক-সংক্রান্ত সব অপরাধকে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে।

নতুন আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সাইবার স্পেস, ডিজিটাল ডিভাইস, ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মোবাইল অ্যাপ, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, ইলেকট্রনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা কিংবা অন্য কোনো ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে মাদকদ্রব্য কেনাবেচা, সরবরাহ, বিজ্ঞাপন বা এ সংক্রান্ত কোনো অবৈধ যোগাযোগ ও সহায়তা করেন, তবে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

একই সঙ্গে ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম, ই-ওয়ালেট, ভার্চুয়াল অ্যাসেট বা ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার করে মাদক লেনদেনের চেষ্টা করলেও তা অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সংঘটিত মাদক অপরাধের বিচারের ক্ষেত্রে অভিযুক্তের কাছ থেকে সরাসরি মাদক উদ্ধার হওয়া বাধ্যতামূলক নয়। ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ ও ট্র্যাকিংয়ের ভিত্তিতেই বিচার করা যাবে। এই ধরনের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে অপরাধের ধরন অনুযায়ী যেকোনো মেয়াদের কারাদণ্ড থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড এবং ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বা সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের মাধ্যমে এই অপরাধ সংঘটিত হলে অপরাধীকে যেকোনো মেয়াদের কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা যাবে।

অপরাধে ব্যবহৃত ডিজিটাল ডিভাইস, অ্যাকাউন্ট, পেমেন্ট সিস্টেম, ই-ওয়ালেট, ভার্চুয়াল সম্পদ বা ক্রিপ্টোকারেন্সি জব্দ, অপসারণ বা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ট্রাইব্যুনালকে।

নতুন বিলে মাদকপ্রবণ এলাকায় স্বতন্ত্র ‘মাদক অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল’ গঠনের বিধান পুনর্বহাল করার পাশাপাশি নিয়মিত আদালতেও বিচার চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। এছাড়া কার্যকর অভিযান পরিচালনার সুবিধার্থে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে নিজস্ব ‘ডগ স্কোয়াড’ গঠন এবং আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৮ সালের অক্টোবর মাসে পাস হওয়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ২০০ গ্রামের বেশি ইয়াবা অথবা ২৫ গ্রামের বেশি হেরোইন বা কোকেন বহনের দায়ে সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছিল। এবার সেই আইনের পরিধি বাড়িয়ে ডিজিটাল মাধ্যমকেও এর অন্তর্ভুক্ত করা হলো।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

আইনজীবী তালিকাভুক্তিতে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৫ বছর নির্ধারণ

ডিজিটাল মাধ্যমে মাদক কেনাবেচায় সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড

আপডেট সময় ১০:১০:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

সাইবার স্পেস ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অবৈধ মাদকের কারবার রুখতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। এই ধরনের অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল, ২০২৬’।

গতকাল সোমবার (১৩ জুলাই) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন। এরপর জনমত যাচাই, সংসদীয় কমিটির সুপারিশ ও সংশোধনী প্রস্তাবের ওপর আলোচনা শেষে বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়। সংশোধিত এই আইনে মূলত প্রযুক্তিনির্ভর মাদক-সংক্রান্ত সব অপরাধকে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে।

নতুন আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সাইবার স্পেস, ডিজিটাল ডিভাইস, ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মোবাইল অ্যাপ, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, ইলেকট্রনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা কিংবা অন্য কোনো ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে মাদকদ্রব্য কেনাবেচা, সরবরাহ, বিজ্ঞাপন বা এ সংক্রান্ত কোনো অবৈধ যোগাযোগ ও সহায়তা করেন, তবে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

একই সঙ্গে ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম, ই-ওয়ালেট, ভার্চুয়াল অ্যাসেট বা ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার করে মাদক লেনদেনের চেষ্টা করলেও তা অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সংঘটিত মাদক অপরাধের বিচারের ক্ষেত্রে অভিযুক্তের কাছ থেকে সরাসরি মাদক উদ্ধার হওয়া বাধ্যতামূলক নয়। ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ ও ট্র্যাকিংয়ের ভিত্তিতেই বিচার করা যাবে। এই ধরনের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে অপরাধের ধরন অনুযায়ী যেকোনো মেয়াদের কারাদণ্ড থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড এবং ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বা সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের মাধ্যমে এই অপরাধ সংঘটিত হলে অপরাধীকে যেকোনো মেয়াদের কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা যাবে।

অপরাধে ব্যবহৃত ডিজিটাল ডিভাইস, অ্যাকাউন্ট, পেমেন্ট সিস্টেম, ই-ওয়ালেট, ভার্চুয়াল সম্পদ বা ক্রিপ্টোকারেন্সি জব্দ, অপসারণ বা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ট্রাইব্যুনালকে।

নতুন বিলে মাদকপ্রবণ এলাকায় স্বতন্ত্র ‘মাদক অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল’ গঠনের বিধান পুনর্বহাল করার পাশাপাশি নিয়মিত আদালতেও বিচার চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। এছাড়া কার্যকর অভিযান পরিচালনার সুবিধার্থে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে নিজস্ব ‘ডগ স্কোয়াড’ গঠন এবং আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৮ সালের অক্টোবর মাসে পাস হওয়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ২০০ গ্রামের বেশি ইয়াবা অথবা ২৫ গ্রামের বেশি হেরোইন বা কোকেন বহনের দায়ে সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছিল। এবার সেই আইনের পরিধি বাড়িয়ে ডিজিটাল মাধ্যমকেও এর অন্তর্ভুক্ত করা হলো।