ঢাকা ০৬:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo বাবার আহাজারি: ‘ঋণ শোধ হলো না, বুক খালি হয়ে গেল’ Logo টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক: তদন্তে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ হাইকোর্টের Logo বেবি পাউডারে ক্যানসারের ঝুঁকি: ৫.৫ বিলিয়ন ডলারে মামলা নিষ্পত্তির সিদ্ধান্ত জনসন অ্যান্ড জনসনের Logo বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর এস কে সুরের ৩ বছরের কারাদণ্ড Logo বেরোবি’র সাবেক ভিসি কলিমউল্লাহর জামিননামা মঞ্জুর, মুক্তিতে বাধা নেই Logo টুথপেস্টে ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিক: উচ্চপর্যায়ের তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট Logo বিকাশ, নগদ ও রকেটের অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জ কেন অবৈধ নয়: হাইকোর্টের রুল Logo সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে অভিযোগ যাচাই করেই সিদ্ধান্ত: আইনমন্ত্রী Logo সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনকে গ্রেপ্তারের কোনো আইনি ভিত্তি দেখছে না সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo সাবেক রাষ্ট্রপতিকে কি গ্রেপ্তার করা সম্ভব? সাংবিধানিক দায়মুক্তি ও আইনি বিতর্কের ব্যবচ্ছেদ

ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার: জীবনী, কর্মজীবন ও আইনাঙ্গনে অবদান

জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার, বাংলাদেশের সাবেক অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ও প্রথিতযশা আইনজীবী ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার আজ ১২ জুলাই ২০২৬, রোববার ভোর ৪টা ১৯ মিনিটে রাজধানীর শ্যামলীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর। দীর্ঘ প্রায় ছয় দশকের রাজনৈতিক ও আইনি জীবনে তিনি বাংলাদেশের সাংবিধানিক ও সংসদীয় ইতিহাসে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

জন্ম, শিক্ষা ও আইন পেশা

জমির উদ্দিন সরকার ১৯৩১ সালের ১ ডিসেম্বর পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার নয়াবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মরহুম মৌলভী আলী বক্স এবং মাতা বেগম ফখরুন্নেসা। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ ও এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর ১৯৬১ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে যান এবং লন্ডনের বিখ্যাত লিংকনস ইন থেকে ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল ডিগ্রি অর্জন করেন। দেশে ফিরে তিনি ঢাকা হাইকোর্টে আইন পেশা শুরু করেন।

আইন পেশায় জমির উদ্দিন সরকার বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে সংবিধান, দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইনের একজন খ্যাতিমান বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিতি অর্জন করেন এবং সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে তিনি সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় হাইকোর্টের যে আইনজীবীদের দলটি স্বাধীনতার পক্ষে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছিলেন, জমির উদ্দিন সরকার ছিলেন তাঁদের অন্যতম।

আইনি পাণ্ডিত্যের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৭ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তাঁকে পাঁচবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে পাঠান। এছাড়া তিনি নিজে গণতন্ত্রের উৎপত্তি ক্রমবিকাশ” (২০১২) শীর্ষক একটি গ্রন্থ রচনা করেন, যেখানে তাঁর রাজনৈতিক ও আইনি অভিজ্ঞতার প্রতিফলন ঘটেছে।

রাজনৈতিক কর্মজীবন

জিয়াউর রহমান জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল (জাগদল) গঠন করলে জমির উদ্দিন সরকার তাতে যোগ দেন এবং এর ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য হন। পরবর্তীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠিত হলে তিনি এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হন এবং আমৃত্যু দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন।

তিনি মোট চারবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন— ১৯৭৯ সালে দ্বিতীয়, ১৯৯১ সালে পঞ্চম, ১৯৯৬ সালে সপ্তম এবং ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদে। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও রাষ্ট্রপতি আবদুস সাত্তারের আমলে তিনি যথাক্রমে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার গঠনের পর তিনি প্রথমে ভূমি প্রতিমন্ত্রী ও পরে শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সালে বিএনপি পুনরায় ক্ষমতায় এলে তিনি আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন।

স্পিকার ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন

জমির উদ্দিন সরকার ২০০১ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে ২০০৯ সালের ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত অষ্টম জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ এই মেয়াদে সংসদীয় কার্যপ্রণালি পরিচালনা ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান সুসংহত করার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়।

স্পিকার থাকাকালীন সময়েই ২০০২ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী পদত্যাগ করলে, সংবিধান অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার হিসেবে জমির উদ্দিন সরকার ২১ জুন থেকে ৬ সেপ্টেম্বর ২০০২ পর্যন্ত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত (অস্থায়ী) রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই সময়ে সাংবিধানিক শূন্যতা এড়িয়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য ছিল।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক অবদান

১৯৯০ সালে তিনি নিজ জেলা পঞ্চগড়ে ‘ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার কলেজিয়েট ইনস্টিটিউট’ প্রতিষ্ঠা করেন, যা স্থানীয় পর্যায়ে শিক্ষা বিস্তারে এখনো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

মৃত্যু ও শোক

আজ ভোরে তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালসহ বিভিন্ন মহল থেকে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর শোকবার্তায় গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান সুসংহতকরণ, সংসদীয় সংস্কৃতির বিকাশ এবং জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র পরিচালনায় তাঁর দীর্ঘদিনের অবদানের কথা বিশেষভাবে স্মরণ করা হয়। পারিবারিক সূত্র ও জাতীয় সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, জানাজা শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর দাফনকার্য সম্পন্ন হবে।

আইনজীবী থেকে মন্ত্রী, স্পিকার এবং সবশেষে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে অস্থায়ীভাবে অধিষ্ঠিত হওয়া— ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের কর্মজীবন বাংলাদেশের আইনি ও রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গৌরবময় অধ্যায়। বিশেষত ২০০২ সালে সাংবিধানিক সংকটকালে তাঁর ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন এবং দীর্ঘকাল স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালনের গৌরব তাঁকে দেশের সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার একজন অবিসংবাদিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

 

Tag :

বাবার আহাজারি: ‘ঋণ শোধ হলো না, বুক খালি হয়ে গেল’

ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার: জীবনী, কর্মজীবন ও আইনাঙ্গনে অবদান

আপডেট সময় ১১:১৫:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার, বাংলাদেশের সাবেক অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ও প্রথিতযশা আইনজীবী ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার আজ ১২ জুলাই ২০২৬, রোববার ভোর ৪টা ১৯ মিনিটে রাজধানীর শ্যামলীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর। দীর্ঘ প্রায় ছয় দশকের রাজনৈতিক ও আইনি জীবনে তিনি বাংলাদেশের সাংবিধানিক ও সংসদীয় ইতিহাসে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

জন্ম, শিক্ষা ও আইন পেশা

জমির উদ্দিন সরকার ১৯৩১ সালের ১ ডিসেম্বর পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার নয়াবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মরহুম মৌলভী আলী বক্স এবং মাতা বেগম ফখরুন্নেসা। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ ও এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর ১৯৬১ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে যান এবং লন্ডনের বিখ্যাত লিংকনস ইন থেকে ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল ডিগ্রি অর্জন করেন। দেশে ফিরে তিনি ঢাকা হাইকোর্টে আইন পেশা শুরু করেন।

আইন পেশায় জমির উদ্দিন সরকার বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে সংবিধান, দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইনের একজন খ্যাতিমান বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিতি অর্জন করেন এবং সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে তিনি সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় হাইকোর্টের যে আইনজীবীদের দলটি স্বাধীনতার পক্ষে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছিলেন, জমির উদ্দিন সরকার ছিলেন তাঁদের অন্যতম।

আইনি পাণ্ডিত্যের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৭ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তাঁকে পাঁচবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে পাঠান। এছাড়া তিনি নিজে গণতন্ত্রের উৎপত্তি ক্রমবিকাশ” (২০১২) শীর্ষক একটি গ্রন্থ রচনা করেন, যেখানে তাঁর রাজনৈতিক ও আইনি অভিজ্ঞতার প্রতিফলন ঘটেছে।

রাজনৈতিক কর্মজীবন

জিয়াউর রহমান জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল (জাগদল) গঠন করলে জমির উদ্দিন সরকার তাতে যোগ দেন এবং এর ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য হন। পরবর্তীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠিত হলে তিনি এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হন এবং আমৃত্যু দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন।

তিনি মোট চারবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন— ১৯৭৯ সালে দ্বিতীয়, ১৯৯১ সালে পঞ্চম, ১৯৯৬ সালে সপ্তম এবং ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদে। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও রাষ্ট্রপতি আবদুস সাত্তারের আমলে তিনি যথাক্রমে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার গঠনের পর তিনি প্রথমে ভূমি প্রতিমন্ত্রী ও পরে শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সালে বিএনপি পুনরায় ক্ষমতায় এলে তিনি আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন।

স্পিকার ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন

জমির উদ্দিন সরকার ২০০১ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে ২০০৯ সালের ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত অষ্টম জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ এই মেয়াদে সংসদীয় কার্যপ্রণালি পরিচালনা ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান সুসংহত করার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়।

স্পিকার থাকাকালীন সময়েই ২০০২ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী পদত্যাগ করলে, সংবিধান অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার হিসেবে জমির উদ্দিন সরকার ২১ জুন থেকে ৬ সেপ্টেম্বর ২০০২ পর্যন্ত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত (অস্থায়ী) রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই সময়ে সাংবিধানিক শূন্যতা এড়িয়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য ছিল।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক অবদান

১৯৯০ সালে তিনি নিজ জেলা পঞ্চগড়ে ‘ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার কলেজিয়েট ইনস্টিটিউট’ প্রতিষ্ঠা করেন, যা স্থানীয় পর্যায়ে শিক্ষা বিস্তারে এখনো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

মৃত্যু ও শোক

আজ ভোরে তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালসহ বিভিন্ন মহল থেকে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর শোকবার্তায় গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান সুসংহতকরণ, সংসদীয় সংস্কৃতির বিকাশ এবং জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র পরিচালনায় তাঁর দীর্ঘদিনের অবদানের কথা বিশেষভাবে স্মরণ করা হয়। পারিবারিক সূত্র ও জাতীয় সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, জানাজা শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর দাফনকার্য সম্পন্ন হবে।

আইনজীবী থেকে মন্ত্রী, স্পিকার এবং সবশেষে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে অস্থায়ীভাবে অধিষ্ঠিত হওয়া— ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের কর্মজীবন বাংলাদেশের আইনি ও রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গৌরবময় অধ্যায়। বিশেষত ২০০২ সালে সাংবিধানিক সংকটকালে তাঁর ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন এবং দীর্ঘকাল স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালনের গৌরব তাঁকে দেশের সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার একজন অবিসংবাদিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।