ঢাকা ০৬:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo বাবার আহাজারি: ‘ঋণ শোধ হলো না, বুক খালি হয়ে গেল’ Logo টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক: তদন্তে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ হাইকোর্টের Logo বেবি পাউডারে ক্যানসারের ঝুঁকি: ৫.৫ বিলিয়ন ডলারে মামলা নিষ্পত্তির সিদ্ধান্ত জনসন অ্যান্ড জনসনের Logo বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর এস কে সুরের ৩ বছরের কারাদণ্ড Logo বেরোবি’র সাবেক ভিসি কলিমউল্লাহর জামিননামা মঞ্জুর, মুক্তিতে বাধা নেই Logo টুথপেস্টে ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিক: উচ্চপর্যায়ের তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট Logo বিকাশ, নগদ ও রকেটের অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জ কেন অবৈধ নয়: হাইকোর্টের রুল Logo সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে অভিযোগ যাচাই করেই সিদ্ধান্ত: আইনমন্ত্রী Logo সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনকে গ্রেপ্তারের কোনো আইনি ভিত্তি দেখছে না সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo সাবেক রাষ্ট্রপতিকে কি গ্রেপ্তার করা সম্ভব? সাংবিধানিক দায়মুক্তি ও আইনি বিতর্কের ব্যবচ্ছেদ

 ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন ২০২৬-এর খসড়া অনুমোদন: এক ছাতায় বিডা, বেজা ও পিপিপিএ

দেশে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের গতি বাড়াতে, শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করতে এবং বিনিয়োগকারীদের সেবা আরও সহজ ও সমন্বিত করার লক্ষ্যে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬’-এর খসড়ার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ১২তম বৈঠকে এই ঐতিহাসিক অনুমোদন দেওয়া হয়।

নতুন এই আইন কার্যকর হলে দেশের বিনিয়োগের সার্বিক চিত্রে আমূল পরিবর্তন আসবে এবং ওয়ান-স্টপ সার্ভিস বহুগুণ কার্যকর হবে বলে আশা করছে সরকার।

প্রস্তাবিত ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬’-এর আওতায় দেশের বিনিয়োগ খাতের শীর্ষ তিন প্রতিষ্ঠান—বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষ (পিপিপিএ)-এর কার্যক্রমকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনা হবে। এর ফলে: বিনিয়োগকারীদের অনুমোদন, নিবন্ধন ও লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ডিজিটাল ও দ্রুত হবে। আমদানি-রপ্তানি ও শুল্ক প্রণোদনা প্রাপ্তি আরও সহজ হবে। নীতিগত অসামঞ্জস্যতা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বের দ্বৈততা (ওভারল্যাপিং) দূর হবে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি আধুনিক বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ে উঠবে।

সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে ঘোষিত ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যের সঙ্গে মিল রেখে এই আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছে। এর প্রধান দিকগুলো নিম্নরূপ:

একক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম: বিনিয়োগ ও ব্যবসা-সংক্রান্ত সব ধরনের সেবা একটি ‘সিঙ্গেল উইন্ডো ক্লিয়ারেন্স’ বা একক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের আওতায় আসবে।

শিল্পাঞ্চল সমন্বয়: অর্থনৈতিক অঞ্চল, মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলসহ সব ঘোষিত শিল্পাঞ্চলকে একটি সমন্বিত গাইডলাইনের আওতায় আনা হবে।

সহজ অনুমোদন: ক্ষুদ্র পিপিপি (PPP) প্রকল্পগুলো এখন থেকে জটিল প্রক্রিয়া ছাড়াই সরাসরি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের মাধ্যমেই সহজে অনুমোদন দেওয়া যাবে।

সম্পদের সঠিক ব্যবহার: সরকারি অব্যবহৃত জমি, স্থাপনা, শেয়ার ও স্বত্ব উৎপাদনশীল এবং লাভজনক কাজে ব্যবহারের বিশেষ সুযোগ সৃষ্টি হবে।

এদিনের মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন’ ছাড়াও দেশের অর্থনীতি ও জ্বালানি খাতের জন্য আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ খসড়া প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে:

১. জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র (২০২৬-২০৩০):

এই নতুন কৌশলপত্রে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি (সবুজ শক্তি) থেকে নিশ্চিত করার বড় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

২. আমদানি নীতি আদেশ (২০২৬-২০২৯):

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের আধুনিক পদ্ধতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সামগ্রিক আমদানি প্রক্রিয়াকে আরও সহজীকরণ করা হয়েছে। এতে মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল, সেন্ট্রাল বন্ডেড ওয়্যারহাউজ, অনলাইন অনুমোদন ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের (এনআরবি) বিনিয়োগ আকর্ষণে বিশেষ নতুন সুবিধার বিধান রাখা হয়েছে।

 

Tag :

বাবার আহাজারি: ‘ঋণ শোধ হলো না, বুক খালি হয়ে গেল’

 ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন ২০২৬-এর খসড়া অনুমোদন: এক ছাতায় বিডা, বেজা ও পিপিপিএ

আপডেট সময় ০৩:০১:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

দেশে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের গতি বাড়াতে, শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করতে এবং বিনিয়োগকারীদের সেবা আরও সহজ ও সমন্বিত করার লক্ষ্যে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬’-এর খসড়ার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ১২তম বৈঠকে এই ঐতিহাসিক অনুমোদন দেওয়া হয়।

নতুন এই আইন কার্যকর হলে দেশের বিনিয়োগের সার্বিক চিত্রে আমূল পরিবর্তন আসবে এবং ওয়ান-স্টপ সার্ভিস বহুগুণ কার্যকর হবে বলে আশা করছে সরকার।

প্রস্তাবিত ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬’-এর আওতায় দেশের বিনিয়োগ খাতের শীর্ষ তিন প্রতিষ্ঠান—বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষ (পিপিপিএ)-এর কার্যক্রমকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনা হবে। এর ফলে: বিনিয়োগকারীদের অনুমোদন, নিবন্ধন ও লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ডিজিটাল ও দ্রুত হবে। আমদানি-রপ্তানি ও শুল্ক প্রণোদনা প্রাপ্তি আরও সহজ হবে। নীতিগত অসামঞ্জস্যতা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বের দ্বৈততা (ওভারল্যাপিং) দূর হবে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি আধুনিক বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ে উঠবে।

সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে ঘোষিত ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যের সঙ্গে মিল রেখে এই আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছে। এর প্রধান দিকগুলো নিম্নরূপ:

একক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম: বিনিয়োগ ও ব্যবসা-সংক্রান্ত সব ধরনের সেবা একটি ‘সিঙ্গেল উইন্ডো ক্লিয়ারেন্স’ বা একক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের আওতায় আসবে।

শিল্পাঞ্চল সমন্বয়: অর্থনৈতিক অঞ্চল, মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলসহ সব ঘোষিত শিল্পাঞ্চলকে একটি সমন্বিত গাইডলাইনের আওতায় আনা হবে।

সহজ অনুমোদন: ক্ষুদ্র পিপিপি (PPP) প্রকল্পগুলো এখন থেকে জটিল প্রক্রিয়া ছাড়াই সরাসরি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের মাধ্যমেই সহজে অনুমোদন দেওয়া যাবে।

সম্পদের সঠিক ব্যবহার: সরকারি অব্যবহৃত জমি, স্থাপনা, শেয়ার ও স্বত্ব উৎপাদনশীল এবং লাভজনক কাজে ব্যবহারের বিশেষ সুযোগ সৃষ্টি হবে।

এদিনের মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন’ ছাড়াও দেশের অর্থনীতি ও জ্বালানি খাতের জন্য আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ খসড়া প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে:

১. জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র (২০২৬-২০৩০):

এই নতুন কৌশলপত্রে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি (সবুজ শক্তি) থেকে নিশ্চিত করার বড় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

২. আমদানি নীতি আদেশ (২০২৬-২০২৯):

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের আধুনিক পদ্ধতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সামগ্রিক আমদানি প্রক্রিয়াকে আরও সহজীকরণ করা হয়েছে। এতে মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল, সেন্ট্রাল বন্ডেড ওয়্যারহাউজ, অনলাইন অনুমোদন ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের (এনআরবি) বিনিয়োগ আকর্ষণে বিশেষ নতুন সুবিধার বিধান রাখা হয়েছে।