ঢাকা ০২:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo আইনজীবী তালিকাভুক্তিতে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৫ বছর নির্ধারণ Logo অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে হুমকির নতুন মামলা, হাজির হওয়ার নির্দেশ Logo শুধু বেঞ্চ বাড়িয়ে মামলাজট কমানো সম্ভব নয়: অ্যাটর্নি জেনারেল Logo অপ্রতিম হত্যা মামলায় চার্জশিট: মোবাইল ছিনতাইয়ে বাধা দেওয়ায় খুন Logo ডিভি লটারি: বাংলাদেশিদের জন্য কী খবর, কবে আবেদন শুরু? Logo পাওয়ার অব অ্যাটর্নি কী, ক্ষমতা কতটুকু ও কতদিন কার্যকর থাকে? Logo সরকারি খরচে পৌনে ৫ লাখের বেশি মামলায় মিলল আইনি সহায়তা Logo অসচ্ছল বিচারপ্রার্থীদের আদায় করে দেওয়া হলো ৪২৫ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ Logo মালয়েশিয়ায় ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের উদ্যোগ Logo রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতি মোছা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাধার প্রতিবাদে হাইকোর্টে রিট

আইনি জটিলতা নিরসন: সরকারি প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষক নিয়োগে বাধা নেই

দীর্ঘ ১৩ বছরের আইনি জটিলতা কাটিয়ে অবশেষে দেশের প্রায় ৩২ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের পথ পরিষ্কার হয়েছে। প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই, ২০২৬) রাষ্ট্রপক্ষের আপিল মঞ্জুর করে এই ঐতিহাসিক রায় দেন। এর ফলে হাইকোর্টের আগের একটি রায় বাতিল হয়ে গেছে।

আদালতে উপস্থিত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলের বক্তব্য অনুযায়ী, সরকার ২০১৩ সালে ২৬ হাজার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অধিগ্রহণ (সরকারি) করে। তৎকালীন আইন অনুযায়ী, অধিগ্রহণ করা স্কুলের প্রধান শিক্ষকসহ সব শিক্ষকই ‘সহকারী শিক্ষক‘ হিসেবে সরকারি চাকরিতে যোগদান করেন এবং শিক্ষকরা তখন তা মেনেও নেন। ওই আইনে বলা হয়েছিল— সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত সরকারি শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা (সিরিয়াল) থাকবে ওপরে, আর অধিগ্রহণ করা শিক্ষকদের সিরিয়াল থাকবে নিচে। এছাড়া, বেসরকারি আমলের চাকরির মেয়াদের ৫০ শতাংশ সময় পেনশন ও গ্র্যাচুইটির জন্য গণনা করা হবে।

পরবর্তীতে ২০১৭ সালে অধিগ্রহণ করা শিক্ষকরা জ্যেষ্ঠতা, প্রধান শিক্ষকের স্কেল এবং শতভাগ চাকরিকাল গণনার দাবিতে হাইকোর্টে রিট করেন। ২০১৯ সালের ১১ মার্চ হাইকোর্ট শিক্ষকদের পক্ষে রায় দিয়ে সরকারের ওই জ্যেষ্ঠতা সংক্রান্ত আইনটি বাতিল করে দেন।

হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করেছিল। আজ আপিল বিভাগ রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনটি মঞ্জুর করেন এবং হাইকোর্টের রায়টি বাতিল করে দেন। এর ফলে সরকারের তৈরি করা আগের আইনটিই বহাল রইল।

অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, ২০১৩ সালে বিদ্যালয় অধিগ্রহণের সময় সংখ্যাটি ২৬ হাজার থাকলেও, গত ১৩ বছরে অনেক শিক্ষক অবসরে গেছেন। ফলে শূন্যপদ বাড়তে বাড়তে বর্তমানে তা ৩২ হাজারে দাঁড়িয়েছে।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

আইনজীবী তালিকাভুক্তিতে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৫ বছর নির্ধারণ

আইনি জটিলতা নিরসন: সরকারি প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষক নিয়োগে বাধা নেই

আপডেট সময় ১২:০৫:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

দীর্ঘ ১৩ বছরের আইনি জটিলতা কাটিয়ে অবশেষে দেশের প্রায় ৩২ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের পথ পরিষ্কার হয়েছে। প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই, ২০২৬) রাষ্ট্রপক্ষের আপিল মঞ্জুর করে এই ঐতিহাসিক রায় দেন। এর ফলে হাইকোর্টের আগের একটি রায় বাতিল হয়ে গেছে।

আদালতে উপস্থিত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলের বক্তব্য অনুযায়ী, সরকার ২০১৩ সালে ২৬ হাজার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অধিগ্রহণ (সরকারি) করে। তৎকালীন আইন অনুযায়ী, অধিগ্রহণ করা স্কুলের প্রধান শিক্ষকসহ সব শিক্ষকই ‘সহকারী শিক্ষক‘ হিসেবে সরকারি চাকরিতে যোগদান করেন এবং শিক্ষকরা তখন তা মেনেও নেন। ওই আইনে বলা হয়েছিল— সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত সরকারি শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা (সিরিয়াল) থাকবে ওপরে, আর অধিগ্রহণ করা শিক্ষকদের সিরিয়াল থাকবে নিচে। এছাড়া, বেসরকারি আমলের চাকরির মেয়াদের ৫০ শতাংশ সময় পেনশন ও গ্র্যাচুইটির জন্য গণনা করা হবে।

পরবর্তীতে ২০১৭ সালে অধিগ্রহণ করা শিক্ষকরা জ্যেষ্ঠতা, প্রধান শিক্ষকের স্কেল এবং শতভাগ চাকরিকাল গণনার দাবিতে হাইকোর্টে রিট করেন। ২০১৯ সালের ১১ মার্চ হাইকোর্ট শিক্ষকদের পক্ষে রায় দিয়ে সরকারের ওই জ্যেষ্ঠতা সংক্রান্ত আইনটি বাতিল করে দেন।

হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করেছিল। আজ আপিল বিভাগ রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনটি মঞ্জুর করেন এবং হাইকোর্টের রায়টি বাতিল করে দেন। এর ফলে সরকারের তৈরি করা আগের আইনটিই বহাল রইল।

অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, ২০১৩ সালে বিদ্যালয় অধিগ্রহণের সময় সংখ্যাটি ২৬ হাজার থাকলেও, গত ১৩ বছরে অনেক শিক্ষক অবসরে গেছেন। ফলে শূন্যপদ বাড়তে বাড়তে বর্তমানে তা ৩২ হাজারে দাঁড়িয়েছে।