ঢাকা ০৫:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo লালবাগ কেল্লা: ছুটির দিনে হারিয়ে যান মুঘল ইতিহাসের অসমাপ্ত দুর্গে Logo দুর্নীতিমুক্ত আদালত গঠনে প্রধান বিচারপতিকে এক মাসের আল্টিমেটাম Logo ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধের নির্দেশ হাইকোর্টের Logo রিট খারিজ, ছবি ছাড়া করা যাবে না জাতীয় পরিচয়পত্র Logo যুদ্ধাপরাধে মৃত্যুদণ্ড: আবুল কালাম আযাদের আপিল শুনানি ৪ সপ্তাহ মুলতবি Logo ব্যবসায়ীদের মতামত নিয়েই কোম্পানি আইন সংশোধন: বাণিজ্যমন্ত্রী Logo বাংলাভাষী মুসলিম নারীকে বাংলাদেশে পুশব্যাক:আসাম সরকারকে ২ লাখ রুপি জরিমানা Logo পাস হলো মানবাধিকার কমিশন ও গুম প্রতিকার বিল Logo সন্তানকে দানের পরও সম্পত্তিতে বাবা-মায়ের ভোগাধিকার, আইন পাস Logo বিজেএস পরীক্ষার প্রস্তুতি: সফলতার পূর্ণাঙ্গ ও ব্যবহারিক নির্দেশিকা

জন্মের পরই মিলবে ‘ডিজিটাল আইডি’: এক নম্বরেই জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সব সরকারি সেবা

একটি শিশু জন্ম নেওয়ার সাথে সাথেই তার নামে তৈরি হবে একটি ‘ইউনিফাইড ডিজিটাল আইডি’ নম্বর। এই একটিমাত্র আইডির আওতায় একজন নাগরিকের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সব ধরনের সরকারি তথ্য ও সেবা মিলবে। ফলে দেশের নাগরিকদের আর আলাদা আলাদা আইডি কার্ড ব্যবহার বা বিভিন্ন দপ্তরে বারবার তথ্য দেওয়ার ভোগান্তি পোহাতে হবে না।

প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদের চিন্তাপ্রসূত ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান ডিজিটাল আইডি, ওয়ান ওয়ালেট’ উদ্যোগের আওতায় এটি বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ। বিশ্বব্যাংক সমর্থিত ‘ডি-স্টার’ (D-STAR) প্রকল্পের আওতায় সরকারি ডিজিটাল সেবা আধুনিকায়নের এই মহাপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।

এই ডিজিটাল আইডিতে যেসব সুবিধা ও বৈশিষ্ট্য থাকবে:
হাসপাতালে কোনো শিশুর জন্ম হলে তার তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে জন্ম নিবন্ধন ব্যবস্থায় যুক্ত হবে। বাবা-মায়ের এনআইডি (NID) তথ্যের সাথে সমন্বয় করে নবজাতকের জন্য একটি স্থায়ী ডিজিটাল আইডি তৈরি হবে। (বাসায় জন্ম নেওয়া শিশুদের জন্যও থাকবে আলাদা ব্যবস্থা)। পরবর্তীতে এই একটি আইডিই শিক্ষা, স্বাস্থ্য, এনআইডি, পাসপোর্টসহ সব ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হবে।

এক প্ল্যাটফর্মে সব তথ্য: জন্ম নিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), পাসপোর্ট, স্বাস্থ্য তথ্য, শিক্ষা, ভূমিসেবা, বিআরটিএ-সহ সরকারের সব ডাটাবেজকে একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্মে আনা হবে।

স্মার্ট ‘ডিজিটাল আইডি ওয়ালেট’: প্রতিটি নাগরিকের জন্য থাকবে একটি স্মার্টফোনভিত্তিক ডিজিটাল ওয়ালেট। এই ওয়ালেটে ব্যক্তির পরিচয়পত্র, প্রয়োজনীয় ডিজিটাল ক্রেডেনশিয়াল ও সরকারি ডকুমেন্ট সংরক্ষিত থাকবে। বিভিন্ন সরকারি অ্যাপে লগইন বা সশরীরে আইডি দেখানোর বিকল্প হিসেবেও এটি ব্যবহার করা যাবে। (তবে এটি কোনো আর্থিক লেনদেনের ‘পেমেন্ট ওয়ালেট’ নয়)।

অনুমতি ছাড়া তথ্য শেয়ার নয় (সুরক্ষা): সব তথ্য এক প্ল্যাটফর্মে থাকলেও নাগরিকের অনুমতি ছাড়া কোনো তথ্য অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের সাথে শেয়ার করা হবে না। ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা আইন মেনেই এটি করা হবে। যেমন—কোথাও শুধু বয়স যাচাইয়ের প্রয়োজন হলে, নাগরিকের সম্মতিতে শুধু বয়স সংক্রান্ত তথ্যটুকুই শেয়ার করা যাবে, পুরো প্রোফাইল নয়।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই যুগান্তকারী উদ্যোগটি বর্তমানে ড্রাফট বা ধারণাপত্র (কনসেপ্ট পেপার) পর্যায়ে রয়েছে। এটি তৈরিতে এস্তেনিয়া ও সিঙ্গাপুরের সফল ‘ইউনিফাইড ডিজিটাল আইডেন্টিটি মডেল’ অনুসরণ করা হচ্ছে।

আইসিটি বিভাগের যুগ্মসচিব মুজিবুর রহমান বলেন,‘উদ্যোগটি এখন প্রাথমিক আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। কনসেপ্ট পেপার তৈরি হয়েছে এবং এটি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। জুলাই থেকেই এই প্রকল্পের প্রাথমিক কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী আড়াই থেকে তিন বছরের মধ্যে এটি পুরোপুরি রোলআউট বা চালু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।’

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ জানিয়েছেন, তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতে সংযোগ (কানেক্টিভিটি), ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার (ডিপিআই), ডেটা সেন্টার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং ইলেকট্রনিকস উৎপাদন শিল্প—এই চারটি বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এরই ধারাবাহিকতায় চলতি মাস থেকেই দেশের প্রথম ‘ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার’ প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু হবে, যার মূল ভিত্তি হবে এই ‘এক নাগরিক, এক ডিজিটাল আইডি, এক ডিজিটাল ওয়ালেট’ কাঠামো। প্রকল্পটি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে দেশের সরকারি সেবা গ্রহণ হবে আরও সহজ, দ্রুত ও সম্পূর্ণ হয়রানিমুক্ত।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

লালবাগ কেল্লা: ছুটির দিনে হারিয়ে যান মুঘল ইতিহাসের অসমাপ্ত দুর্গে

জন্মের পরই মিলবে ‘ডিজিটাল আইডি’: এক নম্বরেই জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সব সরকারি সেবা

আপডেট সময় ০৯:৪৮:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

একটি শিশু জন্ম নেওয়ার সাথে সাথেই তার নামে তৈরি হবে একটি ‘ইউনিফাইড ডিজিটাল আইডি’ নম্বর। এই একটিমাত্র আইডির আওতায় একজন নাগরিকের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সব ধরনের সরকারি তথ্য ও সেবা মিলবে। ফলে দেশের নাগরিকদের আর আলাদা আলাদা আইডি কার্ড ব্যবহার বা বিভিন্ন দপ্তরে বারবার তথ্য দেওয়ার ভোগান্তি পোহাতে হবে না।

প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদের চিন্তাপ্রসূত ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান ডিজিটাল আইডি, ওয়ান ওয়ালেট’ উদ্যোগের আওতায় এটি বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ। বিশ্বব্যাংক সমর্থিত ‘ডি-স্টার’ (D-STAR) প্রকল্পের আওতায় সরকারি ডিজিটাল সেবা আধুনিকায়নের এই মহাপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।

এই ডিজিটাল আইডিতে যেসব সুবিধা ও বৈশিষ্ট্য থাকবে:
হাসপাতালে কোনো শিশুর জন্ম হলে তার তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে জন্ম নিবন্ধন ব্যবস্থায় যুক্ত হবে। বাবা-মায়ের এনআইডি (NID) তথ্যের সাথে সমন্বয় করে নবজাতকের জন্য একটি স্থায়ী ডিজিটাল আইডি তৈরি হবে। (বাসায় জন্ম নেওয়া শিশুদের জন্যও থাকবে আলাদা ব্যবস্থা)। পরবর্তীতে এই একটি আইডিই শিক্ষা, স্বাস্থ্য, এনআইডি, পাসপোর্টসহ সব ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হবে।

এক প্ল্যাটফর্মে সব তথ্য: জন্ম নিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), পাসপোর্ট, স্বাস্থ্য তথ্য, শিক্ষা, ভূমিসেবা, বিআরটিএ-সহ সরকারের সব ডাটাবেজকে একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্মে আনা হবে।

স্মার্ট ‘ডিজিটাল আইডি ওয়ালেট’: প্রতিটি নাগরিকের জন্য থাকবে একটি স্মার্টফোনভিত্তিক ডিজিটাল ওয়ালেট। এই ওয়ালেটে ব্যক্তির পরিচয়পত্র, প্রয়োজনীয় ডিজিটাল ক্রেডেনশিয়াল ও সরকারি ডকুমেন্ট সংরক্ষিত থাকবে। বিভিন্ন সরকারি অ্যাপে লগইন বা সশরীরে আইডি দেখানোর বিকল্প হিসেবেও এটি ব্যবহার করা যাবে। (তবে এটি কোনো আর্থিক লেনদেনের ‘পেমেন্ট ওয়ালেট’ নয়)।

অনুমতি ছাড়া তথ্য শেয়ার নয় (সুরক্ষা): সব তথ্য এক প্ল্যাটফর্মে থাকলেও নাগরিকের অনুমতি ছাড়া কোনো তথ্য অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের সাথে শেয়ার করা হবে না। ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা আইন মেনেই এটি করা হবে। যেমন—কোথাও শুধু বয়স যাচাইয়ের প্রয়োজন হলে, নাগরিকের সম্মতিতে শুধু বয়স সংক্রান্ত তথ্যটুকুই শেয়ার করা যাবে, পুরো প্রোফাইল নয়।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই যুগান্তকারী উদ্যোগটি বর্তমানে ড্রাফট বা ধারণাপত্র (কনসেপ্ট পেপার) পর্যায়ে রয়েছে। এটি তৈরিতে এস্তেনিয়া ও সিঙ্গাপুরের সফল ‘ইউনিফাইড ডিজিটাল আইডেন্টিটি মডেল’ অনুসরণ করা হচ্ছে।

আইসিটি বিভাগের যুগ্মসচিব মুজিবুর রহমান বলেন,‘উদ্যোগটি এখন প্রাথমিক আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। কনসেপ্ট পেপার তৈরি হয়েছে এবং এটি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। জুলাই থেকেই এই প্রকল্পের প্রাথমিক কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী আড়াই থেকে তিন বছরের মধ্যে এটি পুরোপুরি রোলআউট বা চালু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।’

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ জানিয়েছেন, তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতে সংযোগ (কানেক্টিভিটি), ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার (ডিপিআই), ডেটা সেন্টার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং ইলেকট্রনিকস উৎপাদন শিল্প—এই চারটি বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এরই ধারাবাহিকতায় চলতি মাস থেকেই দেশের প্রথম ‘ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার’ প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু হবে, যার মূল ভিত্তি হবে এই ‘এক নাগরিক, এক ডিজিটাল আইডি, এক ডিজিটাল ওয়ালেট’ কাঠামো। প্রকল্পটি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে দেশের সরকারি সেবা গ্রহণ হবে আরও সহজ, দ্রুত ও সম্পূর্ণ হয়রানিমুক্ত।