ঢাকা ০৫:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo লালবাগ কেল্লা: ছুটির দিনে হারিয়ে যান মুঘল ইতিহাসের অসমাপ্ত দুর্গে Logo দুর্নীতিমুক্ত আদালত গঠনে প্রধান বিচারপতিকে এক মাসের আল্টিমেটাম Logo ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধের নির্দেশ হাইকোর্টের Logo রিট খারিজ, ছবি ছাড়া করা যাবে না জাতীয় পরিচয়পত্র Logo যুদ্ধাপরাধে মৃত্যুদণ্ড: আবুল কালাম আযাদের আপিল শুনানি ৪ সপ্তাহ মুলতবি Logo ব্যবসায়ীদের মতামত নিয়েই কোম্পানি আইন সংশোধন: বাণিজ্যমন্ত্রী Logo বাংলাভাষী মুসলিম নারীকে বাংলাদেশে পুশব্যাক:আসাম সরকারকে ২ লাখ রুপি জরিমানা Logo পাস হলো মানবাধিকার কমিশন ও গুম প্রতিকার বিল Logo সন্তানকে দানের পরও সম্পত্তিতে বাবা-মায়ের ভোগাধিকার, আইন পাস Logo বিজেএস পরীক্ষার প্রস্তুতি: সফলতার পূর্ণাঙ্গ ও ব্যবহারিক নির্দেশিকা

সুপ্রিম কোর্টেও ধাক্কা খেলেন ট্রাম্প: বহাল থাকল ৫০ লাখ ডলারের ক্ষতিপূরণ

যৌন নির্যাতন ও মানহানির মামলায় বড় ধরনের আইনি পরাজয় ঘটল সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের করা আপিল আবেদনটি শুনতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত (সুপ্রিম কোর্ট)। এর ফলে মার্কিন সাংবাদিক ও লেখক ই. জিন ক্যারলকে ৫০ লাখ মার্কিন ডলার (প্রায় ৬০ কোটি টাকা) ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আগের রায়টিই চূড়ান্তভাবে বহাল রইল।

প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্ট কেন এই মামলাটি গ্রহণ করেনি, সে বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয়নি। তবে আইনজীবীদের মতে, জুরির সর্বসম্মত রায় বাতিলের জন্য ট্রাম্পের সামনে এটিই ছিল শেষ আইনি পথ, যা বন্ধ হয়ে গেল।

২০২৩ সালে নিউ ইয়র্কের একটি ফেডারেল জুরি রায় দেয় যে, ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে ম্যানহাটানের একটি ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের ড্রেসিং রুমে ট্রাম্প লেখিকা ই. জিন ক্যারলকে যৌন নির্যাতন করেছিলেন। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রাম্প এই ঘটনাকে ‘ভুয়া ও গুজব’ বলে উড়িয়ে দিলে ক্যারল তার বিরুদ্ধে মানহানির মামলাও করেন।

জুরি ট্রাম্পকে দোষী সাব্যস্ত করে ক্যারলকে ৫০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। তবে নিউ ইয়র্কের ফৌজদারি আইনের সংজ্ঞা অনুযায়ী জুরিরা ‘ধর্ষণের’ অভিযোগটি গ্রহণ না করলেও, ‘যৌন নির্যাতন’ ও ‘মানহানির’ অভিযোগটি আমলে নেন।

এই রায়ের বিরুদ্ধে ট্রাম্প আপিল আদালতে যান। তার আইনজীবীদের প্রধান যুক্তি ছিল— মামলার বিচারক এমন কিছু তথ্য ও প্রমাণ উপস্থাপনের অনুমতি দিয়েছেন, যা জুরিদের প্রভাবিত করেছে। বিশেষ করে, ২০০৫ সালের বহুল আলোচিত ‘অ্যাক্সেস হলিউড’ টেপটি জুরিদের দেখানো উচিত হয়নি বলে দাবি করেন তারা, যেখানে ট্রাম্পকে নারীদের সম্মতি ছাড়া স্পর্শ করার বিষয়ে মন্তব্য করতে শোনা গিয়েছিল।

গত বছর একটি ফেডারেল আপিল আদালত ট্রাম্পের এই দাবি খারিজ করে জুরির রায় বহাল রাখে এবং জানায় নতুন করে বিচার প্রক্রিয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। এরপরই ট্রাম্প সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন।

ট্রাম্পের দাবি ছিল, তাকে রাজনৈতিকভাবে হেনস্তা করতে নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে একটি বিশেষ দেওয়ানি আইন ব্যবহার করা হয়েছে, যা বহু বছর আগের পুরনো অভিযোগের ভিত্তিতেও মামলা করার সাময়িক সুযোগ দিয়েছিল।

সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্তের পর ই. জিন ক্যারলের আইনজীবী রবার্টা কাপলান এক বিবৃতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন,”এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে জুরির রায়টিই চূড়ান্তভাবে সিলমোহর পেল। ডোনাল্ড ট্রাম্প যে ক্যারলকে যৌন নিপীড়ন ও মানহানি করেছেন, তা এখন প্রমাণিত। একের পর এক আপিল করে নিজের কৃতকর্মের দায় এড়ানোর যে চেষ্টা ট্রাম্প করছিলেন, আজকের পর তার অবসান ঘটল।”

অন্যদিকে, রায় ঘোষণার পর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি একে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ এবং ‘হাস্যকর’ বলে মন্তব্য করেন। তিনি লেখেন, “এই মামলাটি শুধু আমার বিরুদ্ধে নয়, বরং পুরো যুক্তরাষ্ট্র ও তার মূল্যবোধের বিরুদ্ধে। একজন প্রেসিডেন্ট বা প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর সাথে এমন অবিচার চলতে দেওয়া যায় না।” তিনি এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সব শক্তি দিয়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

৮১ বছর বয়সী সাবেক কলামিস্ট ই. জিন ক্যারলকে নিয়ে পরবর্তীতে করা ট্রাম্পের অন্যান্য মানহানিকর মন্তব্যের কারণে আরেকটি পৃথক মামলায় জুরি ট্রাম্পকে আরও ৮ কোটি ৩০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। সম্প্রতি ফেডারেল বিচারকদের একটি প্যানেল সেই রায়ের বিরুদ্ধে করা ট্রাম্পের আপিলও খারিজ করে দিয়েছে। ফলে আইনি ও আর্থিক উভয় দিক থেকেই বড় ধরনের চাপে রয়েছেন এই সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

 

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

লালবাগ কেল্লা: ছুটির দিনে হারিয়ে যান মুঘল ইতিহাসের অসমাপ্ত দুর্গে

সুপ্রিম কোর্টেও ধাক্কা খেলেন ট্রাম্প: বহাল থাকল ৫০ লাখ ডলারের ক্ষতিপূরণ

আপডেট সময় ১২:২০:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

যৌন নির্যাতন ও মানহানির মামলায় বড় ধরনের আইনি পরাজয় ঘটল সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের করা আপিল আবেদনটি শুনতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত (সুপ্রিম কোর্ট)। এর ফলে মার্কিন সাংবাদিক ও লেখক ই. জিন ক্যারলকে ৫০ লাখ মার্কিন ডলার (প্রায় ৬০ কোটি টাকা) ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আগের রায়টিই চূড়ান্তভাবে বহাল রইল।

প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্ট কেন এই মামলাটি গ্রহণ করেনি, সে বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয়নি। তবে আইনজীবীদের মতে, জুরির সর্বসম্মত রায় বাতিলের জন্য ট্রাম্পের সামনে এটিই ছিল শেষ আইনি পথ, যা বন্ধ হয়ে গেল।

২০২৩ সালে নিউ ইয়র্কের একটি ফেডারেল জুরি রায় দেয় যে, ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে ম্যানহাটানের একটি ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের ড্রেসিং রুমে ট্রাম্প লেখিকা ই. জিন ক্যারলকে যৌন নির্যাতন করেছিলেন। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রাম্প এই ঘটনাকে ‘ভুয়া ও গুজব’ বলে উড়িয়ে দিলে ক্যারল তার বিরুদ্ধে মানহানির মামলাও করেন।

জুরি ট্রাম্পকে দোষী সাব্যস্ত করে ক্যারলকে ৫০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। তবে নিউ ইয়র্কের ফৌজদারি আইনের সংজ্ঞা অনুযায়ী জুরিরা ‘ধর্ষণের’ অভিযোগটি গ্রহণ না করলেও, ‘যৌন নির্যাতন’ ও ‘মানহানির’ অভিযোগটি আমলে নেন।

এই রায়ের বিরুদ্ধে ট্রাম্প আপিল আদালতে যান। তার আইনজীবীদের প্রধান যুক্তি ছিল— মামলার বিচারক এমন কিছু তথ্য ও প্রমাণ উপস্থাপনের অনুমতি দিয়েছেন, যা জুরিদের প্রভাবিত করেছে। বিশেষ করে, ২০০৫ সালের বহুল আলোচিত ‘অ্যাক্সেস হলিউড’ টেপটি জুরিদের দেখানো উচিত হয়নি বলে দাবি করেন তারা, যেখানে ট্রাম্পকে নারীদের সম্মতি ছাড়া স্পর্শ করার বিষয়ে মন্তব্য করতে শোনা গিয়েছিল।

গত বছর একটি ফেডারেল আপিল আদালত ট্রাম্পের এই দাবি খারিজ করে জুরির রায় বহাল রাখে এবং জানায় নতুন করে বিচার প্রক্রিয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। এরপরই ট্রাম্প সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন।

ট্রাম্পের দাবি ছিল, তাকে রাজনৈতিকভাবে হেনস্তা করতে নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে একটি বিশেষ দেওয়ানি আইন ব্যবহার করা হয়েছে, যা বহু বছর আগের পুরনো অভিযোগের ভিত্তিতেও মামলা করার সাময়িক সুযোগ দিয়েছিল।

সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্তের পর ই. জিন ক্যারলের আইনজীবী রবার্টা কাপলান এক বিবৃতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন,”এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে জুরির রায়টিই চূড়ান্তভাবে সিলমোহর পেল। ডোনাল্ড ট্রাম্প যে ক্যারলকে যৌন নিপীড়ন ও মানহানি করেছেন, তা এখন প্রমাণিত। একের পর এক আপিল করে নিজের কৃতকর্মের দায় এড়ানোর যে চেষ্টা ট্রাম্প করছিলেন, আজকের পর তার অবসান ঘটল।”

অন্যদিকে, রায় ঘোষণার পর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি একে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ এবং ‘হাস্যকর’ বলে মন্তব্য করেন। তিনি লেখেন, “এই মামলাটি শুধু আমার বিরুদ্ধে নয়, বরং পুরো যুক্তরাষ্ট্র ও তার মূল্যবোধের বিরুদ্ধে। একজন প্রেসিডেন্ট বা প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর সাথে এমন অবিচার চলতে দেওয়া যায় না।” তিনি এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সব শক্তি দিয়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

৮১ বছর বয়সী সাবেক কলামিস্ট ই. জিন ক্যারলকে নিয়ে পরবর্তীতে করা ট্রাম্পের অন্যান্য মানহানিকর মন্তব্যের কারণে আরেকটি পৃথক মামলায় জুরি ট্রাম্পকে আরও ৮ কোটি ৩০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। সম্প্রতি ফেডারেল বিচারকদের একটি প্যানেল সেই রায়ের বিরুদ্ধে করা ট্রাম্পের আপিলও খারিজ করে দিয়েছে। ফলে আইনি ও আর্থিক উভয় দিক থেকেই বড় ধরনের চাপে রয়েছেন এই সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট।