ঢাকা ০১:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo আইনজীবী তালিকাভুক্তিতে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৫ বছর নির্ধারণ Logo অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে হুমকির নতুন মামলা, হাজির হওয়ার নির্দেশ Logo শুধু বেঞ্চ বাড়িয়ে মামলাজট কমানো সম্ভব নয়: অ্যাটর্নি জেনারেল Logo অপ্রতিম হত্যা মামলায় চার্জশিট: মোবাইল ছিনতাইয়ে বাধা দেওয়ায় খুন Logo ডিভি লটারি: বাংলাদেশিদের জন্য কী খবর, কবে আবেদন শুরু? Logo পাওয়ার অব অ্যাটর্নি কী, ক্ষমতা কতটুকু ও কতদিন কার্যকর থাকে? Logo সরকারি খরচে পৌনে ৫ লাখের বেশি মামলায় মিলল আইনি সহায়তা Logo অসচ্ছল বিচারপ্রার্থীদের আদায় করে দেওয়া হলো ৪২৫ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ Logo মালয়েশিয়ায় ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের উদ্যোগ Logo রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতি মোছা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাধার প্রতিবাদে হাইকোর্টে রিট

সুপ্রিম কোর্টেও ধাক্কা খেলেন ট্রাম্প: বহাল থাকল ৫০ লাখ ডলারের ক্ষতিপূরণ

যৌন নির্যাতন ও মানহানির মামলায় বড় ধরনের আইনি পরাজয় ঘটল সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের করা আপিল আবেদনটি শুনতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত (সুপ্রিম কোর্ট)। এর ফলে মার্কিন সাংবাদিক ও লেখক ই. জিন ক্যারলকে ৫০ লাখ মার্কিন ডলার (প্রায় ৬০ কোটি টাকা) ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আগের রায়টিই চূড়ান্তভাবে বহাল রইল।

প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্ট কেন এই মামলাটি গ্রহণ করেনি, সে বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয়নি। তবে আইনজীবীদের মতে, জুরির সর্বসম্মত রায় বাতিলের জন্য ট্রাম্পের সামনে এটিই ছিল শেষ আইনি পথ, যা বন্ধ হয়ে গেল।

২০২৩ সালে নিউ ইয়র্কের একটি ফেডারেল জুরি রায় দেয় যে, ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে ম্যানহাটানের একটি ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের ড্রেসিং রুমে ট্রাম্প লেখিকা ই. জিন ক্যারলকে যৌন নির্যাতন করেছিলেন। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রাম্প এই ঘটনাকে ‘ভুয়া ও গুজব’ বলে উড়িয়ে দিলে ক্যারল তার বিরুদ্ধে মানহানির মামলাও করেন।

জুরি ট্রাম্পকে দোষী সাব্যস্ত করে ক্যারলকে ৫০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। তবে নিউ ইয়র্কের ফৌজদারি আইনের সংজ্ঞা অনুযায়ী জুরিরা ‘ধর্ষণের’ অভিযোগটি গ্রহণ না করলেও, ‘যৌন নির্যাতন’ ও ‘মানহানির’ অভিযোগটি আমলে নেন।

এই রায়ের বিরুদ্ধে ট্রাম্প আপিল আদালতে যান। তার আইনজীবীদের প্রধান যুক্তি ছিল— মামলার বিচারক এমন কিছু তথ্য ও প্রমাণ উপস্থাপনের অনুমতি দিয়েছেন, যা জুরিদের প্রভাবিত করেছে। বিশেষ করে, ২০০৫ সালের বহুল আলোচিত ‘অ্যাক্সেস হলিউড’ টেপটি জুরিদের দেখানো উচিত হয়নি বলে দাবি করেন তারা, যেখানে ট্রাম্পকে নারীদের সম্মতি ছাড়া স্পর্শ করার বিষয়ে মন্তব্য করতে শোনা গিয়েছিল।

গত বছর একটি ফেডারেল আপিল আদালত ট্রাম্পের এই দাবি খারিজ করে জুরির রায় বহাল রাখে এবং জানায় নতুন করে বিচার প্রক্রিয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। এরপরই ট্রাম্প সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন।

ট্রাম্পের দাবি ছিল, তাকে রাজনৈতিকভাবে হেনস্তা করতে নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে একটি বিশেষ দেওয়ানি আইন ব্যবহার করা হয়েছে, যা বহু বছর আগের পুরনো অভিযোগের ভিত্তিতেও মামলা করার সাময়িক সুযোগ দিয়েছিল।

সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্তের পর ই. জিন ক্যারলের আইনজীবী রবার্টা কাপলান এক বিবৃতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন,”এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে জুরির রায়টিই চূড়ান্তভাবে সিলমোহর পেল। ডোনাল্ড ট্রাম্প যে ক্যারলকে যৌন নিপীড়ন ও মানহানি করেছেন, তা এখন প্রমাণিত। একের পর এক আপিল করে নিজের কৃতকর্মের দায় এড়ানোর যে চেষ্টা ট্রাম্প করছিলেন, আজকের পর তার অবসান ঘটল।”

অন্যদিকে, রায় ঘোষণার পর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি একে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ এবং ‘হাস্যকর’ বলে মন্তব্য করেন। তিনি লেখেন, “এই মামলাটি শুধু আমার বিরুদ্ধে নয়, বরং পুরো যুক্তরাষ্ট্র ও তার মূল্যবোধের বিরুদ্ধে। একজন প্রেসিডেন্ট বা প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর সাথে এমন অবিচার চলতে দেওয়া যায় না।” তিনি এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সব শক্তি দিয়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

৮১ বছর বয়সী সাবেক কলামিস্ট ই. জিন ক্যারলকে নিয়ে পরবর্তীতে করা ট্রাম্পের অন্যান্য মানহানিকর মন্তব্যের কারণে আরেকটি পৃথক মামলায় জুরি ট্রাম্পকে আরও ৮ কোটি ৩০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। সম্প্রতি ফেডারেল বিচারকদের একটি প্যানেল সেই রায়ের বিরুদ্ধে করা ট্রাম্পের আপিলও খারিজ করে দিয়েছে। ফলে আইনি ও আর্থিক উভয় দিক থেকেই বড় ধরনের চাপে রয়েছেন এই সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

 

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

আইনজীবী তালিকাভুক্তিতে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৫ বছর নির্ধারণ

সুপ্রিম কোর্টেও ধাক্কা খেলেন ট্রাম্প: বহাল থাকল ৫০ লাখ ডলারের ক্ষতিপূরণ

আপডেট সময় ১২:২০:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

যৌন নির্যাতন ও মানহানির মামলায় বড় ধরনের আইনি পরাজয় ঘটল সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের করা আপিল আবেদনটি শুনতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত (সুপ্রিম কোর্ট)। এর ফলে মার্কিন সাংবাদিক ও লেখক ই. জিন ক্যারলকে ৫০ লাখ মার্কিন ডলার (প্রায় ৬০ কোটি টাকা) ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আগের রায়টিই চূড়ান্তভাবে বহাল রইল।

প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্ট কেন এই মামলাটি গ্রহণ করেনি, সে বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয়নি। তবে আইনজীবীদের মতে, জুরির সর্বসম্মত রায় বাতিলের জন্য ট্রাম্পের সামনে এটিই ছিল শেষ আইনি পথ, যা বন্ধ হয়ে গেল।

২০২৩ সালে নিউ ইয়র্কের একটি ফেডারেল জুরি রায় দেয় যে, ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে ম্যানহাটানের একটি ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের ড্রেসিং রুমে ট্রাম্প লেখিকা ই. জিন ক্যারলকে যৌন নির্যাতন করেছিলেন। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রাম্প এই ঘটনাকে ‘ভুয়া ও গুজব’ বলে উড়িয়ে দিলে ক্যারল তার বিরুদ্ধে মানহানির মামলাও করেন।

জুরি ট্রাম্পকে দোষী সাব্যস্ত করে ক্যারলকে ৫০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। তবে নিউ ইয়র্কের ফৌজদারি আইনের সংজ্ঞা অনুযায়ী জুরিরা ‘ধর্ষণের’ অভিযোগটি গ্রহণ না করলেও, ‘যৌন নির্যাতন’ ও ‘মানহানির’ অভিযোগটি আমলে নেন।

এই রায়ের বিরুদ্ধে ট্রাম্প আপিল আদালতে যান। তার আইনজীবীদের প্রধান যুক্তি ছিল— মামলার বিচারক এমন কিছু তথ্য ও প্রমাণ উপস্থাপনের অনুমতি দিয়েছেন, যা জুরিদের প্রভাবিত করেছে। বিশেষ করে, ২০০৫ সালের বহুল আলোচিত ‘অ্যাক্সেস হলিউড’ টেপটি জুরিদের দেখানো উচিত হয়নি বলে দাবি করেন তারা, যেখানে ট্রাম্পকে নারীদের সম্মতি ছাড়া স্পর্শ করার বিষয়ে মন্তব্য করতে শোনা গিয়েছিল।

গত বছর একটি ফেডারেল আপিল আদালত ট্রাম্পের এই দাবি খারিজ করে জুরির রায় বহাল রাখে এবং জানায় নতুন করে বিচার প্রক্রিয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। এরপরই ট্রাম্প সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন।

ট্রাম্পের দাবি ছিল, তাকে রাজনৈতিকভাবে হেনস্তা করতে নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে একটি বিশেষ দেওয়ানি আইন ব্যবহার করা হয়েছে, যা বহু বছর আগের পুরনো অভিযোগের ভিত্তিতেও মামলা করার সাময়িক সুযোগ দিয়েছিল।

সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্তের পর ই. জিন ক্যারলের আইনজীবী রবার্টা কাপলান এক বিবৃতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন,”এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে জুরির রায়টিই চূড়ান্তভাবে সিলমোহর পেল। ডোনাল্ড ট্রাম্প যে ক্যারলকে যৌন নিপীড়ন ও মানহানি করেছেন, তা এখন প্রমাণিত। একের পর এক আপিল করে নিজের কৃতকর্মের দায় এড়ানোর যে চেষ্টা ট্রাম্প করছিলেন, আজকের পর তার অবসান ঘটল।”

অন্যদিকে, রায় ঘোষণার পর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি একে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ এবং ‘হাস্যকর’ বলে মন্তব্য করেন। তিনি লেখেন, “এই মামলাটি শুধু আমার বিরুদ্ধে নয়, বরং পুরো যুক্তরাষ্ট্র ও তার মূল্যবোধের বিরুদ্ধে। একজন প্রেসিডেন্ট বা প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর সাথে এমন অবিচার চলতে দেওয়া যায় না।” তিনি এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সব শক্তি দিয়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

৮১ বছর বয়সী সাবেক কলামিস্ট ই. জিন ক্যারলকে নিয়ে পরবর্তীতে করা ট্রাম্পের অন্যান্য মানহানিকর মন্তব্যের কারণে আরেকটি পৃথক মামলায় জুরি ট্রাম্পকে আরও ৮ কোটি ৩০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। সম্প্রতি ফেডারেল বিচারকদের একটি প্যানেল সেই রায়ের বিরুদ্ধে করা ট্রাম্পের আপিলও খারিজ করে দিয়েছে। ফলে আইনি ও আর্থিক উভয় দিক থেকেই বড় ধরনের চাপে রয়েছেন এই সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট।