ঢাকা ০৮:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo দুদক কমিশনার নিয়োগে ৫ সদস্যের বাছাই কমিটি গঠন Logo বাংলাদেশ–মালয়েশিয়া দ্বিপক্ষীয় বৈঠক: তিন গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই Logo এলএলবিসহ ৪ পেশাদার বিষয়ে ভর্তি নিচ্ছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় Logo ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বদিউজ্জামান তপাদারের পদত্যাগ Logo আইন লঙ্ঘন করলেই ব্যাংকের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি: গভর্নর Logo “আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ইলিয়াস আলী গুমের রোমহর্ষক বর্ণনা” Logo নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন: ব্যাখ্যা, প্রয়োগ ও কার্যকারিতা Logo সোমবারই পদত্যাগ করতে পারেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার Logo যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগে আবারও হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা ইরানের Logo প্রাচীন প্রথা থেকে আধুনিক সংবিধান: বাংলাদেশের আইনের বিবর্তন কাহিনী

শিশু আয়াত হত্যা মামলা: আসামি আবীরের মৃত্যুদণ্ড, 

চট্টগ্রাম নগরের ইপিজেড এলাকায় ৫ বছরের শিশু আলিনা ইসলাম আয়াতকে অপহরণের পর শ্বাসরোধে হত্যা এবং লাশ কেটে ছয় টুকরো করার লোমহর্ষক ও আলোচিত মামলায় প্রধান আসামি মো. আবীর আলীকে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সাথে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১৭ জুন) চট্টগ্রামের ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মুহাম্মদ আলী আক্কাসের আদালত আসামির উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার পর কড়া পুলিশি পাহারায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আবীরকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

অপরাধের প্রমাণ ও আদালতের রায়

রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) জালাল উদ্দিন এবং সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) মোহাম্মদ রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী জানান, অত্যন্ত সংবেদনশীল এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ থেকে মোট ৩৩ জন সাক্ষীকে আদালতে উপস্থাপন করা হয়।

  • রায়: প্রধান আসামি আবীর আলীকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড (অনাদায়ে ১ বছর সশ্রম কারাদণ্ড)।

  • ভিত্তি: আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত রিপোর্ট, আলামত উদ্ধার এবং সাক্ষীদের জবানবন্দি পর্যালোচনা করে অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

আদালতের পর্যবেক্ষণ: ‘এই ঘটনাটি পূর্ব পরিকল্পিত, নিষ্ঠুর, নৃশংস, নির্মম এবং সমাজে আতঙ্ক সৃষ্টিকারী। আসামি ভারতীয় টেলিভিশন শো “ক্রাইম পেট্রোল” দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে এই নৃশংস অপরাধ ঘটিয়েছে।’

মুক্তিপণ থেকে লাশ ছয় টুকরো: সেই লোমহর্ষক ঘটনা

পুলিশ ও আদালত সূত্রের বিবরণ অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১৫ নভেম্বর বন্দরটিলা এলাকার বাসিন্দা সোহেল রানার ৫ বছরের শিশুকন্যা আয়াত নিখোঁজ হয়। তদন্তে নেমে পিবিআই জানতে পারে, আয়াতদের বাসার ভাড়াটে মো. আবীর আলীই ছিল এই ঘটনার মূল মাস্টারমাইন্ড। ২০২২ সালের ২৫ নভেম্বর তাকে গ্রেফতার করা হয়।

  • হত্যার কারণ: মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে আয়াতকে অপহরণ করেছিল আবীর। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সে আয়াতকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।

  • লাশ গুমের চেষ্টা: অপরাধের আলামত ও লাশ সম্পূর্ণ গুম করার উদ্দেশ্যে শিশুটির মরদেহ ধারালো অস্ত্র দিয়ে ছয়টি খণ্ড করে আবীর। এরপর খণ্ডিত অংশগুলো চট্টগ্রামের আকমল আলী রোডের স্লুইসগেট সংলগ্ন সাগরপাড় এবং পতেঙ্গার আউটার রিং রোড সংলগ্ন খালের পাশে ফেলে দেয়।

মামলার বর্তমান অবস্থা

দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর পিবিআইয়ের তৎকালীন পরিদর্শক মনোজ দে আদালতে এই মামলার চূড়ান্ত চার্জশিট জমা দেন। অভিযোগপত্রে মো. আবীর এবং তার এক কিশোর বন্ধুকে (১৭) অভিযুক্ত করা হয়।

  • সহযোগী আসামির বিচার: সহযোগী বন্ধুটি আইনানুযায়ী অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তার অংশটি আলাদাভাবে বর্তমানে শিশু আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

আইনজীবীদের মন্তব্য: টেলিভিশনের ক্রাইম শো দেখে যেভাবে ৫ বছরের একটি শিশুকে নির্মমভাবে কেটে টুকরো করা হয়েছে, এই দৃষ্টান্তমূলক রায়ের মাধ্যমে সমাজে একটি কঠোর বার্তা যাবে এবং দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে ভিকটিম আয়াতের পরিবার কাঙ্ক্ষিত ন্যায়বিচার পেল।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

দুদক কমিশনার নিয়োগে ৫ সদস্যের বাছাই কমিটি গঠন

শিশু আয়াত হত্যা মামলা: আসামি আবীরের মৃত্যুদণ্ড, 

আপডেট সময় ১২:১৯:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

চট্টগ্রাম নগরের ইপিজেড এলাকায় ৫ বছরের শিশু আলিনা ইসলাম আয়াতকে অপহরণের পর শ্বাসরোধে হত্যা এবং লাশ কেটে ছয় টুকরো করার লোমহর্ষক ও আলোচিত মামলায় প্রধান আসামি মো. আবীর আলীকে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সাথে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১৭ জুন) চট্টগ্রামের ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মুহাম্মদ আলী আক্কাসের আদালত আসামির উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার পর কড়া পুলিশি পাহারায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আবীরকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

অপরাধের প্রমাণ ও আদালতের রায়

রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) জালাল উদ্দিন এবং সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) মোহাম্মদ রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী জানান, অত্যন্ত সংবেদনশীল এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ থেকে মোট ৩৩ জন সাক্ষীকে আদালতে উপস্থাপন করা হয়।

  • রায়: প্রধান আসামি আবীর আলীকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড (অনাদায়ে ১ বছর সশ্রম কারাদণ্ড)।

  • ভিত্তি: আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত রিপোর্ট, আলামত উদ্ধার এবং সাক্ষীদের জবানবন্দি পর্যালোচনা করে অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

আদালতের পর্যবেক্ষণ: ‘এই ঘটনাটি পূর্ব পরিকল্পিত, নিষ্ঠুর, নৃশংস, নির্মম এবং সমাজে আতঙ্ক সৃষ্টিকারী। আসামি ভারতীয় টেলিভিশন শো “ক্রাইম পেট্রোল” দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে এই নৃশংস অপরাধ ঘটিয়েছে।’

মুক্তিপণ থেকে লাশ ছয় টুকরো: সেই লোমহর্ষক ঘটনা

পুলিশ ও আদালত সূত্রের বিবরণ অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১৫ নভেম্বর বন্দরটিলা এলাকার বাসিন্দা সোহেল রানার ৫ বছরের শিশুকন্যা আয়াত নিখোঁজ হয়। তদন্তে নেমে পিবিআই জানতে পারে, আয়াতদের বাসার ভাড়াটে মো. আবীর আলীই ছিল এই ঘটনার মূল মাস্টারমাইন্ড। ২০২২ সালের ২৫ নভেম্বর তাকে গ্রেফতার করা হয়।

  • হত্যার কারণ: মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে আয়াতকে অপহরণ করেছিল আবীর। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সে আয়াতকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।

  • লাশ গুমের চেষ্টা: অপরাধের আলামত ও লাশ সম্পূর্ণ গুম করার উদ্দেশ্যে শিশুটির মরদেহ ধারালো অস্ত্র দিয়ে ছয়টি খণ্ড করে আবীর। এরপর খণ্ডিত অংশগুলো চট্টগ্রামের আকমল আলী রোডের স্লুইসগেট সংলগ্ন সাগরপাড় এবং পতেঙ্গার আউটার রিং রোড সংলগ্ন খালের পাশে ফেলে দেয়।

মামলার বর্তমান অবস্থা

দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর পিবিআইয়ের তৎকালীন পরিদর্শক মনোজ দে আদালতে এই মামলার চূড়ান্ত চার্জশিট জমা দেন। অভিযোগপত্রে মো. আবীর এবং তার এক কিশোর বন্ধুকে (১৭) অভিযুক্ত করা হয়।

  • সহযোগী আসামির বিচার: সহযোগী বন্ধুটি আইনানুযায়ী অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তার অংশটি আলাদাভাবে বর্তমানে শিশু আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

আইনজীবীদের মন্তব্য: টেলিভিশনের ক্রাইম শো দেখে যেভাবে ৫ বছরের একটি শিশুকে নির্মমভাবে কেটে টুকরো করা হয়েছে, এই দৃষ্টান্তমূলক রায়ের মাধ্যমে সমাজে একটি কঠোর বার্তা যাবে এবং দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে ভিকটিম আয়াতের পরিবার কাঙ্ক্ষিত ন্যায়বিচার পেল।