ঢাকা ১২:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে হুমকির নতুন মামলা, হাজির হওয়ার নির্দেশ Logo শুধু বেঞ্চ বাড়িয়ে মামলাজট কমানো সম্ভব নয়: অ্যাটর্নি জেনারেল Logo অপ্রতিম হত্যা মামলায় চার্জশিট: মোবাইল ছিনতাইয়ে বাধা দেওয়ায় খুন Logo ডিভি লটারি: বাংলাদেশিদের জন্য কী খবর, কবে আবেদন শুরু? Logo পাওয়ার অব অ্যাটর্নি কী, ক্ষমতা কতটুকু ও কতদিন কার্যকর থাকে? Logo সরকারি খরচে পৌনে ৫ লাখের বেশি মামলায় মিলল আইনি সহায়তা Logo অসচ্ছল বিচারপ্রার্থীদের আদায় করে দেওয়া হলো ৪২৫ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ Logo মালয়েশিয়ায় ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের উদ্যোগ Logo রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতি মোছা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাধার প্রতিবাদে হাইকোর্টে রিট Logo ৩৫ বছর বয়সের পর আর আইনজীবী হওয়ার সুযোগ নেই: আইনমন্ত্রী

চট্টগ্রামে শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল: এক এজলাসে দুই বিচারক, পিপি সংকট ও জোড়াতালির বিচার ব্যবস্থা

শিশু ধর্ষণের মতো সংবেদনশীল মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে বিশেষায়িত ‘শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল’ গঠন করা হলেও চট্টগ্রামে তা চলছে চরম সংকটে। দুই বিচারকের জন্য এজলাস মাত্র একটি, নেই স্থায়ী সরকারি কৌঁসুলি (পিপি)। কর্মকর্তা-কর্মচারী সংকটের কারণে বর্তমানে ১ হাজার ৯২টি মামলা ঝুলে আছে। ফলে গত সাড়ে চার মাসে এই ট্রাইব্যুনালে মাত্র একটি মামলা নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়েছে।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ২০০০ (সংশোধিত ২০২৬) আইনের আওতায় গত ১২ জানুয়ারি থেকে চট্টগ্রামের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনের চতুর্থ তলায় এই বিশেষায়িত ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম শুরু হয়।

ট্রাইব্যুনালের মূল সংকটসমূহ

  • এজলাস জট: চট্টগ্রাম নগর ও জেলার জন্য পৃথক দুটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হলেও এজলাস দেওয়া হয়েছে মাত্র একটি। ফলে একজন বিচারক নামলে তবেই অন্যজনকে এজলাসে উঠতে হয়।

  • স্থায়ী পিপির অভাব: এই ট্রাইব্যুনালের জন্য কোনো স্থায়ী সরকারি কৌঁসুলি নেই। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ ও ২-এর পিপি-দের এখানে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।

  • জনবল সংকট: প্রশাসনিক কর্মকর্তা, বেঞ্চ সহকারী এবং জারিকারকসহ প্রয়োজনীয় কর্মকর্তা-কর্মচারীর তীব্র ঘাটতি রয়েছে।

বিচারপ্রার্থীদের দীর্ঘশ্বাস ও একটি ব্যতিক্রমী দ্রুত রায়

আলাদা ট্রাইব্যুনাল হওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবারগুলো দ্রুত বিচারের আশা করলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। যেমন— বায়েজিদ বোস্তামী এলাকার ২০২২ সালের এবং চান্দগাঁও এলাকার ২০১৯ সালের শিশুধর্ষণের মামলার বিচার আজও শেষ হয়নি।

তবে এর মধ্যেই গত বুধবার একটি ব্যতিক্রমী ও দ্রুততম রায়ের নজির সৃষ্টি হয়েছে:

  • ২৬ দিনে রায়: নগরের বাকলিয়ায় চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের মামলায় আসামি মনির হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

  • দ্রুততম ট্রায়াল: গত ২২ মে মামলা হওয়ার পর, পুলিশ ৫ দিনে তদন্ত শেষ করে ৪ জুন চার্জশিট দেয়। ৯ জুন অভিযোগ গঠনের পর মাত্র ৮ কার্যদিবসের মধ্যে এই রায় ঘোষণা করা হয়।

মামলা দ্রুত নিষ্পত্তিতে সংশ্লিষ্টদের সুপারিশ

জোড়াতালি দিয়ে চলা এই বিচার প্রক্রিয়াকে গতিশীল করতে সরকারি কৌঁসুলি এবং জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা কিছু জরুরি পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন:

১. পৃথক এজলাস: নগর ও জেলার জন্য দুটি আলাদা এজলাসের ব্যবস্থা করা। ২. স্থায়ী পিপি নিয়োগ: অতিরিক্ত দায়িত্বের ওপর নির্ভর না করে এখানে স্থায়ী সরকারি কৌঁসুলি নিয়োগ দেওয়া। ৩. সাক্ষী হাজিরা নিশ্চিতকরণ: ধার্য তারিখে বাদী, ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের আদালতে উপস্থিতি নিশ্চিত করা, কারণ সাক্ষীর অনুপস্থিতি বিচারকে দীর্ঘায়িত করে। ৪. জনবল নিয়োগ: শূন্য থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারী পদগুলো দ্রুত পূরণ করা।

আইনজীবীদের মন্তব্য: চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি আবদুস সাত্তার জানান, শিশুধর্ষণের মতো অপরাধ রুখতে দ্রুত বিচারের কোনো বিকল্প নেই। তাই এই ট্রাইব্যুনালের অবকাঠামোগত ও জনবল সংকট অবিলম্বে দূর করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে হুমকির নতুন মামলা, হাজির হওয়ার নির্দেশ

চট্টগ্রামে শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল: এক এজলাসে দুই বিচারক, পিপি সংকট ও জোড়াতালির বিচার ব্যবস্থা

আপডেট সময় ১২:৩৫:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

শিশু ধর্ষণের মতো সংবেদনশীল মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে বিশেষায়িত ‘শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল’ গঠন করা হলেও চট্টগ্রামে তা চলছে চরম সংকটে। দুই বিচারকের জন্য এজলাস মাত্র একটি, নেই স্থায়ী সরকারি কৌঁসুলি (পিপি)। কর্মকর্তা-কর্মচারী সংকটের কারণে বর্তমানে ১ হাজার ৯২টি মামলা ঝুলে আছে। ফলে গত সাড়ে চার মাসে এই ট্রাইব্যুনালে মাত্র একটি মামলা নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়েছে।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ২০০০ (সংশোধিত ২০২৬) আইনের আওতায় গত ১২ জানুয়ারি থেকে চট্টগ্রামের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনের চতুর্থ তলায় এই বিশেষায়িত ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম শুরু হয়।

ট্রাইব্যুনালের মূল সংকটসমূহ

  • এজলাস জট: চট্টগ্রাম নগর ও জেলার জন্য পৃথক দুটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হলেও এজলাস দেওয়া হয়েছে মাত্র একটি। ফলে একজন বিচারক নামলে তবেই অন্যজনকে এজলাসে উঠতে হয়।

  • স্থায়ী পিপির অভাব: এই ট্রাইব্যুনালের জন্য কোনো স্থায়ী সরকারি কৌঁসুলি নেই। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ ও ২-এর পিপি-দের এখানে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।

  • জনবল সংকট: প্রশাসনিক কর্মকর্তা, বেঞ্চ সহকারী এবং জারিকারকসহ প্রয়োজনীয় কর্মকর্তা-কর্মচারীর তীব্র ঘাটতি রয়েছে।

বিচারপ্রার্থীদের দীর্ঘশ্বাস ও একটি ব্যতিক্রমী দ্রুত রায়

আলাদা ট্রাইব্যুনাল হওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবারগুলো দ্রুত বিচারের আশা করলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। যেমন— বায়েজিদ বোস্তামী এলাকার ২০২২ সালের এবং চান্দগাঁও এলাকার ২০১৯ সালের শিশুধর্ষণের মামলার বিচার আজও শেষ হয়নি।

তবে এর মধ্যেই গত বুধবার একটি ব্যতিক্রমী ও দ্রুততম রায়ের নজির সৃষ্টি হয়েছে:

  • ২৬ দিনে রায়: নগরের বাকলিয়ায় চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের মামলায় আসামি মনির হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

  • দ্রুততম ট্রায়াল: গত ২২ মে মামলা হওয়ার পর, পুলিশ ৫ দিনে তদন্ত শেষ করে ৪ জুন চার্জশিট দেয়। ৯ জুন অভিযোগ গঠনের পর মাত্র ৮ কার্যদিবসের মধ্যে এই রায় ঘোষণা করা হয়।

মামলা দ্রুত নিষ্পত্তিতে সংশ্লিষ্টদের সুপারিশ

জোড়াতালি দিয়ে চলা এই বিচার প্রক্রিয়াকে গতিশীল করতে সরকারি কৌঁসুলি এবং জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা কিছু জরুরি পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন:

১. পৃথক এজলাস: নগর ও জেলার জন্য দুটি আলাদা এজলাসের ব্যবস্থা করা। ২. স্থায়ী পিপি নিয়োগ: অতিরিক্ত দায়িত্বের ওপর নির্ভর না করে এখানে স্থায়ী সরকারি কৌঁসুলি নিয়োগ দেওয়া। ৩. সাক্ষী হাজিরা নিশ্চিতকরণ: ধার্য তারিখে বাদী, ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের আদালতে উপস্থিতি নিশ্চিত করা, কারণ সাক্ষীর অনুপস্থিতি বিচারকে দীর্ঘায়িত করে। ৪. জনবল নিয়োগ: শূন্য থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারী পদগুলো দ্রুত পূরণ করা।

আইনজীবীদের মন্তব্য: চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি আবদুস সাত্তার জানান, শিশুধর্ষণের মতো অপরাধ রুখতে দ্রুত বিচারের কোনো বিকল্প নেই। তাই এই ট্রাইব্যুনালের অবকাঠামোগত ও জনবল সংকট অবিলম্বে দূর করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।