১১ কোটি টাকারও বেশি জ্ঞাত আয়বহির্ভূত অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে আরও চারজনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এ নিয়ে মামলাটিতে মোট ২৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হলো।
আজ মঙ্গলবার (২৩ জুন) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক আব্দুল্লাহ আল মামুনের আদালতে এই চারজন সাক্ষ্য দেন। আদালত পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ১ জুলাই দিন ধার্য করেছেন।
দুদকের প্রসিকিউটর মীর আহমেদ আলী সালাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আজ আদালতে যে চারজন সাক্ষ্য দিয়েছেন তাঁরা হলেন: ১. মো. সোহেল মিয়া (প্রধান সহকারী, কর কমিশনার কার্যালয়, নরসিংদী) ২. মো. রিয়াজুল ইসলাম (সাব-রেজিস্ট্রার, সোনারগাঁও) ৩. আসেফ আয়নান বখস (উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী, গণপূর্ত বিভাগ) ৪. সিরাজুল হক (উপপরিচালক, দুদক)
প্রসিকিউটর মীর আহমেদ আলী সালাম আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পর থেকে আজ পর্যন্ত আটজনের সাক্ষ্য শেষ হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বেনজীরকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে শাস্তির মুখোমুখি করা হবে।” এর আগে গত ২০ মে মামলাটিতে আরও চারজন সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। গত ৩ মে আদালত অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বেনজীরের আনুষ্ঠানিক বিচার শুরুর আদেশ দেন।
দুদকের উপপরিচালক হাফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর এই মামলাটি করেন। তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে দুদক।
অভিযোগপত্রের তথ্য অনুযায়ী, সম্পদ বিবরণীতে তিনি ৬ কোটি ৪৫ লাখ টাকার স্থাবর ও ৫ কোটি ৭৪ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদের ঘোষণা দেন। দুদকের তদন্তে তাঁর নামে ৭ কোটি ৫২ লাখ টাকার স্থাবর এবং ৮ কোটি ১৫ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদসহ মোট ১৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকার সম্পদের প্রমাণ মেলে। বেনজীরের বৈধ নিট সঞ্চয় ছিল ৪ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। ফলে তিনি ও তাঁর পরিবার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত মোট ১১ কোটি ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৫৭৬ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন।
অবৈধ সম্পদ অর্জন ছাড়াও সাবেক এই আইজিপির বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আরও পাঁচটি মামলা করেছে। এর মধ্যে দুই মামলায় বেনজীর প্রধান আসামি এবং স্ত্রী-সন্তানদের নামে হওয়া বাকি তিন মামলায় তিনি সহযোগী আসামি। মামলাগুলো বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।
- পাসপোর্ট জালিয়াতি মামলা (১৪ অক্টোবর, ২০২৪): সরকারি চাকরিতে থেকেও নিজেকে বেসরকারি চাকরিজীবী দেখিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে পাসপোর্ট তৈরির অভিযোগে বেনজীরসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা।
- অর্থ পাচার মামলা (২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫): বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগে বেনজীর আহমেদ, তাঁর স্ত্রী জীশান মির্জা এবং দুই মেয়ে ফারহিন রিশতা ও তাহসিন রাইসার বিরুদ্ধে মামলা।
- স্ত্রী ও কন্যাদের নামে পৃথক ৩ মামলা (১৫ ডিসেম্বর, ২০২৪): অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে বেনজীরের স্ত্রী জীশান মির্জা এবং দুই মেয়ের বিরুদ্ধে পৃথক ৩টি মামলা করে দুদক, যাতে বেনজীরকে সহযোগী আসামি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার এবং র্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক 
















