ঢাকা ০১:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo আইনজীবী তালিকাভুক্তিতে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৫ বছর নির্ধারণ Logo অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে হুমকির নতুন মামলা, হাজির হওয়ার নির্দেশ Logo শুধু বেঞ্চ বাড়িয়ে মামলাজট কমানো সম্ভব নয়: অ্যাটর্নি জেনারেল Logo অপ্রতিম হত্যা মামলায় চার্জশিট: মোবাইল ছিনতাইয়ে বাধা দেওয়ায় খুন Logo ডিভি লটারি: বাংলাদেশিদের জন্য কী খবর, কবে আবেদন শুরু? Logo পাওয়ার অব অ্যাটর্নি কী, ক্ষমতা কতটুকু ও কতদিন কার্যকর থাকে? Logo সরকারি খরচে পৌনে ৫ লাখের বেশি মামলায় মিলল আইনি সহায়তা Logo অসচ্ছল বিচারপ্রার্থীদের আদায় করে দেওয়া হলো ৪২৫ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ Logo মালয়েশিয়ায় ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের উদ্যোগ Logo রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতি মোছা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাধার প্রতিবাদে হাইকোর্টে রিট

মোজাফফর হোসেনের বিচার হবে সেনা আইনে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার আসামি অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোজাফফর হোসেনকে সেনা আইনে বিচারের জন্য সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। জেনারেল কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে তাঁর বিচার হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনের সহযোগীদের বিচার আগেই সামরিক আদালতে সম্পন্ন হয়েছে। সেই বিচারে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ (ফাইন্ডিংস) রয়েছে। একই মামলায় আগে যাঁরা দণ্ডিত বা যাাঁদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে, সেই রায়ের আলোকে তাঁর বিষয়ে কোনো পর্যবেক্ষণ রয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী জেনারেল কোর্ট মার্শাল বিবেচনা করবে। এখনই তাঁকে সিভিল আইনে নতুন করে একই মামলায় অভিযুক্ত করা আইনসম্মত হবে কি না, সেটিও তখনই নির্ধারণ করা হবে।”

প্রসঙ্গতঃ গত ১৫ জুলাই রাজধানীর বনানী ডিওএইচএস এলাকা থেকে মোজাফফর হোসেনকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে সরকারের নির্দেশে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সামরিক হেলিকপ্টারে করে রোববার তাঁকে ঢাকায় আনা হয়।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর থেকে দীর্ঘ ৪৫ বছর পলাতক ছিলেন মোজাফফর হোসেন। তিনি দীর্ঘ সময় ভারতে আত্মগোপনে ছিলেন। ১৯৯৭-৯৮ সালের দিকে সেখানে অবস্থানকালে তিনি ছদ্মনাম ব্যবহার করে সীমান্ত অতিক্রমের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের সময় মেজর মোজাফফরই প্রথম জিয়াউর রহমানকে শনাক্ত করেন এবং তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালান।

এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তৎকালীন সামরিক ট্রাইব্যুনালে ১৮ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিচার অনুষ্ঠিত হয়; যার মধ্যে ১৩ জনের মৃত্যুদণ্ড এবং ৫ জনের বিভিন্ন মেয়াদের সাজা হয়। তবে মেজর মোজাফফর ও মেজর খালেদ দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন।

সীমান্তে ‘পুশইন’ ও অনুপ্রবেশ প্রতিহত
একই অনুষ্ঠানে সীমান্ত পরিস্থিতি ও পুশইন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমরা একজনকেও অবৈধভাবে বাংলাদেশে পুশইন হতে দিইনি। বিজিবি ও স্থানীয় জনগণের সহায়তায় এখন পর্যন্ত তা সফলভাবে ঠেকানো সম্ভব হয়েছে। তবে কিছু অবৈধ অনুপ্রবেশকারীর বিষয়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশে কোনো বাংলাদেশী নাগরিক থাকলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়ম অনুযায়ী তাদের তালিকা দিতে হবে। পরে তাঁদের জাতীয়তা যাচাই-বাছাই করে সত্যতা পাওয়া গেলে আইনি প্রক্রিয়ায় দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। এছাড়া অন্য কোনো উপায়ে কাউকেই প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

আইনজীবী তালিকাভুক্তিতে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৫ বছর নির্ধারণ

মোজাফফর হোসেনের বিচার হবে সেনা আইনে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৭:১৫:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার আসামি অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোজাফফর হোসেনকে সেনা আইনে বিচারের জন্য সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। জেনারেল কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে তাঁর বিচার হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনের সহযোগীদের বিচার আগেই সামরিক আদালতে সম্পন্ন হয়েছে। সেই বিচারে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ (ফাইন্ডিংস) রয়েছে। একই মামলায় আগে যাঁরা দণ্ডিত বা যাাঁদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে, সেই রায়ের আলোকে তাঁর বিষয়ে কোনো পর্যবেক্ষণ রয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী জেনারেল কোর্ট মার্শাল বিবেচনা করবে। এখনই তাঁকে সিভিল আইনে নতুন করে একই মামলায় অভিযুক্ত করা আইনসম্মত হবে কি না, সেটিও তখনই নির্ধারণ করা হবে।”

প্রসঙ্গতঃ গত ১৫ জুলাই রাজধানীর বনানী ডিওএইচএস এলাকা থেকে মোজাফফর হোসেনকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে সরকারের নির্দেশে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সামরিক হেলিকপ্টারে করে রোববার তাঁকে ঢাকায় আনা হয়।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর থেকে দীর্ঘ ৪৫ বছর পলাতক ছিলেন মোজাফফর হোসেন। তিনি দীর্ঘ সময় ভারতে আত্মগোপনে ছিলেন। ১৯৯৭-৯৮ সালের দিকে সেখানে অবস্থানকালে তিনি ছদ্মনাম ব্যবহার করে সীমান্ত অতিক্রমের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের সময় মেজর মোজাফফরই প্রথম জিয়াউর রহমানকে শনাক্ত করেন এবং তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালান।

এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তৎকালীন সামরিক ট্রাইব্যুনালে ১৮ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিচার অনুষ্ঠিত হয়; যার মধ্যে ১৩ জনের মৃত্যুদণ্ড এবং ৫ জনের বিভিন্ন মেয়াদের সাজা হয়। তবে মেজর মোজাফফর ও মেজর খালেদ দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন।

সীমান্তে ‘পুশইন’ ও অনুপ্রবেশ প্রতিহত
একই অনুষ্ঠানে সীমান্ত পরিস্থিতি ও পুশইন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমরা একজনকেও অবৈধভাবে বাংলাদেশে পুশইন হতে দিইনি। বিজিবি ও স্থানীয় জনগণের সহায়তায় এখন পর্যন্ত তা সফলভাবে ঠেকানো সম্ভব হয়েছে। তবে কিছু অবৈধ অনুপ্রবেশকারীর বিষয়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশে কোনো বাংলাদেশী নাগরিক থাকলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়ম অনুযায়ী তাদের তালিকা দিতে হবে। পরে তাঁদের জাতীয়তা যাচাই-বাছাই করে সত্যতা পাওয়া গেলে আইনি প্রক্রিয়ায় দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। এছাড়া অন্য কোনো উপায়ে কাউকেই প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।