ঢাকা ০২:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo আইনজীবী তালিকাভুক্তিতে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৫ বছর নির্ধারণ Logo অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে হুমকির নতুন মামলা, হাজির হওয়ার নির্দেশ Logo শুধু বেঞ্চ বাড়িয়ে মামলাজট কমানো সম্ভব নয়: অ্যাটর্নি জেনারেল Logo অপ্রতিম হত্যা মামলায় চার্জশিট: মোবাইল ছিনতাইয়ে বাধা দেওয়ায় খুন Logo ডিভি লটারি: বাংলাদেশিদের জন্য কী খবর, কবে আবেদন শুরু? Logo পাওয়ার অব অ্যাটর্নি কী, ক্ষমতা কতটুকু ও কতদিন কার্যকর থাকে? Logo সরকারি খরচে পৌনে ৫ লাখের বেশি মামলায় মিলল আইনি সহায়তা Logo অসচ্ছল বিচারপ্রার্থীদের আদায় করে দেওয়া হলো ৪২৫ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ Logo মালয়েশিয়ায় ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের উদ্যোগ Logo রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতি মোছা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাধার প্রতিবাদে হাইকোর্টে রিট

তালাকের অজুহাতে নাবালক সন্তানের ভরণপোষণ এড়ানো যাবে না: হাইকোর্ট

আইন অনুযায়ী প্রমাণিত বা কার্যকর নয় এমন তালাকের অজুহাতে স্ত্রী ও নাবালক সন্তানের ভরণপোষণ কিংবা দেনমোহরের ডিক্রি (রায়) বাস্তবায়ন বন্ধ করা যাবে না বলে যুগান্তকারী রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত স্পষ্ট করে বলেছেন, নাবালক সন্তানের ভরণপোষণ কোনোভাবেই মা-বাবার তালাক সংক্রান্ত বিরোধের ওপর নির্ভরশীল নয়; এটি শিশুর একটি স্বাধীন ও স্বতন্ত্র আইনগত অধিকার। সম্প্রতি বিচারপতি আবদুর রহমানের একক বেঞ্চ থেকে দেওয়া এই রায়ের অনুলিপি আজ বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) প্রকাশ পায়।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০১১ সালে এই দম্পতির বিবাহ হয়। পরবর্তীতে স্ত্রী তাঁর নিজের ও নাবালক কন্যা সন্তানের পক্ষে দেনমোহর এবং ভরণপোষণের দাবিতে ফ্যামিলি কোর্টে (পারিবারিক আদালত) মামলা দায়ের করেন। স্বামী দাবি করেন যে তিনি আগেই স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন।

ফ্যামিলি কোর্টে স্বামী আইন অনুযায়ী সেই তালাক প্রমাণ করতে ব্যর্থ হন। ফলে আদালত স্ত্রী ও সন্তানের পক্ষে দেনমোহর এবং ভরণপোষণের ডিক্রি প্রদান করেন।
ডিক্রি জারির পর স্বামী নতুন একটি ঘোষণামূলক মামলা দায়ের করে দাবি করেন যে তালাক কার্যকর হয়েছে এবং এর অজুহাতে পূর্বের ভরণপোষণের রায় স্থগিতের আবেদন করেন। নিম্ন আদালত এই আবেদন খারিজ করলে বিষয়টি হাইকোর্টে আসে।

হাইকোর্ট শুনানি শেষে স্বামীর করা রুল খারিজ করে নিম্ন আদালতের আদেশ বহাল রাখেন এবং রায় বাস্তবায়নে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দেন:

১. শুধুমাত্র একটি নতুন মামলা দায়ের করা হয়েছে—এই অজুহাতে পূর্বে প্রদত্ত চূড়ান্ত রায়ের বাস্তবায়ন বন্ধ করা যাবে না। কোনো উচ্চতর সক্ষম আদালত ডিক্রি স্থগিত না করা পর্যন্ত তা কার্যকর থাকবে এবং এক্সিকিউশন কোর্ট (জারী আদালত) তা বাস্তবায়ন করতে বাধ্য।
২.যে তালাক আইন অনুযায়ী প্রমাণিত বা কার্যকর নয়, তার কোনো আইনি কার্যকারিতা নেই। এমন তালাক বৈবাহিক সম্পর্কের অবসান ঘটায় না এবং ভরণপোষণ বা দেনমোহর দেওয়ার পথে বাধাও হতে পারে না।
৩.বিবাহ, তালাক, দেনমোহর, ভরণপোষণ এবং বৈবাহিক অধিকার সম্পর্কিত বিরোধ নিষ্পত্তির একমাত্র এখতিয়ার ফ্যামিলি কোর্টের। এক্সিকিউশন কোর্ট নতুন করে তালাক বৈধ কি না, তা বিচার করতে পারে না।

“যদি স্বামী সত্যিই বৈবাহিক সম্পর্কের অবসান ঘটাতে চান, তবে আইন অনুযায়ী নতুন করে তালাক দেওয়ার সুযোগ তাঁর রয়েছে। তবে সেই সম্ভাবনা পূর্বে প্রদত্ত ডিক্রির অধীনে সৃষ্ট দেনমোহর ও ভরণপোষণের দায় থেকে তাঁকে মুক্তি দেয় না।”
— হাইকোর্ট

হাইকোর্ট স্বামীকে দেনমোহরের বকেয়া এবং স্ত্রী ও নাবালক সন্তানের সকল বকেয়া ভরণপোষণ অবিলম্বে পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতে স্বামীর পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. শহিদুল ইসলাম। স্ত্রীর পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ইশরাত হাসান, যাঁকে সহযোগিতা করেন আইনজীবী তানজিলা রহমান ও ইফাত হাসান শাম্মি।

রায়ের পর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেন, `এই রায়টি পারিবারিক আইনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাইকোর্ট স্পষ্ট করেছেন যে, অপ্রমাণিত তালাকের অজুহাতে স্ত্রী বা সন্তানের ভরণপোষণ এড়ানো যাবে না। এটি নারী ও শিশুর অধিকার সুরক্ষা এবং আদালতের চূড়ান্ত রায়ের কার্যকারিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি বড় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।’

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

আইনজীবী তালিকাভুক্তিতে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৫ বছর নির্ধারণ

তালাকের অজুহাতে নাবালক সন্তানের ভরণপোষণ এড়ানো যাবে না: হাইকোর্ট

আপডেট সময় ০১:২১:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

আইন অনুযায়ী প্রমাণিত বা কার্যকর নয় এমন তালাকের অজুহাতে স্ত্রী ও নাবালক সন্তানের ভরণপোষণ কিংবা দেনমোহরের ডিক্রি (রায়) বাস্তবায়ন বন্ধ করা যাবে না বলে যুগান্তকারী রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত স্পষ্ট করে বলেছেন, নাবালক সন্তানের ভরণপোষণ কোনোভাবেই মা-বাবার তালাক সংক্রান্ত বিরোধের ওপর নির্ভরশীল নয়; এটি শিশুর একটি স্বাধীন ও স্বতন্ত্র আইনগত অধিকার। সম্প্রতি বিচারপতি আবদুর রহমানের একক বেঞ্চ থেকে দেওয়া এই রায়ের অনুলিপি আজ বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) প্রকাশ পায়।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০১১ সালে এই দম্পতির বিবাহ হয়। পরবর্তীতে স্ত্রী তাঁর নিজের ও নাবালক কন্যা সন্তানের পক্ষে দেনমোহর এবং ভরণপোষণের দাবিতে ফ্যামিলি কোর্টে (পারিবারিক আদালত) মামলা দায়ের করেন। স্বামী দাবি করেন যে তিনি আগেই স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন।

ফ্যামিলি কোর্টে স্বামী আইন অনুযায়ী সেই তালাক প্রমাণ করতে ব্যর্থ হন। ফলে আদালত স্ত্রী ও সন্তানের পক্ষে দেনমোহর এবং ভরণপোষণের ডিক্রি প্রদান করেন।
ডিক্রি জারির পর স্বামী নতুন একটি ঘোষণামূলক মামলা দায়ের করে দাবি করেন যে তালাক কার্যকর হয়েছে এবং এর অজুহাতে পূর্বের ভরণপোষণের রায় স্থগিতের আবেদন করেন। নিম্ন আদালত এই আবেদন খারিজ করলে বিষয়টি হাইকোর্টে আসে।

হাইকোর্ট শুনানি শেষে স্বামীর করা রুল খারিজ করে নিম্ন আদালতের আদেশ বহাল রাখেন এবং রায় বাস্তবায়নে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দেন:

১. শুধুমাত্র একটি নতুন মামলা দায়ের করা হয়েছে—এই অজুহাতে পূর্বে প্রদত্ত চূড়ান্ত রায়ের বাস্তবায়ন বন্ধ করা যাবে না। কোনো উচ্চতর সক্ষম আদালত ডিক্রি স্থগিত না করা পর্যন্ত তা কার্যকর থাকবে এবং এক্সিকিউশন কোর্ট (জারী আদালত) তা বাস্তবায়ন করতে বাধ্য।
২.যে তালাক আইন অনুযায়ী প্রমাণিত বা কার্যকর নয়, তার কোনো আইনি কার্যকারিতা নেই। এমন তালাক বৈবাহিক সম্পর্কের অবসান ঘটায় না এবং ভরণপোষণ বা দেনমোহর দেওয়ার পথে বাধাও হতে পারে না।
৩.বিবাহ, তালাক, দেনমোহর, ভরণপোষণ এবং বৈবাহিক অধিকার সম্পর্কিত বিরোধ নিষ্পত্তির একমাত্র এখতিয়ার ফ্যামিলি কোর্টের। এক্সিকিউশন কোর্ট নতুন করে তালাক বৈধ কি না, তা বিচার করতে পারে না।

“যদি স্বামী সত্যিই বৈবাহিক সম্পর্কের অবসান ঘটাতে চান, তবে আইন অনুযায়ী নতুন করে তালাক দেওয়ার সুযোগ তাঁর রয়েছে। তবে সেই সম্ভাবনা পূর্বে প্রদত্ত ডিক্রির অধীনে সৃষ্ট দেনমোহর ও ভরণপোষণের দায় থেকে তাঁকে মুক্তি দেয় না।”
— হাইকোর্ট

হাইকোর্ট স্বামীকে দেনমোহরের বকেয়া এবং স্ত্রী ও নাবালক সন্তানের সকল বকেয়া ভরণপোষণ অবিলম্বে পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতে স্বামীর পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. শহিদুল ইসলাম। স্ত্রীর পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ইশরাত হাসান, যাঁকে সহযোগিতা করেন আইনজীবী তানজিলা রহমান ও ইফাত হাসান শাম্মি।

রায়ের পর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেন, `এই রায়টি পারিবারিক আইনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাইকোর্ট স্পষ্ট করেছেন যে, অপ্রমাণিত তালাকের অজুহাতে স্ত্রী বা সন্তানের ভরণপোষণ এড়ানো যাবে না। এটি নারী ও শিশুর অধিকার সুরক্ষা এবং আদালতের চূড়ান্ত রায়ের কার্যকারিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি বড় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।’