ঢাকা ০৫:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo দুদক কমিশনার নিয়োগে ৫ সদস্যের বাছাই কমিটি গঠন Logo বাংলাদেশ–মালয়েশিয়া দ্বিপক্ষীয় বৈঠক: তিন গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই Logo এলএলবিসহ ৪ পেশাদার বিষয়ে ভর্তি নিচ্ছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় Logo ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বদিউজ্জামান তপাদারের পদত্যাগ Logo আইন লঙ্ঘন করলেই ব্যাংকের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি: গভর্নর Logo “আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ইলিয়াস আলী গুমের রোমহর্ষক বর্ণনা” Logo নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন: ব্যাখ্যা, প্রয়োগ ও কার্যকারিতা Logo সোমবারই পদত্যাগ করতে পারেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার Logo যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগে আবারও হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা ইরানের Logo প্রাচীন প্রথা থেকে আধুনিক সংবিধান: বাংলাদেশের আইনের বিবর্তন কাহিনী
তীব্র গুঞ্জন

সোমবারই পদত্যাগ করতে পারেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার

যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে বড় ধরনের পটপরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। তীব্র দলীয় চাপ ও রাজনৈতিক সংকটের মুখে দেশটির প্রধানমন্ত্রী ও লেবার পার্টির নেতা স্যার কিয়ার স্টারমার আগামী সোমবার (২২ জুন) পদত্যাগের ঘোষণা দিতে পারেন বলে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে। ক্ষমতা ছাড়ার ক্ষেত্রে তিনি একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি (টাইমটেবিল) ঘোষণা করতে পারেন বলেও ব্রিটিশ গণমাধ্যমগুলোতে খবর বেরিয়েছে।

যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য অবজারভার-এর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে মন্ত্রিসভার সদস্য, দলীয় শীর্ষ নেতা, দাতা এবং ট্রেড ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনার পর স্টারমার বুঝতে পেরেছেন যে তার পক্ষে আর দলীয় ও রাষ্ট্রীয় নেতৃত্ব ধরে রাখা সম্ভব নয়।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কিয়ার স্টারমার এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দিলেও, চলতি উইকএন্ডে (সাপ্তাহিক ছুটি) তার সরকারি গ্রামীণ বাসভবন ‘চ্যাকার্স’-এ স্ত্রী ভিক্টোরিয়ার সঙ্গে এ বিষয়ে চূড়ান্ত আলোচনা করছেন। লেবার পার্টির একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা ইঙ্গিত দিয়েছেন, সোমবারের মধ্যেই তিনি নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি স্পষ্ট ও চূড়ান্ত বিবৃতি দিতে পারেন।

অবশ্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের একটি সূত্র এখনও এই খবরগুলোকে ‘জল্পনা-কল্পনা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তাদের দাবি, স্টারমার এখনও দেশ পরিচালনার কাজেই মনোনিবেশ করে আছেন। এর আগে গত শুক্রবারও স্টারমার জোর দিয়ে বলেছিলেন যে, তিনি যেকোনো নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করবেন এবং দলকে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে না জড়ানোর আহ্বান জানান।

অ্যান্ডি বার্নহ্যামের জয় ও স্টারমারের ওপর চাপ
২০২৪ সালে লেবার পার্টিকে বিশাল জয় এনে দিলেও, সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক স্ক্যান্ডাল, নীতিগত অবস্থান পরিবর্তন এবং স্থানীয় নির্বাচনে ভরাডুবির কারণে স্টারমারের জনপ্রিয়তা তলানিতে ঠেকেছে।

বিশেষ করে গত শুক্রবার (১৯ জুন) মেকারফিল্ড উপ-নির্বাচনে স্টারমারের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী তথা গ্রেটার ম্যানচেস্টারের বিদায়ী মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বিপুল ভোটে এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর স্টারমারের ওপর চাপ বহুগুণ বেড়ে গেছে। এই জয়ের ফলে বার্নহ্যামের জন্য সরাসরি লেবার পার্টির শীর্ষ নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করার আইনি পথ উন্মুক্ত হলো।

বার্নহ্যামের সমর্থকদের দাবি: ৪০০-এর বেশি আসনের লেবার পার্টির মধ্যে ইতিমধ্যেই ২০১ জনেরও বেশি আইনপ্রণেতা (এমপি) বার্নহ্যামের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। ফলে হাউস অব কমন্সে স্টারমারের নিজের অবস্থান চরমভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে।

নতুন নেতৃত্বের দাবি শ্রমিক সংগঠনের
লেবার পার্টির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি ও প্রভাবশালী শ্রমিক সংগঠন ‘ইউনাইটেড’-এর প্রধান শ্যারন গ্রাহাম সাফ জানিয়েছেন, কিয়ার স্টারমারের এখন সরে দাঁড়ানো উচিত এবং দলের স্বার্থেই একটি সুশৃঙ্খল ও নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করা প্রয়োজন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্টারমার যদি শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করেন বা অনাস্থা ভোটের মুখে পড়েন, তবে গত এক দশকের মধ্যে যুক্তরাজ্য তার সপ্তম প্রধানমন্ত্রী দেখতে যাচ্ছে। ব্রেক্সিট গণভোটের পর থেকেই ব্রিটিশ রাজনীতিতে যে ধারাবাহিক অস্থিতিশীলতা চলছে, এই সংকট তারই নতুন অধ্যায়। আগামী কয়েক দিন যুক্তরাজ্যের রাজনীতির জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

দুদক কমিশনার নিয়োগে ৫ সদস্যের বাছাই কমিটি গঠন

তীব্র গুঞ্জন

সোমবারই পদত্যাগ করতে পারেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার

আপডেট সময় ১১:৪৩:১৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে বড় ধরনের পটপরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। তীব্র দলীয় চাপ ও রাজনৈতিক সংকটের মুখে দেশটির প্রধানমন্ত্রী ও লেবার পার্টির নেতা স্যার কিয়ার স্টারমার আগামী সোমবার (২২ জুন) পদত্যাগের ঘোষণা দিতে পারেন বলে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে। ক্ষমতা ছাড়ার ক্ষেত্রে তিনি একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি (টাইমটেবিল) ঘোষণা করতে পারেন বলেও ব্রিটিশ গণমাধ্যমগুলোতে খবর বেরিয়েছে।

যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য অবজারভার-এর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে মন্ত্রিসভার সদস্য, দলীয় শীর্ষ নেতা, দাতা এবং ট্রেড ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনার পর স্টারমার বুঝতে পেরেছেন যে তার পক্ষে আর দলীয় ও রাষ্ট্রীয় নেতৃত্ব ধরে রাখা সম্ভব নয়।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কিয়ার স্টারমার এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দিলেও, চলতি উইকএন্ডে (সাপ্তাহিক ছুটি) তার সরকারি গ্রামীণ বাসভবন ‘চ্যাকার্স’-এ স্ত্রী ভিক্টোরিয়ার সঙ্গে এ বিষয়ে চূড়ান্ত আলোচনা করছেন। লেবার পার্টির একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা ইঙ্গিত দিয়েছেন, সোমবারের মধ্যেই তিনি নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি স্পষ্ট ও চূড়ান্ত বিবৃতি দিতে পারেন।

অবশ্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের একটি সূত্র এখনও এই খবরগুলোকে ‘জল্পনা-কল্পনা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তাদের দাবি, স্টারমার এখনও দেশ পরিচালনার কাজেই মনোনিবেশ করে আছেন। এর আগে গত শুক্রবারও স্টারমার জোর দিয়ে বলেছিলেন যে, তিনি যেকোনো নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করবেন এবং দলকে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে না জড়ানোর আহ্বান জানান।

অ্যান্ডি বার্নহ্যামের জয় ও স্টারমারের ওপর চাপ
২০২৪ সালে লেবার পার্টিকে বিশাল জয় এনে দিলেও, সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক স্ক্যান্ডাল, নীতিগত অবস্থান পরিবর্তন এবং স্থানীয় নির্বাচনে ভরাডুবির কারণে স্টারমারের জনপ্রিয়তা তলানিতে ঠেকেছে।

বিশেষ করে গত শুক্রবার (১৯ জুন) মেকারফিল্ড উপ-নির্বাচনে স্টারমারের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী তথা গ্রেটার ম্যানচেস্টারের বিদায়ী মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বিপুল ভোটে এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর স্টারমারের ওপর চাপ বহুগুণ বেড়ে গেছে। এই জয়ের ফলে বার্নহ্যামের জন্য সরাসরি লেবার পার্টির শীর্ষ নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করার আইনি পথ উন্মুক্ত হলো।

বার্নহ্যামের সমর্থকদের দাবি: ৪০০-এর বেশি আসনের লেবার পার্টির মধ্যে ইতিমধ্যেই ২০১ জনেরও বেশি আইনপ্রণেতা (এমপি) বার্নহ্যামের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। ফলে হাউস অব কমন্সে স্টারমারের নিজের অবস্থান চরমভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে।

নতুন নেতৃত্বের দাবি শ্রমিক সংগঠনের
লেবার পার্টির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি ও প্রভাবশালী শ্রমিক সংগঠন ‘ইউনাইটেড’-এর প্রধান শ্যারন গ্রাহাম সাফ জানিয়েছেন, কিয়ার স্টারমারের এখন সরে দাঁড়ানো উচিত এবং দলের স্বার্থেই একটি সুশৃঙ্খল ও নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করা প্রয়োজন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্টারমার যদি শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করেন বা অনাস্থা ভোটের মুখে পড়েন, তবে গত এক দশকের মধ্যে যুক্তরাজ্য তার সপ্তম প্রধানমন্ত্রী দেখতে যাচ্ছে। ব্রেক্সিট গণভোটের পর থেকেই ব্রিটিশ রাজনীতিতে যে ধারাবাহিক অস্থিতিশীলতা চলছে, এই সংকট তারই নতুন অধ্যায়। আগামী কয়েক দিন যুক্তরাজ্যের রাজনীতির জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।