ঢাকা ০৫:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo দুদক কমিশনার নিয়োগে ৫ সদস্যের বাছাই কমিটি গঠন Logo বাংলাদেশ–মালয়েশিয়া দ্বিপক্ষীয় বৈঠক: তিন গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই Logo এলএলবিসহ ৪ পেশাদার বিষয়ে ভর্তি নিচ্ছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় Logo ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বদিউজ্জামান তপাদারের পদত্যাগ Logo আইন লঙ্ঘন করলেই ব্যাংকের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি: গভর্নর Logo “আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ইলিয়াস আলী গুমের রোমহর্ষক বর্ণনা” Logo নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন: ব্যাখ্যা, প্রয়োগ ও কার্যকারিতা Logo সোমবারই পদত্যাগ করতে পারেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার Logo যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগে আবারও হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা ইরানের Logo প্রাচীন প্রথা থেকে আধুনিক সংবিধান: বাংলাদেশের আইনের বিবর্তন কাহিনী

বিচার ব্যবস্থার ওপর সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ নেই: অ্যাটর্নি জেনারেল

বর্তমান সরকার বিচার ব্যবস্থার ওপর কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করতে চায় না এবং বর্তমানে বিচার বিভাগের ওপর কোনো রাজনৈতিক চাপ বা বলপ্রয়োগ নেই বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কদ্দুছ কাজল। বিচার ব্যবস্থা সম্পূর্ণ স্বাধীন থাকবে—এটিই সরকারের মূল প্রত্যাশা বলে উল্লেখ করেন তিনি।

শনিবার (২০ জুন) সুপ্রিম কোর্ট রিপোর্টার্স ফোরামের (এসআরএফ) বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিচারক সংকট ও মিডিয়া ট্রায়াল প্রসঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, দেশে তীব্র বিচারক সংকট থাকার কারণে প্রচলিত ব্যবস্থায় সব মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলাসহ স্পর্শকাতর মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তিতে সরকার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে।

ডিজিটাল যুগে ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ বা গণমাধ্যমের মাধ্যমে বিচারের প্রবণতা পরিহার করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মিডিয়ার মাধ্যমে বিচার না করে, আদালতের আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই যেন প্রকৃত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ ও নজরদারী রাখতে হবে।’

তিনি আরও জানান, পেশাগত মর্যাদা ও আইনজীবীদের আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে টিকটক বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপত্তিকর ভিডিও তৈরি করা আইনজীবীদের বিরুদ্ধে বার কাউন্সিল থেকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম বলেন, ট্রাইব্যুনালে দাখিল হওয়া কোনো অভিযোগ যেন প্রতিহিংসামূলক বা ভুয়া না হয়, সে বিষয়ে প্রসিকিউশন কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

তিনি বলেন, “আমরা তাড়াহুড়ো করে নয়, বরং শতভাগ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে চাই।” তবে ট্রাইব্যুনালে মামলার সংখ্যা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় আগামীতে দুটি ট্রাইব্যুনালের বিচার কার্যক্রমে বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, “রামিসা হত্যা মামলার দ্রুত বিচারের মাধ্যমে সরকার তার সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে। যদি এই মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তি হতে পারে, তবে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলো কেন দ্রুত শেষ করা যাবে না?”

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ও দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে বিশেষ এডহক বিচারক নিয়োগের জন্য সরকারের প্রতি পরামর্শ দেন এই জ্যেষ্ঠ আইনজীবী।

সভায় সুপ্রিম কোর্ট রিপোর্টার্স ফোরামের (এসআরএফ) কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যসহ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

দুদক কমিশনার নিয়োগে ৫ সদস্যের বাছাই কমিটি গঠন

বিচার ব্যবস্থার ওপর সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ নেই: অ্যাটর্নি জেনারেল

আপডেট সময় ০৩:২৫:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

বর্তমান সরকার বিচার ব্যবস্থার ওপর কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করতে চায় না এবং বর্তমানে বিচার বিভাগের ওপর কোনো রাজনৈতিক চাপ বা বলপ্রয়োগ নেই বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কদ্দুছ কাজল। বিচার ব্যবস্থা সম্পূর্ণ স্বাধীন থাকবে—এটিই সরকারের মূল প্রত্যাশা বলে উল্লেখ করেন তিনি।

শনিবার (২০ জুন) সুপ্রিম কোর্ট রিপোর্টার্স ফোরামের (এসআরএফ) বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিচারক সংকট ও মিডিয়া ট্রায়াল প্রসঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, দেশে তীব্র বিচারক সংকট থাকার কারণে প্রচলিত ব্যবস্থায় সব মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলাসহ স্পর্শকাতর মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তিতে সরকার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে।

ডিজিটাল যুগে ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ বা গণমাধ্যমের মাধ্যমে বিচারের প্রবণতা পরিহার করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মিডিয়ার মাধ্যমে বিচার না করে, আদালতের আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই যেন প্রকৃত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ ও নজরদারী রাখতে হবে।’

তিনি আরও জানান, পেশাগত মর্যাদা ও আইনজীবীদের আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে টিকটক বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপত্তিকর ভিডিও তৈরি করা আইনজীবীদের বিরুদ্ধে বার কাউন্সিল থেকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম বলেন, ট্রাইব্যুনালে দাখিল হওয়া কোনো অভিযোগ যেন প্রতিহিংসামূলক বা ভুয়া না হয়, সে বিষয়ে প্রসিকিউশন কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

তিনি বলেন, “আমরা তাড়াহুড়ো করে নয়, বরং শতভাগ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে চাই।” তবে ট্রাইব্যুনালে মামলার সংখ্যা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় আগামীতে দুটি ট্রাইব্যুনালের বিচার কার্যক্রমে বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, “রামিসা হত্যা মামলার দ্রুত বিচারের মাধ্যমে সরকার তার সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে। যদি এই মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তি হতে পারে, তবে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলো কেন দ্রুত শেষ করা যাবে না?”

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ও দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে বিশেষ এডহক বিচারক নিয়োগের জন্য সরকারের প্রতি পরামর্শ দেন এই জ্যেষ্ঠ আইনজীবী।

সভায় সুপ্রিম কোর্ট রিপোর্টার্স ফোরামের (এসআরএফ) কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যসহ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।