ঢাকা ০৫:২৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo লালবাগ কেল্লা: ছুটির দিনে হারিয়ে যান মুঘল ইতিহাসের অসমাপ্ত দুর্গে Logo দুর্নীতিমুক্ত আদালত গঠনে প্রধান বিচারপতিকে এক মাসের আল্টিমেটাম Logo ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধের নির্দেশ হাইকোর্টের Logo রিট খারিজ, ছবি ছাড়া করা যাবে না জাতীয় পরিচয়পত্র Logo যুদ্ধাপরাধে মৃত্যুদণ্ড: আবুল কালাম আযাদের আপিল শুনানি ৪ সপ্তাহ মুলতবি Logo ব্যবসায়ীদের মতামত নিয়েই কোম্পানি আইন সংশোধন: বাণিজ্যমন্ত্রী Logo বাংলাভাষী মুসলিম নারীকে বাংলাদেশে পুশব্যাক:আসাম সরকারকে ২ লাখ রুপি জরিমানা Logo পাস হলো মানবাধিকার কমিশন ও গুম প্রতিকার বিল Logo সন্তানকে দানের পরও সম্পত্তিতে বাবা-মায়ের ভোগাধিকার, আইন পাস Logo বিজেএস পরীক্ষার প্রস্তুতি: সফলতার পূর্ণাঙ্গ ও ব্যবহারিক নির্দেশিকা

বিচার ব্যবস্থার ওপর সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ নেই: অ্যাটর্নি জেনারেল

বর্তমান সরকার বিচার ব্যবস্থার ওপর কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করতে চায় না এবং বর্তমানে বিচার বিভাগের ওপর কোনো রাজনৈতিক চাপ বা বলপ্রয়োগ নেই বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কদ্দুছ কাজল। বিচার ব্যবস্থা সম্পূর্ণ স্বাধীন থাকবে—এটিই সরকারের মূল প্রত্যাশা বলে উল্লেখ করেন তিনি।

শনিবার (২০ জুন) সুপ্রিম কোর্ট রিপোর্টার্স ফোরামের (এসআরএফ) বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিচারক সংকট ও মিডিয়া ট্রায়াল প্রসঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, দেশে তীব্র বিচারক সংকট থাকার কারণে প্রচলিত ব্যবস্থায় সব মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলাসহ স্পর্শকাতর মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তিতে সরকার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে।

ডিজিটাল যুগে ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ বা গণমাধ্যমের মাধ্যমে বিচারের প্রবণতা পরিহার করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মিডিয়ার মাধ্যমে বিচার না করে, আদালতের আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই যেন প্রকৃত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ ও নজরদারী রাখতে হবে।’

তিনি আরও জানান, পেশাগত মর্যাদা ও আইনজীবীদের আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে টিকটক বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপত্তিকর ভিডিও তৈরি করা আইনজীবীদের বিরুদ্ধে বার কাউন্সিল থেকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম বলেন, ট্রাইব্যুনালে দাখিল হওয়া কোনো অভিযোগ যেন প্রতিহিংসামূলক বা ভুয়া না হয়, সে বিষয়ে প্রসিকিউশন কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

তিনি বলেন, “আমরা তাড়াহুড়ো করে নয়, বরং শতভাগ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে চাই।” তবে ট্রাইব্যুনালে মামলার সংখ্যা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় আগামীতে দুটি ট্রাইব্যুনালের বিচার কার্যক্রমে বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, “রামিসা হত্যা মামলার দ্রুত বিচারের মাধ্যমে সরকার তার সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে। যদি এই মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তি হতে পারে, তবে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলো কেন দ্রুত শেষ করা যাবে না?”

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ও দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে বিশেষ এডহক বিচারক নিয়োগের জন্য সরকারের প্রতি পরামর্শ দেন এই জ্যেষ্ঠ আইনজীবী।

সভায় সুপ্রিম কোর্ট রিপোর্টার্স ফোরামের (এসআরএফ) কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যসহ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

লালবাগ কেল্লা: ছুটির দিনে হারিয়ে যান মুঘল ইতিহাসের অসমাপ্ত দুর্গে

বিচার ব্যবস্থার ওপর সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ নেই: অ্যাটর্নি জেনারেল

আপডেট সময় ০৩:২৫:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

বর্তমান সরকার বিচার ব্যবস্থার ওপর কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করতে চায় না এবং বর্তমানে বিচার বিভাগের ওপর কোনো রাজনৈতিক চাপ বা বলপ্রয়োগ নেই বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কদ্দুছ কাজল। বিচার ব্যবস্থা সম্পূর্ণ স্বাধীন থাকবে—এটিই সরকারের মূল প্রত্যাশা বলে উল্লেখ করেন তিনি।

শনিবার (২০ জুন) সুপ্রিম কোর্ট রিপোর্টার্স ফোরামের (এসআরএফ) বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিচারক সংকট ও মিডিয়া ট্রায়াল প্রসঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, দেশে তীব্র বিচারক সংকট থাকার কারণে প্রচলিত ব্যবস্থায় সব মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলাসহ স্পর্শকাতর মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তিতে সরকার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে।

ডিজিটাল যুগে ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ বা গণমাধ্যমের মাধ্যমে বিচারের প্রবণতা পরিহার করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মিডিয়ার মাধ্যমে বিচার না করে, আদালতের আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই যেন প্রকৃত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ ও নজরদারী রাখতে হবে।’

তিনি আরও জানান, পেশাগত মর্যাদা ও আইনজীবীদের আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে টিকটক বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপত্তিকর ভিডিও তৈরি করা আইনজীবীদের বিরুদ্ধে বার কাউন্সিল থেকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম বলেন, ট্রাইব্যুনালে দাখিল হওয়া কোনো অভিযোগ যেন প্রতিহিংসামূলক বা ভুয়া না হয়, সে বিষয়ে প্রসিকিউশন কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

তিনি বলেন, “আমরা তাড়াহুড়ো করে নয়, বরং শতভাগ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে চাই।” তবে ট্রাইব্যুনালে মামলার সংখ্যা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় আগামীতে দুটি ট্রাইব্যুনালের বিচার কার্যক্রমে বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, “রামিসা হত্যা মামলার দ্রুত বিচারের মাধ্যমে সরকার তার সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে। যদি এই মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তি হতে পারে, তবে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলো কেন দ্রুত শেষ করা যাবে না?”

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ও দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে বিশেষ এডহক বিচারক নিয়োগের জন্য সরকারের প্রতি পরামর্শ দেন এই জ্যেষ্ঠ আইনজীবী।

সভায় সুপ্রিম কোর্ট রিপোর্টার্স ফোরামের (এসআরএফ) কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যসহ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।